• ঢাকা
  • শুক্রবার, ০৪ ডিসেম্বর, ২০২০, ২০ অগ্রহায়ণ ১৪২৭
প্রকাশিত: অক্টোবর ২৭, ২০২০, ১১:১৮ এএম
সর্বশেষ আপডেট : অক্টোবর ২৭, ২০২০, ১১:১৮ এএম

আমন ক্ষেতে পোকার আক্রমণ, দিশেহারা কৃষক

ঠাকুরগাঁও সংবাদদাতা 
আমন ক্ষেতে পোকার আক্রমণ, দিশেহারা কৃষক
ছবি : জাগরণ

ঠাকুরগাঁওয়ে আমনের নতুন ফসল ঘরে তোলার আগেই ধানের ক্ষেতে বাদামী ঘাস ফড়িং ও কারেন্ট পোকার আক্রমণ বেড়ে গেছে। এতে করে এখন দিশেহারা অবস্থা স্থানীয় কৃষকদের।

চলতি মৌসুমে দেশের উত্তরের কৃষি নির্ভর এই জেলায় ১ লাখ ৩৬ হাজার ৭০০ হেক্টর জমিতে আমন ধানের চাষ করা হয়। এর মধ্যে দেশীয় উদ্ভাবিত স্বল্প জীবন কালের ধান বিনা-৭, ব্রি ধান ৩৩ ও বিভিন্ন প্রকার উচ্চ ফলনশীল হাইব্রিড ধানের চাষ হয়েছে মোট আবাদের শতকরা ১০ ভাগ ।অবশিষ্ট জমির ধান দেশীয় জাতের। 

এ বছর মৌসুম জুড়ে বৃষ্টিপাত থাকায় আমনের বাম্পার ফলন হওয়ার কথা।কিন্তু ঘনঘন বৃষ্টিপাতের কারণে স্যাঁতস্যাতে আবহাওয়ায় আমন ক্ষেতে ব্যাপক হারে বাদামী ঘাস ফড়িং বা কারেন্ট পোকার আক্রমণ দেখা দিয়েছে।এ অবস্থায় কৃষকরা পোকার হাত থেকে ফসল বাঁচাতে একাধিকবার বিভিন্ন কোম্পানির ওষুধ প্রয়োগ করে চলেছেন। বিঘাপ্রতি ২ হাজার টাকা ব্যয় হলেও তেমন কোন কাজে আসছে না বলে জানান চাষিরা।এ অবস্থায় অনেকে জমির ধান কেটে ফেলছেন।কিন্তু তাতে আশানুরুপ ফলন মিলছে না।এক বিঘা জমিতে স্বাভাবিকভাবে ২৫-৩০ মন ধান ফলনের কথা থাকলেও এবার পাওয়া যাচ্ছে সর্বোচ্চ  ১০ মন।এতে চাষিরা লোকসান গুনছেন।


ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার চতুরাখোর পাঠানপাড়া গ্রামের কৃষক হায়দার বলেন,আমি ১০ বিঘা জমিতে আমন ধান চাষ করেছি।কিন্তু কারেন্ট পোকার কারণে অসময়ে ধান কেটে ফেলতে হচ্ছে।এতে আশানুরুপ ধান পাচ্ছি না।অন্য বছর যেখানে পেতাম বিঘায় ৩০ মন।এবার পাচ্ছি মাত্র ১০ মন।

আখানগর গ্রামের আবুল হোসেন নামে একজন চাষি বলেন,আমি ৩ একর জমিতে ধান চাষ করেছি। প্রথমদিন দেখি এক বিঘা জমির একটি কোণায় কারেন্ট পোকা।পরদিন গিয়ে দেখি অর্ধেক জমিতে ছড়িয়ে ড়েছে।কারেন্ট পোকা ধান গাছের ডগা হতে রস শুষে নিয়ে গাছপালা খড়ে পরিণত করে ফেলে।

১২ নং সালন্দর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মাহবুব আলম মুকুল বলেন,কারেন্ট পোকার আক্রমনে তার ইউনিয়নের এমন কোন জমি নেই যে,যেখানে আক্রান্ত হয়নি।এ অবস্থায় এবার আমন ধান পাওয়ার লক্ষ্যমাত্রা চরমভাবে বিঘ্নিত হবে। 

এ প্রসঙ্গে কৃষি বিভাগের উপ-পরিচালক কৃষিবিদ আফতাব হোসেন বলেন,  বাদামী গাছ ফড়িং এবং কারেন্ট পোকা দমনে সার্বক্ষণিক মনিটরিং করছি। এ বিষয়ে কৃষকের সাথে উঠান বৈঠক করে বিভিন্ন পরামর্শ প্রদান করছি এবং এসব রোগ দূর করতে পরামর্শ সম্বলিত লিফলেট বিতরণ করা হচ্ছে।

জাগরণ/বিআই/এমআর