• ঢাকা
  • রবিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর, ২০২১, ৩ আশ্বিন ১৪২৮
প্রকাশিত: আগস্ট ১, ২০২১, ০৫:১১ পিএম
সর্বশেষ আপডেট : আগস্ট ১, ২০২১, ১১:১১ এএম

দ্বিতীয় দফায় প্রণোদনার ঋণে নতুনদের অগ্রাধিকার

দ্বিতীয় দফায় প্রণোদনার ঋণে নতুনদের অগ্রাধিকার
ফাইল ফটো।

করোনা মহামারিতে বিপর্যস্ত অর্থনীতিকে পুনরুদ্ধারে সরকার ঘোষিত দ্বিতীয় দফায় প্রণোদনার ঋণ বিতরণ শুরু হয়েছে। এবার ঋণ দেয়ার ক্ষেত্রে নতুনদের অগ্রাধিকার দিতে নির্দেশনা দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক।
 
তবে প্রথম বছরে যেসব গ্রাহকের প্রাপ্ত ঋণের পুরোটা ছাড় করা সম্ভব হয়নি, সেসব গ্রাহকের প্রাপ্য ঋণের অবশিষ্ট অংশ জুলাই মাস থেকে বিতরণের নির্দেশ দেয়া হয়েছে। এক্ষেত্রে পুরোনো গ্রাহকদের অবশিষ্ট ঋণ বা বিনিয়োগ প্রদানের ক্ষেত্রে ২০১৯ সালের ৩১ ডিসেম্বর ভিত্তিক চলতি মূলধন বাবদ মঞ্জুরিকৃত বা প্রদত্ত সীমার ওপর ভিত্তি করে ঋণের প্রাপ্যতা নির্ধারিত হবে। বাংলাদেশ ব্যাংকের ব্যাংকিং প্রবিধি ও নীতি বিভাগ (বিআরপিডি) থেকে এ সংক্রান্ত সার্কুলার জারি করেছে। গত বৃহস্পতিবার (২৯ জুলাই) বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর প্রধান নির্বাহীদের এ সংক্রান্ত নির্দেশনা পাঠানো হয়। 

নির্দেশনায় বলা হয়, গত বছরের ১২ এপ্রিল ও ২৫ জুন জারি করা সার্কুলার অনুযায়ী ক্ষতিগ্রস্ত শিল্প ও সেবাখাতের প্রতিষ্ঠানের অনুকূলে ২০১৯ সালের ৩১ ডিসেম্বর স্থিতিভিত্তিক চলতি মূলধন (ওয়ার্কিং ক্যাপিটাল) বাবদ মঞ্জুরিকৃত বা প্রদত্ত সীমার সর্বোচ্চ ৩০ শতাংশ পর্যন্ত ঋণ বা বিনিয়োগ প্রাপ্যতা নির্ধারিত ছিল। এছাড়া নির্দেশনায় আরও বলা ছিল, ঋণ বা বিনিয়োগের প্রাপ্যতার সমপরিমাণ অর্থ কোনো গ্রাহকের অনুকূলে ১ বছরে প্রদান করা সম্ভব না হলে অবশিষ্ট প্রাপ্য অর্থ প্যাকেজের অবশিষ্ট মেয়াদের মধ্যে প্রদানের সুযোগ দেয়া ছিল।
  
এক্ষেত্রে আলোচিত প্রণোদনা প্যাকেজের যথাযথ বাস্তবায়নের স্বার্থে কেন্দ্রীয় ব্যাংক নতুন করে নির্দেশনা দিয়ে সার্কুলারে জানায়, যেসব প্রতিষ্ঠান আলোচিত প্রণোদনা প্যাকেজ থেকে ইতোমধ্যে প্রথম মেয়াদে অর্থাৎ ২০২১ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত সময়ে ঋণ বা বিনিয়োগের আংশিক সুবিধা পেয়েছে, সেসব প্রতিষ্ঠানের অনুকূলে ১ জুলাই ২০২১ থেকে তাদের প্রাপ্যতার অবশিষ্ট অংশ ঋণ বা বিনিয়োগ হিসেবে প্রাপ্য হবে। যেসব প্রতিষ্ঠান আলোচিত প্রণোদনা প্যাকেজ থেকে প্রথম মেয়াদে সুবিধা প্রাপ্ত হয়নি অর্থাৎ নতুন গ্রাহকদের অনুকূলে ২০২১-২২ অর্থবছর এবং এর পরবর্তীতে নতুনভাবে ঋণ বা বিনিয়োগ সুবিধা প্রদানের ক্ষেত্রে ৩১ ডিসেম্বর ২০২০ স্থিতিভিত্তিক চলতি মূলধন বাবদ মঞ্জুরিকৃত বা প্রদত্ত সীমার ভিত্তিতে প্রাপ্যতা নির্ধারিত হবে। 

এ নির্দেশনা সার্কুলার জারির সঙ্গে সঙ্গেই কার্যকর হবে বলে জানায় কেন্দ্রীয় ব্যাংক। ব্যাংক কোম্পানি আইন ১৯৯১ এর ৪৫ ধারায় প্রদত্ত ক্ষমতাবলে এ নির্দেশনা জারি করে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।  এর আগে ২৮ জুলাই শিল্প ও সেবা খাতে কম সুদের প্রণোদনার দ্বিতীয় দফার ঋণ বিতরণের নির্দেশনা দেয় বাংলাদেশ ব্যাংক। এতে বলা হয়, গত বছর যারা এই ঋণ পায়নি, এবার তাদের অগ্রাধিকার দেয়া হবে। করোনায় ক্ষতিগ্রস্ত বৃহৎ শিল্প ও সেবা খাতের চলতি মূলধন যোগান দেওয়ার জন্য চলতি ২০২১-২২ অর্থবছরে ৩৩ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ রেখেছে বাংলাদেশ ব্যাংক।
 এসব ঋণের সুদহার ৯ শতাংশ। এরমধ্যে সাড়ে ৪ শতাংশ দেবে গ্রাহক। বাকি সাড়ে ৪ শতাংশ সুদ ভর্তুকি দেবে সরকার। শিল্প ও সেবা খাতের যেসব প্রতিষ্ঠান (এসএমই ব্যতীত) করোনায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, শুধু সেসব প্রতিষ্ঠান এ প্যাকেজের আওতায় সুবিধা পাবে। 

