• ঢাকা
  • বুধবার, ০৮ এপ্রিল, ২০২০, ২৫ চৈত্র ১৪২৬
প্রকাশিত: ফেব্রুয়ারি ২১, ২০২০, ০৯:২৮ এএম
সর্বশেষ আপডেট : ফেব্রুয়ারি ২১, ২০২০, ০৯:৪৮ এএম

বিনম্র শ্রদ্ধা জানাতে শহীদ মিনারে জনতার ঢল

জাগরণ প্রতিবেদক
বিনম্র শ্রদ্ধা জানাতে শহীদ মিনারে জনতার ঢল
কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে জনতার ঢল ● টিভি থেকে নেয়া

মাতৃভাষার জন্য জীবন উৎসর্গের এক অনন্য দৃষ্টান্ত একুশে ফেব্রুয়ারি। বৈশ্বিক স্বীকৃতি যার মহিমাকে করেছে আরও অনন্য। তাই তো, কেবলই শোকের চাদরে ঢাকা না থেকে, দিনটি হয়ে উঠেছে, গৌরবের-অহঙ্কারের।

একুশের প্রথম প্রহর থেকেই শ্রদ্ধার ফুলে ছেয়ে যায় শহীদ বেদি। এই শ্রদ্ধা নিবেদন চলবে দুপুর পর্যন্ত। 

শুক্রবার (২১ ফেব্রুয়ারি) প্রথম প্রহরে রাত ১২টা ১ মিনিটে প্রথমে রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ এবং তার পর পরেই প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা শহীদ বেদিতে  পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন। এ সময় নেপথ্যে বাজছিল অমর একুশের কালজয়ী গান, ‘আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো একুশে ফেব্রুয়ারি...’।

ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদনের পর রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রী কিছুক্ষণ নীরবে দাঁড়িয়ে থেকে ভাষা আন্দোলনের শহীদদের স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানান। 

রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে শহীদ বেদিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন জাতীয় সংসদের স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরী। এরপর আওয়ামী লীগের পক্ষে দলের সভাপতি শেখ হাসিনা, সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরসহ মন্ত্রী এবং দলের জ্যেষ্ঠ নেতারা পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন। এ সময় আমির হোসেন আমু, মতিয়া চৌধুরী, তোফায়েল আহমেদ, পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আবদুল মোমেন, সাহারা খাতুন, তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ, মসিউর রহমান, শেখ সেলিম, শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি, জাহাঙ্গীর কবির নানক সহ আরও অনেকে উপস্থিত ছিলেন ছিলেন।

এরপর একে একে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার ফজলে রাব্বী মিয়া ও বিরোধী দলীয় নেতা রওশন এরশাদ।

পররাষ্ট্রমন্ত্রীর নেতৃত্বে কূটনীতিকরা পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন। ঢাকাস্থ বিভিন্ন দেশের হাই কমিশনার, রাষ্ট্রদূত, কূটনীতিক, বিভিন্ন বিদেশি সংস্থার প্রধানরা এ সময় উপস্থিত ছিলেন।

ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের মেয়র সাঈদ খোকন, নবনির্বাচিত মেয়র ব্যারিস্টার শেখ ফজলে নূর তাপস, তিন বাহিনীর প্রধানরা, বাংলাদেশ পুলিশের প্রধান ড. মোহাম্মদ জাবেদ পাটোয়ারী, র‌্যাব প্রধান বেনজীর আহমেদ পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন।

শ্রদ্ধা জানান অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম ও বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক হাবীবুল্লাহ সিরাজী।

ভাষাশহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেন যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধারা। তাদের মধ্যে কেউ কেউ এসেছিলেন হুইলচেয়ারে। এরপর পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষে উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আখতারুজ্জামান, ঢাকা ইউনিভার্সিটি অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশনের পক্ষে সভাপতি এ. কে. আজাদ ও মহাসচিব রঞ্জন কর্মকার, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতি, জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান জি এম কাদের, মহাসচিব মসিউর রহমান রাঙ্গাঁ, বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল-বাসদ, বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি রাশেদ খান মেনন, জাসদ সভাপতি হাসানুল হক ইনু, সাম্যবাদী দলের সাধারণ সম্পাদক দিলীপ বড়ুয়া সহ আরও অনেকে। 

