• ঢাকা
  • সোমবার, ১৭ ফেব্রুয়ারি, ২০২০, ৫ ফাল্গুন ১৪২৬

জাতির পিতার জন্মশতবার্ষিকীর ক্ষণগণনা

মুজিববর্ষ
প্রকাশিত: সেপ্টেম্বর ১২, ২০১৯, ০৮:২২ পিএম
সর্বশেষ আপডেট : সেপ্টেম্বর ১২, ২০১৯, ০৮:২৭ পিএম

ডাটাবেজের আওতায় আসছে কারাবন্দিরা

হালিম মোহাম্মদ
ডাটাবেজের আওতায় আসছে কারাবন্দিরা

সারাদেশের ৬৮ কারাগারে বন্দিদের ডাটাবেজের আওতায় আনা হচ্ছে। বিশেষ করে কারাবন্দি জঙ্গি, যুদ্ধাপরাধীদের সার্বক্ষণিক নজরদারিতে রাখার জন্য এ উদ্যেগ নেয়া হয়েছে। পর্যায়ক্রমে এই ডাটাবেজকে জাতীয় পরিচয়পত্রের সার্ভার, বিমানবন্দর ইমিগ্রেশন ও পাসপোর্ট অধিদপ্তরের সঙ্গেও যুক্ত করা হবে। এতে জঙ্গি ও যুদ্ধাপরাধীর মতো অপরাধীদের যেমন শনাক্ত করা সহজ হবে, তেমনি জামিনে বেরিয়ে পালিয়ে যাওয়ার পথও বন্ধ হবে।

আধুনিক এই ডাটাবেজে কারাবন্দিদের মামলার তথ্যসহ থাকবে স্থায়ী-অস্থায়ী ঠিকানা। শুধু তাই নয়, বন্দি কত দিন ও কতবার জেল খেটেছেন সে তথ্যও থাকবে।

এরইমধ্যে গাজীপুর জেলা কারাগার, কাশিমপুর ৪টি কেন্দ্রীয় কারাগারে ডাটাবেজের কাজ শুরু হয়েছে। আগামী সপ্তাহে এই ডাটাবেজের উদ্বোধন করবেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল। কারা অধিদপ্তরসূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।

সূত্র জানায়, দেশে বর্তমানে ১৩টি কেন্দ্রীয় কারাগার ও ৫৫টি জেলা কারাগার রয়েছে। কারা সদর দপ্তর, ৭টি বিভাগীয় কারা দপ্তর ৬৮টি কারাগার নিয়ে দেশের কারা বিভাগ গঠিত। নিয়মিত বন্দির সংখ্যা এখন ৮০ হাজার ছাড়িয়েছে। এই ডাটাবেজটি পুরোপুরি বাস্তবায়ন করা গেলে কোন বন্দি কোন কারাগারে আছে, তার অপরাধের ধরন, মামলার সংখ্যা, স্থায়ী ও বর্তমান ঠিকানা, আদালতে হাজিরার তারিখসহ সব কিছুই এক ক্লিকেই পাওয়া যাবে। প্রতিদিনই এই ডাটাবেজ আপডেট করা হবে। ডাটাবেজে বন্দির ছবি, আঙুলের বায়োমেট্রিক ছাপ, চোখের মনির স্ক্যান ও আগের অপরাধের রেকর্ডসহ সব ধরনের তথ্য-উপাত্ত থাকবে। এর মাধ্যমে বন্দিদের নিরাপদ আটকের বিষয়েও আরও স্বচ্ছতা আসবে। জঙ্গিবাদে জড়িয়ে যারা কারাগারে গেছে তাদের নজরদারিতে রাখা সহজ হবে। আরও সঠিকভাবে তাদের অবস্থান, খাদ্য, চিকিৎসা, আত্মীয়-স্বজন, বন্ধু-বান্ধব ও আইনজীবীদের সঙ্গে সাক্ষাৎ নিশ্চিত করা সম্ভব হবে। দেশের যেকোনও কারা অধিদপ্তর থেকেই যেকোনও বন্দির অবস্থান জানা সম্ভব হবে।

এছাড়াও এই ডাটাবেজ থেকে জানা যাবে, কোন কারাগার থেকে কতজন বন্দিকে আদালতে হাজিরা দিতে নিয়ে যাওয়া হয়েছে এবং সঠিকভাবে তাদের কারাগারে ফেরত নিয়ে আসা সম্ভব হয়েছে কি না? এতে  প্রত্যেক কারাবন্দির আলাদা প্রোফাইল তৈরি করা হবে। এর মাধ্যমে কোন বন্দির জন্য কী ধরনের নিরাপত্তার প্রয়োজন, সেটাও সহজে জানানো যাবে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে। 

কারা অধিদপ্তরের ডিআইজি (ঢাকা বিভাগ) টিপু সুলতান বলেন, পাইলট প্রজেক্ট হিসেবে এরইমধ্যে কাশিমপুর-২ ও গাজীপুর কারাগারে এই ডাটাবেজের কাজ শুরু হয়েছে। আগামী ১৭ সেপ্টেম্বর স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এই ডাটাবেজ উদ্বোধন করবেন। এরপর সারাদেশে  ডাটাবেজের কাজ এগিয়ে নেয়া হবে।
 
তিনি বলেন, এই ডাটাবেজ থেকে আমরা অনেক কাজ করতে পারব। কারাগারে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে বন্দির পুরনো সব তথ্য বের করা যাবে। তার মামলার অগ্রগতি কতদূর, মামলার তারিখ কবে। সব কিছুই থাকবে এই ডাটাবেজে। 


এইচ এম/একেএস

আরও পড়ুন