• ঢাকা
  • সোমবার, ২৯ এপ্রিল, ২০২৪, ১৬ বৈশাখ ১৪৩১
প্রকাশিত: ফেব্রুয়ারি ১৩, ২০১৯, ০৮:৫৬ এএম

প্রেমে রাজি না হওয়ায় রাবিতে ছাত্রীর শ্লীলতাহানি ছাত্রলীগ কর্মীর

প্রেমে রাজি না হওয়ায় রাবিতে ছাত্রীর শ্লীলতাহানি ছাত্রলীগ কর্মীর


প্রেম প্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) ইতিহাস বিভাগের এক শিক্ষার্থীকে শ্লীলতাহানি করার অভিযোগ উঠেছে বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের এক কর্মীর বিরুদ্ধে। 

মঙ্গলবার (১২ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদুল্লাহ কলাভবনের সামনের চত্বরে এ ঘটনা ঘটে বলে জানান ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী।

অভিযুক্ত ছাত্রলীগ কর্মীর নাম মানিক। তিনি মতিহার হল ছাত্রলীগের সদস্য ও বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সভাপতি গোলাম কিবরিয়ার অনুসারী এবং ইতিহাস বিভাগের ২য় বর্ষের শিক্ষার্থী বলে জানা গেছে।  

ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীর অভিযোগ, বিশ্ববিদ্যালয়ে ক্লাস শুরু হওয়ার পর থেকেই বিভিন্নভাবে বিরক্ত করে আসছে ছাত্রলীগ কর্মী মানিক। এছাড়া ফোন নাম্বার সংগ্রহ করে প্রতিদিন বিভিন্ন সময়ে ফোন করতেন উনি। বিভাগের বড় ভাই হওয়ায় আমি কয়েকবার তার সাথে কথা বলেছি। এরপর যখন তিনি প্রেমের প্রস্তাব দেওয়া শুরু করেন তার পর থেকে উনার ফোন রিসিভ করা বন্ধ করে দেই। তবুও তিনি আমাকে বারবার ফোন করে বিরক্ত করতেন। 

হঠাৎ আজ মঙ্গলবার বিকেলে ফোন দিয়ে ক্লাস শেষ হওয়ার পর আমাকে দেখা করতে বলেন। ক্লাস শেষ হলে বিকেল ৫ টায় তিনি বিভাগের সামনে আমাকে দাঁড় করান এবং আমার সঙ্গে জরুরি কথা আছে বলে শহীদুল্লাহ কলাভবনের সামনের চত্বরে নিয়ে যান। সেখানে তিনি আমাকে পুনরায় প্রেম প্রস্তাবে রাজি হওয়ার জন্য জোর জবরদস্তি করতে থাকেন। আমি বারবার সেই প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করি। শেষ পর্যন্ত প্রস্তাবে রাজি করতে না পারায় তিনি আমার শরীরে হাত দেন।

ভুক্তভোগী ছাত্রী বলেন, আমি খুবই নিরাপত্তাহীনতায় রয়েছি। তিনি আমাকে বিভিন্নভাবে ভয় দেখিয়েছেন। হয়তো আমার আর এখানে পড়াশোনা করা হবে না। আমি পড়াশোনা বাদ দিয়ে বাড়ি চলে যাবো। এ বিষয়ে জানতে চাইলে ছাত্রলীগ কর্মী মানিকের ফোনে ফোন দেওয়া হলে (মোবাইল নং-০১৭৭০০০৯৪৩৮) তিনি রং নাম্বার বলে ফোন কেটে দেন।

ঘটনার বিষয়ে জানতে বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সভাপতি গোলাম কিবরিয়াকে ফোন দেওয়া হলে তিনি ফোন রিসিভ করেন নি।

ইতিহাস বিভাগের সভাপতি ড. মর্তুজা খালেদ বলেন, ঘটনাটি মাত্র জানলাম। কাল বিভাগে গিয়ে খোঁজ নিয়ে বিষয়টি দেখবো। 

জানতে চাইলে বিশ্ববিদ্যালয় প্রক্টর অধ্যাপক ড. লুৎফর রহমান বলেন, ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীকে অভিযোগ দেওয়ার জন্য বলেছি। অভিযোগের সত্যতা মিললে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

আরআই