• ঢাকা
  • বৃহস্পতিবার, ০৯ এপ্রিল, ২০২০, ২৬ চৈত্র ১৪২৬
প্রকাশিত: ফেব্রুয়ারি ২০, ২০২০, ০২:৩৩ পিএম
সর্বশেষ আপডেট : ফেব্রুয়ারি ২০, ২০২০, ০২:৩৩ পিএম

বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর ইঙ্গিত প্রতিমন্ত্রীর

জাগরণ প্রতিবেদক
বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর ইঙ্গিত প্রতিমন্ত্রীর

‘উৎপাদন ক্ষমতা বছরে ১০ থেকে ১৫ শতাংশ বাড়লেও, বড় গ্রাহক, বিশেষ করে শিল্প কারখানার সংযোগ বৃদ্ধির হার ছিল স্থির’

.............

বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর আবারও ইঙ্গিত দিয়েছেন বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ। তিনি বলেছেন, ভর্তুকির অঙ্ক কমাতে দাম সমন্বয়ের কোনও বিকল্প নেই। এক বেসরকারি টেলিভিশনকে দেয়া সাক্ষাৎকারে এই ইঙ্গিত দিয়েছেন তিনি।

প্রতিমন্ত্রীর এই ঘোষণায় মহাদুশ্চিন্তায় পড়ে গেছেন ব্যবসায়ী মহল। তাদের মতে, ক্রেতাদের সাথে যেখানে দর কষাকষি নিয়ে প্রতিনিয়ত কঠোর লড়াই চালিয়ে যেতে হয়, সেখানে এমন সিদ্ধান্ত তৈরি করবে নতুন সঙ্কট।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বিদ্যুৎ খাতের অযৌক্তিক ব্যয় না কমিয়ে দাম বাড়ানোর সিদ্ধান্ত অন্যায়। গত ১০ বছরে এই খাতে ভর্তুকি গেছে ৫২ হাজার কোটি টাকা।

সিমেন্ট, রড, পাট, বস্ত্রসহ ২২ টি প্রতিষ্ঠান এখন আনোয়ার গ্রুপের অধীনে। যাতে কাজ করছেন ১২ হাজার মানুষ। সেবা, উৎপাদনসহ ভিন্নধর্মী ব্যবসা চালাতে বছরে তাদের মোট খরচের ১২ থেকে ১৫ শতাংশ ব্যয় করতে হয় বিদ্যুৎ জ্বালানিতে। যা গেলো ১০ বছরে বেড়ে গেছে উল্লেখযোগ্য হারে।

গ্রুপের একাধিক প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এবং ঢাকা চেম্বারের নেতৃত্ব দেয়া ব্যবসায়ী নেতা হোসেন খালেদ গণমাধ্যমকে বলেন, নতুন করে বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর ইঙ্গিতকে যৌক্তিক মনে করতে পারছেন না কোনওভাবেই।

হোসেন খালেদ বলেন, গত বছরে গ্যাসের প্রভাবে বিদ্যুতের দাম বেড়ে গেছে। এই আলোচনা আবারও ফেরত এসেছে। শোনা যাচ্ছে, বিদ্যুতের দামকে দ্বিগুণ করা চিন্তা করা হচ্ছে। এতে আমাদের উৎপাদন ব্যয় অনেক বেড়ে জাবে যা পুরো ইন্ডাস্ট্রিতে প্রভাব ফেলবে।

বিদ্যুতের উৎপাদন ক্ষমতা এখন প্রয়োজনের চেয়ে বেশি। যার পেছনে বিনিয়োগ করেছে সরকারি এবং বেসরকারি খাত। অথচ উৎপাদনে না থাকলেও বহু কেন্দ্রের ভাড়া বাবদ সরকারকে গুণতে হয় বিপুল পরিমাণ টাকা। সাথে অন্যান্য অব্যবস্থাপনা সামলাতে, সবশেষ অর্থবছরে পিডিবির মাধ্যমে ভর্তুকি দিতে হয়েছে ৮ হাজার কোটি টাকা। ১০ বছরে যা ছাড়িয়েছে ৫২ হাজার কোটি। আর এই ভর্তুকি কমিয়ে আনতেই দাম বাড়ানোর পক্ষে শক্ত যুক্তি প্রতিমন্ত্রীর।

বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ বলেন, সরকার চাইবেই এই ভর্তুকি থেকে আগামী ৫ বছরের মধ্যে বেরিয়ে আসতে। আমরা বার বার বলছি ৫-৬ বছর আরও লাগবে। আমাদের লাইফ লাইনে এক কোটি গ্রাহক আছে যারা দুই টাকা করে দেয়। যে কারণে সরকার চাচ্ছে ভর্তুকি থেকে কিছু অংশ কমে আসবে। কিছু অংশ কমাতে হলেই স্বাভাবিকভাবে আমাদের দামটা সমন্বয় করতে হবে।

কনজুমার অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ(ক্যাব) এর জ্বালানি উপদেষ্টা ড. শামসুল আলম বলেন, উৎপাদনে ৮ হাজার কোটি টাকা, বিতরণে ২ হাজার কোটি টাকা মোট ১০ হাজার কোটি টাকা অযৌক্তিক ব্যয় আছে। সরকারের ঘাটতি আছে ৭ হাজার ২৫৩ কোটি টাকা। তাহলে কেন এই অযৌক্তিক ব্যয়ের কারণে বিদ্যুতের দাম বাড়াতে হবে। সরকারকেই কেন ভর্তুকি দিতে হবে।

পিডিবির তথ্য বলছে, উৎপাদন ক্ষমতা বছরে ১০ থেকে ১৫ শতাংশ হারে বাড়লেও, বড় গ্রাহক, বিশেষ করে শিল্প কারখানার সংযোগ বৃদ্ধির হার ছিল এক রকম স্থির।

এসএমএম