• ঢাকা
  • শনিবার, ০৭ ডিসেম্বর, ২০১৯, ২৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৬
প্রকাশিত: নভেম্বর ১৯, ২০১৯, ০৮:৪০ এএম
সর্বশেষ আপডেট : নভেম্বর ১৯, ২০১৯, ০৯:১২ এএম

সিলেট প্রশাসন বলছে-ষোল আনাই গুজব

পেঁয়াজের পর সিলেটে লবণ নিয়ে তুঘলকি কাণ্ড

হালিম মোহাম্মদ ও আমিনুল রোকন
পেঁয়াজের পর সিলেটে লবণ নিয়ে তুঘলকি কাণ্ড

সিলেটে পেঁয়াজের পরিবর্তে এবার লবণ সংকট দেখা দিয়েছে। সেখানকার লোকজন এবার দাম বাড়ার আতঙ্কে লবণ কিনতে শুরু করেছে। এর আগে, ৪৫ টাকায় এক কেজি পেঁয়াজ কেনা নিয়ে সোমবার দিনভর ছিল হুলস্থুল কাণ্ড। সিলেট প্রশাসন বলছে, পর্যাপ্ত পরিমাণ লবন রয়েছে। একটি মহল এই ধরনের গুজব ছড়িয়ে পরিস্থিতি অস্থিতিশীল করতে চায়।

সোমবার (১৮ নভেম্বর) সন্ধ্যা থেকে সিলেট বিভাগজুড়ে লবণের দাম বেড়ে যাচ্ছে বলে গুজব ছড়িয়ে পড়ে। এমন খবরে ক্রেতারা হুমড়ি খেয়ে পড়েন সিলেট নগরের খুচরা ও পাইকারি দোকানগুলোতে। বাড়তি চাপে নগরের বিভিন্ন দোকানের লবণের মজুদ মুহূর্তেই ফুরিয়ে যায়। আবার কোনো কোনো  ব্যবসায়ী বেশি দামে বিক্রির জন্য লবণ মজুদ করে রাখেন। 

প্রশাসন বলছে, লবণের দাম বৃদ্ধির খবরটি পুরোই গুজব। কেউ উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে এই গুজব ছড়াতে পারে। ব্যবসায়ীরাও জানিয়েছেন, লবণের চাহিদামাফিক সরবরাহ রয়েছে। দাম বাড়ার শঙ্কা নেই। তবে ব্যবসায়ীরা এমন দাবি করলেও সোমবার রাতেই অনেক দোকানে বাড়তি দামে লবণ বিক্রির অভিযোগ পাওয়া গেছে।

এদিকে সোমবার রাত ১০টার দিকে সিলেট নগরের কালীঘাট এলাকা থেকে বিভিন্ন কোম্পানির প্রায় ৫০ বস্তা লবণসহ দুটি ভ্যান জব্দ করে জাতীয় গোয়েন্দা এনএসআই’র একটি প্রতিনিধি দল। এ সময় দুই ভ্যান চালককে ১৫ দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ও দুই ব্যবসায়ীকে ৪৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।

ব্যবসায়ীরা প্রতি বস্তা ২১৬ টাকা বেশি দামে লবণ বিক্রি করেছেন বলে জানান সদর উপজেলার অ্যাসিল্যাণ্ড সুমন্ত ব্যানার্জি। অতিরিক্ত দামে লবণ বিক্রির দায়ে সোমবার (১৮ নভেম্বর) বিকালে বড়লেখায় ভ্রাম্যমাণ আদালত অভিযান চালিয়ে উপজেলার ৭টি দোকানের মালিককে ৪০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।

গুজবকে কেন্দ্র্র করে সোমবার সন্ধ্যায় জনগণকে বিভ্রান্ত না হওয়ার আহ্বান জানান সিলেট জেলার পুলিশ সুপার ফরিদ উদ্দিন। নিজের ফেসবুকে পুলিশ সুপার লেখেন, প্রিয় সিলেটবাসী, বাজারে নিত্য-প্রয়োজনীয় সামগ্রীর পর্যাপ্ত সরবরাহ রয়েছে। কোনো কিছুর দাম বাড়তে পারে এমন গুজবে কান না দেয়ার জন্য বিশেষভাবে অনুরোধ জানাচ্ছি।

এদিকে সিলেট নগরের বাসিন্দা আলিম আল রাজি নামের এক চিকিৎসক সোমবার রাতে সামাজিক মাধ্যম ফেসবুকে লেখেন, সিলেটে আরও একটি নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্যের দাম বেড়ে গেছে। যারা এই গুজবটি ছড়িয়েছে তারা সফল। এখন সত্যি সত্যি অনেক জায়গায় আগের চেয়ে চারগুণ বেশি দামে এই দ্রব্যটা বিক্রি হচ্ছে। কিছু জায়গায় অবস্থা আরও খারাপ।

আগামীকাল (বুধবার) দাম আরও কয়েকগুণ বাড়তে পারে এই আশঙ্কায় অনেকে লবণ কিনে রাখছেন। যার ফলে অনেক দোকানে দেখা দিয়েছে সংকট। গতকাল সোমবার বিক্রি না করে বুধবার বেশি দামে বিক্রি করবেন, এই আশায় দোকানিরাও ইতোমধ্যে কৃত্রিম সংকট তৈরি করে ফেলেছেন।

নগরের বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, লবণ কেনার জন্য হুমড়ি খেয়ে পড়ছেন ক্রেতারা। বেশিরভাগ মুদি দোকানেরই মজুদ ফুরিয়ে গেছে। দোকানে লবণ না পেয়ে ক্রেতারা আক্রমণাত্মক আচরণ করতেও দেখা গেছে। সব ক্রেতারই দাবি, লবণের দাম বাড়তে যাচ্ছে এমন খবর শুনেছেন। তাই লবণ কিনতে এসেছেন তারা। তবে কোথায় এমন সংবাদ শুনেছেন এ কথা কেউ বলতে পারেননি।

সুপারশপ স্বপ্নর দর্শন দেওরি শাখার ব্যবস্থাপক নাহিদ তারানা চৌধুরী বলেন, সন্ধ্যার পর থেকেই ক্রেতারা লবণ কিনতে ভিড় করেন। জন প্রতি ৪-৫ কেজি করে লবণ কিনে নিয়ে যাচ্ছেন।

তিনি আরও বলেন, আমাদের এখানে লবণের যথেষ্ট সরবরাহ রয়েছে। আমরা নির্ধারিত দামেই ক্রেতাদের লবণ বিক্রি করছি। লবণের দাম দ্রুত বাড়ার সম্ভাবনা নেই।

অতিরিক্ত দামে লবণ বিক্রির দায়ে জেল জরিমানা প্রসঙ্গে সিলেট সদর উপজেলার অ্যাসিল্যান্ড সুমন্ত ব্যানার্জি বলেন, অতিরিক্ত দামে লবণ বিক্রির খবর পেয়ে আমরা কালীঘাটে অভিযানে আসি। এ সময় লবণ ভর্তি ২টি ভ্যানসহ প্রায় ৫০ বস্তা লবণ জব্দ করা হয়। ২ ভ্যানচালককে ১৫ দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ড প্রদান করা হয়। এ ঘটনায় দুই ব্যবসায়ীকে ৪৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। ব্যবসায়ীরা প্রতি বস্তা ২১৬ টাকা বেশি দামে লবণ বিক্রি করেছেন বলে প্রমাণ পাওয়া গেছে। জব্দকৃত লবণ সিলেট কোতোয়ালি থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।

এইচএম/একেএস