• ঢাকা
  • বৃহস্পতিবার, ১৪ নভেম্বর, ২০১৯, ৩০ কার্তিক ১৪২৬
প্রকাশিত: জুলাই ২১, ২০১৯, ০৭:৫২ পিএম
সর্বশেষ আপডেট : জুলাই ২১, ২০১৯, ০৭:৫৩ পিএম

কয়লা লোপাট মামলা

৭ এমডিসহ ২৩ জনের বিরুদ্ধে দুদকের অভিযোগপত্র

জাগরণ প্রতিবেদক
৭ এমডিসহ ২৩ জনের বিরুদ্ধে দুদকের অভিযোগপত্র

দিনাজপুরের বড়পুকুরিয়া কোল মাইনিং কোম্পানি লিমিটেড এর কয়লা খনি থেকে ২৪৩ কোটি ২৮ লাখ ৮২ হাজার টাকার কয়লা লোপাট মামলায় কোম্পানির সাবেক ৭ ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি)সহ ২৩ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।

রোববার (২১ জুলাই) দণ্ডবিধির ৪০৯/১০৯ এবং ১৯৪৭ সনের দুর্নীতি প্রতিরোধ আইনের ৫(২) ধারায় দুদকের সমন্বিত জেলা কার্যালয় দিনাজপুরে এই অভিযোগপত্র দাখিল করেন দুদক প্রধান কার্যালয়ের উপ-পরিচালক শামছুল আলম।

এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন দুদক উপ-পরিচালক প্রণব কুমার ভট্টাচার্য।

তিনি জানান, তদন্তে আসামিদের বিরুদ্ধে ২৪৩ কোটি ২৮ লাখ ৮২ হাজার ৫০১ টাকা মূল্যের এক লাখ ৪৩ হাজার ৭২৭ মেট্রিক টন কয়লা আত্মসাতের প্রমাণ মিলেছে। তদন্তে এজাহারভুক্ত ১৯ আসামির মধ্যে পাঁচজনের অভিযোগের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতা না পাওয়ায় অভিযোগপত্র থেকে তাদের বাদ দেয়া হয়েছে। ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার প্রমাণ পাওয়ায় মামলায় নতুন করে ৯ জনকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

চার্জশিটভুক্ত আসামিরা হলেন- বুড়পুকুরিয়া কোল মাইনিং কোম্পানি লিমিটেডের সাবেক এমডি মাহবুবুর রহমান, আবদুল আজিজ খান, প্রকৌশলী খুরশীদুল হাসান, প্রকৌশলী কামরুজ্জামান, মোহাম্মদ আমিনুজ্জামান, প্রকৌশলী এস এম নুরুল আওরঙ্গজেব ও প্রকৌশলী হাবিব উদ্দিন আহাম্মদ, সাবেক মহাব্যবস্থাপক শরিফুল আলম, আবুল কাসেম প্রধানীয়া, আবু তাহের মোহাম্মদ নুর-উজ-জামান চৌধুরী, ব্যবস্থাপক মাসুদুর রহমান হাওলাদার, আরিফুর রহমান ও সৈয়দ ইমান হাসান, উপ-ব্যবস্থাপক মুহাম্মদ খলিলুর রহমান, মোহাম্মদ মোর্শেদুজ্জামান, হাবিবুর রহমান, জাহেদুর রহমান, সহকারী ব্যবস্থাপক সত্যেন্দ্র নাথ বর্মন, মনিরুজ্জামান, কোল হ্যান্ডেলিং ম্যানেজমেন্টের ব্যবস্থাপক শোয়েবুর রহমান, উপ-মহাব্যবস্থাপক এ কে এম খালেদুল ইসলাম, ব্যবস্থাপক অশোক কুমার হালদার ও উপ-মহাব্যবস্থাপক জোবায়ের আলী।

মামলা থেকে অব্যাহতি পেয়েছেন বুড়পুকুরিয়া কোল মাইনিং কোম্পানি লিমিটেডের ব্যবস্থাপক (অ্যাক্সপ্লোরেশন) মোশারফ হোসেন সরকার, ব্যবস্থাপক (ডিজাইন, কনস্ট্রাকশন অ্যান্ড মেনটেনেন্স) জাহিদুল ইসলাম, উপ-ব্যবস্থাপক (সেইফটি ম্যানেজমেন্ট) একরামুল হক, সাবেক মহাব্যবস্থাপক (অর্থ ও হিসাব) আবদুল মান্নান পাটওয়ারী ও মহাব্যবস্থাপক (অর্থ ও হিসাব) গোপাল চন্দ্র সাহা।

২০০৬ সালের জানুয়ারি থেকে ২০১৮ সালের ১৯ জুলাই পর্যন্ত ১ লাখ ৪৩ হাজার ৭২৭ দশমিক ৯২ মেট্রেক টন কয়লা লোপাট হয়। যার আনুমানিক মূল্য ২৪৩ কোটি ২৮ লাখ ৮২ হাজার ৫০১ টাকা ৮৪ পয়সা। এ ঘটনায় বড়পুকুরিয়া কোল মাইনিং কোম্পানি লিমিটেডের ব্যবস্থাপক (প্রশাসন) আনিছুর রহমান বাদী হয়ে ১৯ জনের বিরুদ্ধে গত বছরের ২৪ জুলাই পার্বতীপুর থানায় মামলা করেন।

তফসিলভুক্ত হওয়ার পর দুদকের কাছে মামলাটির নথি হস্তান্তর করে পুলিশ।

গত বছরের জুনে বড়পুকুরিয়া খনির কয়লা চুরির ঘটনা কর্তৃপক্ষের প্রথম নজরে আসে- যখন বড়পুকুরিয়া তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র কর্তৃপক্ষ জ্বালানি মন্ত্রণালয়ের কাছে কয়লা সরবরাহে ঘাটতি নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করে। দেশের একমাত্র কয়লাভিত্তিক তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রে বড়পুকুরিয়ার খনি থেকেই কয়লা সরবরাহ করা হয়। একপর্যায়ে অভিযোগ ওঠে, এক লাখ ৪৩ হাজার টন কয়লা গায়েব হয়ে গেছে।

কয়লা লোপাট ঘটনায় মামলার তদন্ত শুরুর পর দুদকের চেয়ারম্যান ইকবাল মাহমুদ বলেছিলেন, দ্রুত তদন্ত শেষ করে এর প্রতিবেদন আদালতে দাখিল করবে দুদক।

কয়লা লোপাটের ঘটনা অনুসন্ধান তিন সদস্যের কমিটি গঠন করে দুদক। উপ-পরিচালক শামছুল আলমের নেতৃত্বে কমিটিতে ছিলেন সহকারী পরিচালক এ এস এম সাজ্জাদ হোসেন ও উপ-সহকারী পরিচালক এ এস এম তাজুল ইসলাম। অনুসন্ধান কাজের তদারকি করেন দুদক পরিচালক কাজী সফিকুল আলম।

এইচএস/এসএমএম

আরও পড়ুন