পুষ্পস্তবক অর্পণ করে ১৪ দলীয় ঐক্যজোট, ছাত্রলীগ, স্বেচ্ছাসেবক লীগ, বাংলাদেশ অ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ সার্ভিস, ঢাকা জেলা প্রশাসন, গণপূর্ত অধিদফতরের প্রধান প্রকৌশলীসহ বিভিন্ন সংগঠন।

রাষ্ট্রীয় আনুষ্ঠানিকতা শেষে শহীদ মিনার উন্মুক্ত করে দেয়া হয় সাধারণ মানুষের জন্য। নানা বয়স আর শ্রেণি-পেশার মানুষের ভালোবাসায় সিক্ত হচ্ছে স্মৃতির মিনার।

এবারও যথাযোগ্য মর্যাদায় শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস পালনে ব্যাপক কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে।

ঢাকার পাশাপাশি সারা দেশে প্রথম প্রহরেই শহীদ মিনারে শ্রদ্ধা জানানো হচ্ছে, ফুলে ফুলে ভরে উঠছে মিনার।

সরকারি ছুটির এ দিনে দেশের সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এবং সরকারি, আধা-সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে জাতীয় পতাকা অর্ধনমিত রাখা হয়েছে। 

জাতীয় অনুষ্ঠানের সাথে সঙ্গতি রেখে দেশের সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠান, জেলা ও উপজেলা প্রশাসন, বিদেশে অবস্থিত বাংলাদেশ মিশনগুলোও বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করা হচ্ছে। 

আজিমপুর কবরস্থানে ফাতেহা পাঠ ও কোরআনখানির আয়োজনসহ দেশের সব উপাসনালয়ে ভাষা শহীদদের আত্মার শান্তি কামনায় বাদ জুমা বিশেষ প্রার্থনার আয়োজন করা হবে।

কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারসহ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকা এবং দিবসটি পালনে নিয়োজিত সব প্রতিষ্ঠান ও সংলগ্ন এলাকায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদারে ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে।

দিবসটি উপলক্ষে ঢাকা শহরের বিভিন্ন সড়কদ্বীপ ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ স্থানে বাংলাসহ অন্যান্য ভাষার বর্ণমালা সংবলিত ফেস্টুন দিয়ে সাজানো হয়েছে।

 

সংবাদপত্রে ক্রোড়পত্র প্রকাশের ক্ষেত্রে ভাষা আন্দোলনে বঙ্গবন্ধুর অবদানের বিষয়টি এবার বিশেষভাবে উপস্থাপন করা হচ্ছে।

একুশে ফেব্রুয়ারি উপলক্ষে গণযোগাযোগ অধিদফতর ঢাকা মহানগরীর সড়কপথে ভ্রাম্যমাণ সঙ্গীতানুষ্ঠান এবং ঢাকা শহর সংলগ্ন নৌপথে সঙ্গীততানুষ্ঠানের আয়োজনসহ জেলা-উপজেলায় ভ্রাম্যমাণ চলচ্চিত্র প্রদর্শনীর ব্যবস্থা নিয়েছে।

চলচ্চিত্র ও প্রকাশনা অধিদফতর তিন ধরনের পোস্টার মুদ্রণ করেছে।

বাংলা একাডেমি, শিল্পকলা একাডেমি, কবি নজরুল ইনস্টিটিউট, জাতীয় গ্রন্থকেন্দ্র, ইসলামিক ফাউন্ডেশন, জাতীয় জাদুঘর, প্রত্নতত্ত্ব অধিদফতর, গণগ্রন্থাগার অধিদফতর, আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউট, আর্কাইভস্ ও গ্রন্থাগার অধিদফতর, লোক ও কারুশিল্প ফাউন্ডেশন,  শিশু একাডেমী, ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর সাংস্কৃতিক ইনস্টিটিউট, তিন পাবর্ত্য জেলার সাংস্কৃতিক কেন্দ্রসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান গ্রন্থমেলা, আলোচনা সভা, সেমিনার, সিম্পোজিয়াম, আবৃত্তি, চিত্রাঙ্কন ও রচনা প্রতিযোগিতাসহ বিভিন্ন সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছে। 

এসএমএম