• ঢাকা
  • রবিবার, ০৫ মে, ২০২৪, ২২ বৈশাখ ১৪৩১
প্রকাশিত: জুন ৪, ২০২১, ০৩:৪৩ পিএম
সর্বশেষ আপডেট : জুন ৫, ২০২১, ১১:১৭ এএম

প্রস্তাবিত বাজেটে করোনা মোকাবেলায় যথেষ্ট বরাদ্দ নেই: সিপিডি

প্রস্তাবিত বাজেটে করোনা মোকাবেলায় যথেষ্ট বরাদ্দ নেই: সিপিডি

২০২১-২২ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে করোনা অতিমারি মোকাবেলায় যথেষ্ট বরাদ্দ নেই বলে জানিয়েছে বেসরকারি গবেষণা সংস্থা সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি)।

শুক্রবার (৪ জুন) রাজধানীর লেকশোর হোটেলে প্রস্তাবিত বাজেট পর্যালোচনায় আয়োজিত ব্রিফিংয়ে এই কথা বলেন সংস্থাটির নির্বাহী পরিচালক ফাহমিদা খাতুন।

ফাহমিদ খাতুন বলেন, “স্বাস্থ্য খাতে বিশ্বব্যাংক ও এশীয় ডেভেলপমেন্ট ব্যাংকের সহযোগিতায় দুটি প্রকল্প চলছে। এর বাইরে করোনা মোকাবেলায় প্রস্তাবিত বাজেটে কোনো প্রকল্প নেই।”

সিপিডির নির্বাহী পরিচালক বলেন, “প্রস্তাবিত বাজেটে স্বাস্থ্য, শিক্ষা ও সামাজিক নিরাপত্তা খাতে যে পরিমাণ বরাদ্দ দরকার ছিল, তা দেওয়া হয়নি। করোনার কারণে বিপর্যস্ত অর্থনীতি পুনরুদ্ধারেও স্পষ্ট দিকনির্দেশনা নেই। প্রস্তাবিত বাজেট সামগ্রিকভাবে দুর্বল ও অনুমিত, যা বাস্তবায়নের সীমাবদ্ধতা চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলবে।”

গবেষণা সংস্থাটির পরিচালক আরও বলেন, “প্রস্তাবিত বাজেটে রেমিট্যান্স প্রবাহ ১৫ শতাংশ লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। প্রতিনিয়ত আমাদের রেমিট্যান্স বাড়ছে। কিন্তু অভিবাসী কর্মীদের বাইরে যাওয়ার সংখ্যাটা কমে যাচ্ছে। সুতরাং সেই পরিপ্রেক্ষিতে আমরা কতদিন এই ঊর্ধ্বমুখী রেমিট্যান্স প্রবাহ ধরে রাখতে পারব সেটি একটি চিন্তার বিষয়।”

ড. ফাহমিদা খাতুন আরও বলেন, “সরকারি ব্যয়ের ক্ষেত্রে যে গতিময়তা আমরা আশা করেছিলাম, সেটি ছিল না। শিল্প উৎপাদন বিশেষ করে ছোট শিল্প উৎপাদনের ক্ষেত্রে প্রবৃদ্ধি তেমন একটা হচ্ছে না। খাদ্য মূল্যস্ফীতি কিছুটা বাড়ছে। বিদেশে কর্মীরা যাওয়ার ক্ষেত্রে একটা নিম্নমুখী প্রবণতা রয়েছে। যদি প্রতিনিয়ত প্রবাসী আয় বাড়ছে। এছাড়া ব্যক্তি খাতে বিনিয়োগের ক্ষেত্রে একটা অবনমন দেখছি। এই খাতে অনেক আগে থেকে চাঙা ভাবের অভাব রয়েছে।”

তবে কিছু ইতিবাচক দিকও রয়েছে বলে জানিয়েছেন ড. ফাহমিদা খাতুন। তিনি বলেন, “যদিও রাজস্ব আহরণ কম, তারপরও প্রস্তাবিত বাজেটে আমরা বিষয়টাকে ইতিবাচক দিক হিসেবেই দেখছি। পাশাপাশি বড় শিল্পগুলোর উৎপাদন বাড়ছে। এছাড়া রপ্তানি আয়ে কিছুটা ইতিবাচক প্রবণতা লক্ষ করা যাচ্ছে। এছাড়া বৈদেশিক মুদ্রা রিজার্ভেও আমরা ভালো অবস্থানে রয়েছি।”

সিপিডির নির্বাহী পরিচালক আরও বলেন, “প্রস্তাবিত বাজেটে বলা হয়েছে ব্যক্তি খাতের বিনিয়োগ জিডিপির ২৫ শতাংশ হবে। এখানে একটি প্রশ্ন থেকে যায়। ব্যক্তি খাতের বিনিয়োগ গত কয়েক বছর ধরে একটা স্থবিরতার মধ্যে ছিল। জিডিপির ২৩-২৪ শতাংশের ওপরে উঠতে পারছিল না। এখন করোনাকালীন পরিস্থিতিতে কীভাবে এই ব্যক্তি খাতের বিনিয়োগ বাড়বে, সেটি কিন্তু স্পষ্ট নয়।”

ড. ফাহমিদা খাতুন আরও বলেন, “গত অর্থবছরের বাজেটে করোনা মোকাবেলা ব্যবস্থা নিয়ে যতটা আলাপ-আলোচনা ছিল কিংবা চিন্তার স্বচ্ছতা ছিল, এ বছর প্রস্তাবিত বাজেটে করোনা ব্যবস্থাপনা নিয়ে চিন্তার স্বচ্ছতা বেড়েছে। কিন্তু সেই চিন্তার স্বচ্ছতার সঙ্গে বরাদ্দ কিংবা পদক্ষেপের কোনো মিল নেই। প্রস্তাবিত বাজেটকে জীবন-জীবিকার বাজেট বলা হলেও বরাদ্দের ক্ষেত্রে স্বাস্থ্য, কৃষি ও কর্মসংস্থানে কোনো পদক্ষেপ দেখছি না।”

এ সময় সিপিডির ফেলো ড. মোস্তাফিজুর রহমান, সিপিডির গবেষণা পরিচালক খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম, সিপিডির সিনিয়র রিসার্চ ফেলো তৌফিকুল ইসলাম খান প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।