• ঢাকা
  • সোমবার, ০৯ ডিসেম্বর, ২০১৯, ২৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৬
প্রকাশিত: নভেম্বর ১৯, ২০১৯, ১০:২১ এএম
সর্বশেষ আপডেট : নভেম্বর ১৯, ২০১৯, ১০:৩১ এএম

কেরানীগঞ্জে কারাগারে বন্দিদের ফুটবল টুর্নামেন্ট

হালিম মোহাম্মদ
কেরানীগঞ্জে কারাগারে বন্দিদের ফুটবল টুর্নামেন্ট

ঢাকার কেরানীগঞ্জে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারের মাঠে চলছে ফুটবল টুর্নামেন্ট প্রতিযোগিতা। দর্শক হিসেবে খেলা উপভোগ করছে অন্য বন্দিরা। তবে জঙ্গি সংশ্লিষ্ট ও ফাঁসির আসামি, চিহ্নিত সন্ত্রাসীদের এই খেলায় অংশ নেয়া বা দেখার কোনো সুযোগ নেই। কারা সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।

কেরানীগঞ্জের কারাগারটি অনেক বড়। এর ভেতরে দুটি মাঠ রয়েছে। যার একটিতে ফুটবল অন্যটিতে ক্রিকেট খেলার আয়োজন করা হয়। সকাল ৭টার দিকে বন্দিদের লকআপ খুলে দেয়া হয়। বিকাল ৪টার দিকে আবার তাদের লকআপে রাখা হয়। টুর্নামেন্টে খেলাগুলো দুপুর আড়াইটার দিকে শুরু হয়। ৪টার দিকে শেষ হতেই সব বন্দি যার যার ওয়ার্ডে চলে যান।

কারাবন্দিদের জন্য টিভি, ফ্রিজ, ঘড়ি, বিউটিশিয়ান, টেইলার্সের কাজের প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা রয়েছে হচ্ছে। পাশাপাশি দেশের কোনো জাতীয় দিবস এলেই বন্দিরা কারা অভ্যন্তরে গান, বাজনা, নাটক, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানও করেছে। শুধু তাই নয়, বিশেষ খাবার পরিবেশনের পাশাপাশি ফুটবল খেলা শুরু হয়েছে। ৯ হাজার বন্দির জন্য দেয়া হচ্ছে।

এ বিষয়ে কেরানীগঞ্জের ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে জেলার মাহবুবুর রহমান বলেন, আমরা সব সময় বন্দির কল্যাণে কাজ করছি। পাশাপাশি মতিঝিল সিটি টাওয়ারের পাশে চলছে বন্দি খাবার বিতরণ। মাঠে জমজমাট ফুটবল ম্যাচ চলছে। দর্শক ৮ হাজারেরও বেশি বন্দি। দর্শকদের উচ্ছ্বাস করতালিতে খেলা এগিয়ে যাচ্ছে। এমন দৃশ্য বাংলাদেশে খুবই সাধারণ। যারা দর্শক খেলা দেখছেন, তারা সবাই কারাগারের বাসিন্দা। কেউ হাজতি কেউবা কয়েদি। নানা অপরাধের সঙ্গে যুক্ত বা অভিযুক্ত আসামি হলেও এরাই খেলছেন নিয়ম মেনে। আনন্দ পাচ্ছেন এবং দিচ্ছেনও। এমন দৃশ্যকে বিরল বলা হচ্ছে কারণ আমাদের দেশে কারাগারে এমন ফুটবল ম্যাচের আয়োজন সাধারণত হয় না। 

এখানে সুবেদার পর্যায়ের এক কর্মকর্তা রেফারি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। রেফারি যে সিদ্ধান্ত দেন তা মাথা পেতে মেনে নেন বন্দি এই ফুটবল খেলোয়াড়রা। যারা চ্যাম্পিয়ন ও রানার আপ হবেন তাদের পুরস্কৃত করা হবে।

জানা যায়, টুর্নামেন্টে দুই দিন পর পর ম্যাচ অনুষ্ঠিত হবে। মাঝের এক দিন সকালে এক দল ও বিকালে আরেক দল অনুশীলন করার সুযোগ পাবে। বন্দিরা ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা নিয়েই মাসখানেক আগে দল গঠন করেছেন। খেলোয়াড়দের নাম পাওয়ার পর তাদের নামে জার্সিও বানানো হয়েছে। ম্যাচ চলার সময় ঊর্ধ্বতন কারা কর্মকর্তারাও দর্শক হিসেবে থাকেন বলে জানা গেছে।

গত শনিবার থেকে শুরু হয়েছে এ টুর্নামেন্ট। টুর্নামেন্টটিতে অংশ নিচ্ছে ১০টি দল। যার মধ্যে আটটি দলে থাকছেন বন্দিরা। অন্য দুটি দলে থাকছেন মেডিকেল সেক্টর ও কারা কর্মকর্তা-কর্মচারীরা।

কারাগারের একাধিক কর্মকর্তার কাছ থেকে জানা গেছে, ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারের আটটি ভবনে ৯ হাজারের বেশি বন্দি রাখা হয়েছে। ওই সব ভবনের বন্দিদের মধ্য থেকেই খেলোয়াড় হিসেবে নাম লিখিয়েছেন অনেকে। আট ভবনের মধ্যে রয়েছে কর্ণফুলী, মধুমতি, করতোয়া, রূপসা, মনিহার, পদ্মা, মেঘনা ও যুমনা। প্রতিটি ভবন থেকেই টিম দেয়া হয়েছে। এছাড়া মেডিকেল ব্রাঞ্চের একটি ও কারাগারের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের আরেকটি টিম গঠন করা হয়েছে।

টুর্নামেন্টের বিষয়ে জানতে চাইলে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারের জেলার মাহবুব উল ইসলাম বলেন, কারাগারকে এখন সংশোধনাগার বলা হয়। বন্দিদের সংশোধনের অংশ হিসেবে এখানে খেলাধুলার আয়োজন প্রায়ই করা হয়। কিছুদিন আগে দাবা খেলা হয়ে গেল। তবে ফুটবল খেলতে বড় জায়গা লাগে, ফলে এ কারাগার ছাড়া ফুটবল আয়োজন অন্যত্র করা সম্ভব হয়ে ওঠে না। আমরা এখানে এ আয়োজনটি নিয়মিত করতে চাই। এটিকে প্রকৃতপক্ষেই শোধরাগার করে গড়ে তুলতে চাই।

কারা সূত্র জানায়, গত শনিবার উদ্বোধনী ম্যাচে কর্ণফুলী ও মধুমতি দলের খেলা অনুষ্ঠিত হয়। খেলাটি দুই দুই গোলে ড্র হয়েছে। আগামী ১৬ ডিসেম্বর মহান বিজয় দিবসে ফাইনাল খেলার আয়োজন করছে কারা কর্তৃপক্ষ।  


এইচএম/একেএস

আরও পড়ুন