এই প্যাকেজের আওতায় সীমাতিরিক্ত চাহিদার বিপরীতে ঋণদানের ক্ষেত্রে অপেক্ষাকৃত বেশি ক্ষতিগ্রস্ত প্রতিষ্ঠানকে অগ্রাধিকার দিতে বলা হয়েছে। এছাড়া ক্ষতিগ্রস্ত অধিকসংখ্যক প্রতিষ্ঠান যাতে এ প্যাকেজের আওতায় ঋণসুবিধা ভোগ করতে পারে, সে বিষয়কে গুরুত্ব দেওয়ার নির্দেশনা রয়েছে। প্যাকেজের আওতায় চলতি অর্থবছরের জন্য প্রদত্ত ঋণ স্বল্পসংখ্যক গ্রাহকের মধ্যে কেন্দ্রীভূত না করে ক্ষতিগ্রস্ত অধিকসংখ্যক প্রতিষ্ঠানকে এ সুবিধা দেয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে। এজন্য শিল্প ও সেবা খাতের ক্ষতিগ্রস্ত যেসব প্রতিষ্ঠান এখন পর্যন্ত সুবিধা পায়নি, তাদের অগ্রাধিকার দিতে বলেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। জানা গেছে, করোনার ক্ষতি মোকাবিলায় দ্বিতীয় দফায় প্রণোদনা ঋণ বিতরণ হবে ৫৩ হাজার কোটি টাকার। এ ঋণ বিতরণের জন্য বাংলাদেশ ব্যাংক সব ব্যাংকে চিঠি দিয়েছে। কোন ব্যাংক কত টাকা ঋণ দিতে পারবে, তাও নির্দিষ্ট করে দিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

এছাড়া কুটির, অতিক্ষুদ্র, ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প খাতের জন্য এবারও বরাদ্দ ২০ হাজার কোটি টাকা। এ ঋণের সুদহার ৯ শতাংশ। এর মধ্যে ৫ শতাংশ ভর্তুকি দেবে সরকার, বাকিটা গ্রাহক দেবে। করোনায় ক্ষতিগ্রস্ত অর্থনীতি স্বাভাবিক রাখতে গত বছরের এপ্রিলে কম সুদে প্রণোদনা ঋণ বিতরণ শুরু হয়। প্রথম দফার ঋণ বিতরণ এরই মধ্যে শেষ হয়েছে। এর আওতায় ব্যাংকগুলো ছোট ও বড় উদ্যোক্তাদের স্বল্প সুদে চলতি মূলধন হিসেবে প্রায় ৫০ হাজার কোটি টাকা ঋণ দিয়েছে। গত বছরের এপ্রিলে বৃহৎ সেবা ও শিল্প খাতের জন্য ৩০ হাজার কোটি টাকার একটি প্রণোদনা প্যাকেজ চালু করে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। 

এর মধ্যে ১৫ হাজার কোটি টাকার একটি পুনঅর্থায়ন তহবিল সুবিধা দেয়া কথা ছিল কেন্দ্রীয় ব্যাংকের। তবে একই সময়ে চালু হওয়া রফতানি খাতের ৫ হাজার কোটি টাকার প্যাকেজ দ্রুত শেষ হয়ে যাওয়ায় বৃহৎ শিল্প ও সেবা খাতের প্যাকেজ থেকে এ খাতে ঋণ দেওয়া হয়। এ কারণে বৃহৎ শিল্পের প্যাকেজের আকার প্রথমে ৩৩ হাজার কোটি টাকা এবং পরে তা বাড়িয়ে ৪০ হাজার কোটি টাকা করা হয়। সব মিলিয়ে গত বছর ২৮টি প্রণোদনা প্যাকেজের আওতায় ১ লাখ ৩৫ হাজার কোটি টাকার বেশি ঋণ দেয়ার উদ্যোগ নেয় সরকার। করোনায় ক্ষতিগ্রস্ত অর্থনীতিকে চাঙা করতে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়। এসব প্যাকেজের মধ্যে বেশিরভাগই ছিল ব্যাংকঋণ নির্ভর।

তবে সম্প্রতি প্রণোদনা প্যাকেজের ঋণ অন্য খাতে ব্যবহার হচ্ছে- এমন আশঙ্কার কথা জানিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। একই সঙ্গে এ বিষয়ে সতর্কতা জারি করা হয়। গত ২৫ জুলাই বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে সবগুলো ব্যাংকের প্রধান নির্বাহীদের চিঠি দিয়ে এ সতকর্তা জারি করা হয়। চিঠিতে প্রণোদনা ঋণ অনুৎপাদনশীল খাতে যাতে ব্যবহার না হয় সে বিষয়ে বিশেষভাবে দৃষ্টি দিতে বলা হয় ব্যাংকগুলোকে। সম্প্রতি অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামালও প্রণোদনার ঋণ পুঁজিবাজারে বিনিয়োগ হয়েছে কি না তা খতিয়ে দেখা হবে বলে জানিয়েছেন।  

 

জাগরণ/এসকেএইচ