• ঢাকা
  • শনিবার, ২৮ মে, ২০২২, ১৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৯
প্রকাশিত: জানুয়ারি ১৪, ২০২২, ১২:৩০ পিএম
সর্বশেষ আপডেট : জানুয়ারি ১৫, ২০২২, ০৪:১৭ পিএম

বোরো ফসল চাষাবাদে চলছে মহোৎসব

বোরো ফসল চাষাবাদে চলছে মহোৎসব
ছবি- জাগরণ।

মৌলভীবাজারে দিগন্তজোড়া হাওরের বুকে সবুজের চাষাবাদে সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত ব্যস্ত সময় পার করছেন কৃষকরা। জেলার হাকালুকি কাওয়াদীঘী, হাইল হাওর সহ অন্যান্য ছোট হাওর ও উপরিভাগে বোরো ফসল চাষাদের মহোৎসব চলছে।

হাওর ও নিচু এলাকার এলাকায় এখন পানি কম। এই সময়টাতে পানি কমায় কৃষক বীজতলা তৈরি করেন। এরপর বীজ ফেলেন, চারা বড় হয়। চারা বড় হওয়ার পর জমি আবাদ করে চারা রোপন করা হয়। এরপর সবুজ ধানক্ষেত সোনালী হয়ে কৃষকের স্বপ্ন দুলতে থাকে।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্যানুযায়ী, এ বছর জেলায় বোরো চাষের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৫৬ হাজার ৮০০ হেক্টর। এরমধ্যে হাওরে ২৭ হাজার ৮০০ হেক্টর।  উপরিঅংশে ২৯ হাজার হেক্টর। এ বছর চাল উৎপাদন ১ লক্ষ্যমাত্রা ৮৮ হাজার ৮৫৩ মেট্রিক টন চাল। এরমধ্যে স্থানীয় জাতের ৫৪০ মেট্রিক টন। হাইব্রিড ৪০ হাজার ১৬ মেট্রিক টন সহ মোট চালের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ২ লক্ষ ২৯ হাজার ৪শত মেট্রিক টন।

কাওয়াদীঘী ও হাইল হাওর ঘুরে দেখা যায় শীত উপেক্ষা করে বোরো ফসল ফলাতে বিভিন্ন কর্মজজ্ঞে ব্যস্ত হাওর পাড়ের কৃষক পরিবারগুলো। দীর্ঘদিন পর ধানের ন্যায্য মুল্য পাওয়ায় এ বছর বোরো চাষে বেশ আগ্রহ কৃষকদের।

আরও দেখা যায়, কেউ জমি প্রস্তুত করছেন, কেউ করছেন চারা রোপন। অনেকেই আবার ব্যস্ত সময় পার করছেন, জমিতে পানি সেচে, বীজ উঠানো, হালচাষে, সার প্রয়োগে। এমনই করে মহোৎসবে মেতেছেন কৃষকরা।

কাওয়াদীঘী হাওর পাড়ের কৃষক রেজাক মিয়া বলেন, 'আগের চেয়ে এখন ধানের দাম বেশি হওয়ায় আমরা আগ্রহ নিয়ে চাষ করছি। পৌষ মাসের শুরুতে রোপণ শুরু করেছিলাম এখন চলছে।'

অন্য কৃষক সুমন বিশ্বাস বলেন, 'এই বছর ২০ বিঘা জমিতে বোরো চাষাবাদ করবো। পানির কিছু সমস্যা রয়েছে। এছাড়া নিজেরা কাজ করি সাথে শ্রমিক নেই, শ্রমিক পাওয়া যায় না, পেলে অধিক টাকা দিতে হয়।'

সকালের শীত উপেক্ষা করে সন্ধ্যা অবধি বোরোর জমি প্রস্তুত ও চারা রোপণ কাজ করতে হয়। আবার জমিতে হাল চাষ ও কাঁধে করে গোবরও জমিতে দিতে হয়, জানান কৃষক পরিমল বিশ্বাস।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক কাজী লুৎফুল বারী জানান, এবছর বোরো ফসলের ভালো ফলন হবে। ধানের দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় কৃষকরা ধান চাষে আগের চেয়ে অনেক বেশি আগ্রহী হয়েছেন। আমরা সার্বক্ষনিক নজরদারি রাখছি, ফিল্ডে ঘুরছি তাদের সমস্যা শুনে পরামর্শ দিচ্ছি।