• ঢাকা
  • শুক্রবার, ০৫ জুন, ২০২০, ২২ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭
প্রকাশিত: মে ১৫, ২০১৯, ০৮:১৪ এএম
সর্বশেষ আপডেট : মে ১৫, ২০১৯, ০৮:১৪ এএম

তারল্য সংকটে বেহাল দশা পুঁজিবাজারে

আলী ইব্রাহিম
তারল্য সংকটে বেহাল দশা পুঁজিবাজারে


বাংলাদেশ ব্যাংক, বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি) ও অর্থ মন্ত্রণালয় থেকে একের পর এক সুখবর। তবুও অব্যাহত দর পতনে পুঁজিবাজার। কিছুতেই বাজারের বেহাল দশা কাটছে না। শেষ পর্যন্ত প্রধানমন্ত্রীও পুঁজিবাজার নিয়ে কথা বলেছেন। কিন্তু আর্থিক খাতের তারল্য সঙ্কটের কারণে এই সমস্যার সমাধান হচ্ছে না বলে মনে করেন অর্থনীতিবিদরা।

বাজার সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বাজারের অব্যাহত দর পতনের মূল সমস্যা সমাধান না হওয়ায় ঘুরে দাঁড়াতে পারছে না বাজার। ফেব্রুয়ারি থেকে টানা দর পতনে বিনিয়োগকারীদের পোর্টফলিও মাইনাসে আছে। যাদের মার্জিন অ্যাকাউন্ট তাদের অবস্থা আরো খারাপ। তারা বলেন, বিনিয়োগের ৩০ থেকে ৩৫ শতাংশ লোকসানে থাকায় তারল্য সংকটে নতুন বিনিয়োগে যেতে পারছে না বিনিয়োগকারীরা।

বাজার বিশ্লেষণে দেখা যায়, ২৯ জানুয়ারি থেকে অব্যাহত পতনে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) সার্বিক মূল্যসূচক কমেছে ৭০৭ পয়েন্ট। ওদিন বাজারের সার্বিক মূল্য সূচক ছিল ৫ হাজার ৯২৪ পয়েন্ট। মঙ্গলবার দিন শেষে বাজারের মূল্যসূচক ৫২১৭ পয়েন্টে স্থিতি পয়েছে। টানা দরপতনে বাজার মূলধন কমেছে ৩৬ হাজার ৯৮৬ কোটি টাকা। গত ২৯ জানুয়ারি ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) বাজার মূলধন ছিল ৪ লাখ ২১ হাজার ৫৮১ কোটি ৮২ লাখ টাকা। মঙ্গলবার দিনশেষে ডিএসইর বাজার মূলধন ৩ লাখ ৮৪ হাজার ৫৯৫ কোটি ৮ লাখ টাকায় স্থিতি পেয়েছে।

অব্যাহত দর পতন প্রসঙ্গ অর্থনীতিবিদ ও পুঁজিবাজার বিশ্লেষক অধ্যাপক আবু আহমেদ বলেন, বাজারে চাহিদার তুলনায় জোগানের পরিমাণ অত্যধিক ছিল। যার কারণে বাজারে একটা বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হয়েছে, অনেক কোম্পানির শেয়ার অবমূল্যায়িত হয়েছে। কিন্তু সম্প্রতি সময়ের দর পতনে তা সকলের সামনে পরিস্কার হয়েছে। প্লেসমেন্ট হোল্ডার, আইপিও বিজয়ী বিনিয়োগকারী ও বড় বিনিয়োগকারীরা পুঁজিবাজার থেকে মুনাফার টাকা সরিয়ে অন্য খাতে পাঠেয়েছে। তা সেকেন্ডারি মার্কেটে আসেনি। ফলে তারল্য সংকট বেড়েছে। তারল্য সংকটের পাশাপাশি বিনিয়োগকারীদের মধ্যে আস্থা সংকট রয়েছে বলে জানান এই অর্থনীতিবিদ।

জানা যায়, গত ২ মে পুঁজিবাজারে ক্ষতিগ্রস্ত ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীদের স্বার্থ রক্ষার্থে প্রণোদনা স্কিমের আওতায় আদায়কৃত (সুদ ও আসল) ৮৫৬ কোটি টাকা পুণঃব্যবহারের সম্মতি দিয়েছে অর্থমন্ত্রণালয়ের অর্থ বিভাগ। অর্থাৎ এ টাকা পুঁজিবাজারে আবার বিনিয়োগের সুযোগ পাবে বিনিয়োগকারীরা। যে টাকা বর্তমানে বাংলাদেশ ব্যাংকের সংশ্লিষ্ট হিসাবে জমা রয়েছে।

এছাড়া গত ৯ মে পুঁজিবাজারের চলমান তারল্য সংকট কাটিয়ে তুলতে ব্যাংকের বিনিয়োগসীমাসহ অন্যান্য সমস্যা সমাধানের আশ্বাস দিয়েছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ফজলে কবীর। যা পরবর্তী এক সপ্তাহের মধ্যে সমাধান করা হবে বলেও জানিয়েছেন তিনি। কিন্তু চলতি সপ্তাহের তিন কার্যদিবস অতিবাহিত এখনো এর সমাধান আসে নি।

বিএসইসি সূত্রে জানা গেছে, বাজারের দুর্বলতা কাটিয়ে উঠতে সাময়িক সময়ের জন্য প্রাথমিক গণপ্রস্তাব (আইপিও) বন্ধের ঘোষণা দিয়েছে বিএসইসি। পাশাপাশি প্লেসমেন্ট হোল্ডারদের নিয়ন্ত্রণে নতুন আইপিওর লক-ইনের মেয়াদ ট্রেডিং ডেট থেকে গণনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সংস্থাটি। এছাড়া নিয়ন্ত্রক সংস্থার পক্ষ থেকে পুঁজিবাজারের তালিকাভুক্ত কোম্পানিগুলোর উদ্যোক্তা/পরিচালকদের একক ভাবে ২ শতাংশ ও সামগ্রিক ভাবে ৩০ শতাংশ শেয়ার ধারনের যে বাধ্যবাধকতা প্রদান করা হয়েছিল, তা বাস্তবায়নে যেসব বিধিমালা ও নোটিফিকেশন পরিবর্তনের প্রয়োজন রয়েছে তার জন্য কমিটি গঠন করা হয়েছে।

বাজারের এই অবস্থার বিষয়ে জানতে চাইলে স্টার লিংক সিকিউরিটিজের বিনিয়োগকারী আলফাজ উদ্দিন বলেন, বাজারের ইতিবাচক উত্থান দেখে জানুয়ারিতে বিনিয়োগে আসি। কিন্তু টানা দর পতনে এখন ১৮ লাখ টাকা লোকসান গুনছি। পুনঃবিনিয়োগ করে লোকসান কমানোর সুযোগ থাকলেও অ্যাকাউন্টে ক্যাশ নাই।

এআই/আরআই