• ঢাকা
  • বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর, ২০২০, ৯ আশ্বিন ১৪২৭
প্রকাশিত: ফেব্রুয়ারি ১৩, ২০২০, ০৯:৩১ এএম
সর্বশেষ আপডেট : ফেব্রুয়ারি ১৩, ২০২০, ০৯:৩১ এএম

করোনায় নিরাপদ বাংলাদেশ, জনজীবনে আতঙ্ক 

হালিম মোহাম্মদ 
করোনায় নিরাপদ বাংলাদেশ, জনজীবনে আতঙ্ক 
ছবি- সংগৃহীত

করোনাভাইরাসে কাঁপছে চীন। চীনের উহান শহরে করোনাভাইরাসের আক্রমণে মৃতের সংখ্যা হাজার ছাড়িয়েছে। আক্রান্তের সংখ্যা ৪০ হাজারেরও বেশি। চীন থেকে ভাইরাসটি প্রায় ৩০টি দেশে হানা দিয়েছে। তবে এখনো নিরাপদ রয়েছে বাংলাদেশ। ভাইরাস থেকে বাংলাদেশ নিরাপদ থাকলেও করোনার প্রভাব পড়ছে জনজীবনে। এরফলে জনজীবন চলছে স্বাভাবিক ভাবে। মানুষের মধ্যে রয়েছে আতঙ্ক-উৎকণ্ঠা।
 
এদিকে সিঙ্গাপুরে কোয়ারেন্টাইনে থাকা ১৯ জনের ১০ জনই বাংলাদেশি বলে জানা গেছে। জাতীয় রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠান (আইইডিসিআর) পরিচালক অধ্যাপক ডা. মীরজাদী সেব্রিনা বুধবার দুপুরে সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান। তবে তাদের পরিচয় প্রকাশ করা হয়নি।

তিনি বলেন, সিঙ্গাপুরে এখন পর্যন্ত দুইজন বাংলাদেশি করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন। প্রথম যিনি শনাক্ত হয়েছিলেন দ্বিতীয় শনাক্ত হওয়া ব্যক্তি তার সংস্পর্শেই ছিলেন। তাদের সংস্পর্শে ছিলেন, এমন ১৯ জনকে কোয়ারেন্টাইনে রাখা হয়েছে। 

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন- প্রতিষ্ঠানের প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ডা. এ এস এম আলমগীর।
 
অধ্যাপক ডা. মীরজাদী জানান, আক্রান্ত একজন আইসিইউতে রয়েছেন। আরেকজন সাধারণভাবে চিকিৎসা নিচ্ছেন। সিঙ্গাপুর সরকার তাদের চিকিৎসার দায়িত্ব নিয়েছে, তারা নিয়মিতভাবে আমাদের দূতাবাস ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছেন। আর দূতাবাস এবং পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে আমাদের সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রয়েছে। 

এদিকে বিভিন্ন গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, চীন থেকে যেসব পণ্য বাংলাদেশে আসে সেগুলোর সঙ্কট সৃষ্টি হচ্ছে। অনেক ক্ষেত্রে সঙ্কটের অজুহাতে মূল্য বৃদ্ধি করা হচ্ছে।

চীনে করোনাভাইরাসের কারণে বাংলাদেশের ব্যবসায়ীরা ইতোমধ্যে আদা, রসুন, পেঁয়াজ থেকে শুরু করে তৈরি পোশাক, মেশিনারি পণ্য ও ইলেক্ট্রিক মালামাল আমদানি করে দিয়েছে। সে পণ্যের বাহকের মাধ্যমে করোনা ভাইরাসের মতো প্রাণঘাতী রোগ দেশে ঢুকতে পারে। এমন আশঙ্কা থেকে জনজীবনে প্রভাব পড়ছে। পাশপাশি মানুষের ভেতরে কাজ করছে উৎকণ্ঠা এবং উদাসীনতা।
  
এবিষয়ে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) সূত্রের বরাত দিয়ে যেসব তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে তাতে বলা হয়েছে, চলতি বছরের জানুয়ারি মাসে চীন থেকে পণ্য আমদানি হয় ৬ লাখ ৭২ হাজার ৯৫২ টন। যা গত বছরের একই সময় (২০১৯ সালের জানুয়ারি মাস) আমদানি হয় ৮ লাখ ৫১ হাজার ২৫৫ টন। করোনা ভাইরাসের প্রভাবে এ সব পণ্যের দাম বাড়িয়ে দিয়েছে। দেখা যায় গত বছরের একই সময়ের তুলনায় আমদানি কম হয়েছে এক লাখ ৭৮ হাজার ৩০৩ টন।
চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি মাসের ৮ তারিখ পর্যন্ত চীন থেকে পণ্য আমদানি হয়েছে এক লাখ ৩৭ হাজার ৫৭৯ টন। গত বছরের একই সময় আমদানি হয় ২ লাখ ১৯ হাজার ১৪৯ টন। সেক্ষেত্রে গত বছরের একই সময়ের তুলনায় আমদানি কম হয় ৮১ হাজার ৫৭০ টন।

রাজধানীর কারওয়ানবাজার, নয়াবাজার, শান্তিনগর কাঁচাবাজারের তথ্যে দেখা গেছে, চীন থেকে আসা আদা বিক্রি হচ্ছে ১৫০-১৬০ টাকা কেজি দরে। যা তিন সপ্তাহ (২১ দিন) আগে বিক্রি হয়েছে ১২০-১৩০ টাকা কেজি। রসুন বিক্রি হয়েছে ২০০-২২০ টাকা। যা তিন সপ্তাহ আগে প্রতি কেজি বিক্রি হয়েছে ১৪০-১৫০ টাকা। এছাড়া এক মাস আগে চীনা পেঁয়াজ বাজারে অহরহ পাওয়া গেলেও বর্তমানে কম পাওয়া যাচ্ছে। এ দিন বাজারে প্রতি কেজি চীনা পেঁয়াজ বিক্রি হয়েছে ৮০-৯০ টাকা। যা এক মাস আগে ৪৫-৫০ টাকায় বিক্রি হয়েছে।

নয়াবাজারের বিক্রেতা মো. আলাউদ্দিন বলেন, চীন থেকে বর্তমানে আদা, রসুন ও পেঁয়াজ আসছে না। যে কারণে আমদানিকারক ও পাইকারি বিক্রেতারা বেশি দরে বিক্রি করছে। আর বেশি দাম দিয়ে কিনে আমাদেরও বেশি দামেই বিক্রি করতে হচ্ছে। এছাড়া চীন থেকে আসা বিভিন্ন ধরনের খাবারের দামও বাড়তে শুরু করেছে।

এইচএম/বিএস