• ঢাকা
  • রবিবার, ২৯ মার্চ, ২০২০, ১৫ চৈত্র ১৪২৬
প্রকাশিত: ফেব্রুয়ারি ২৫, ২০২০, ০৩:১৭ পিএম
সর্বশেষ আপডেট : ফেব্রুয়ারি ২৫, ২০২০, ০৪:৩৮ পিএম

‘দুদকের ওপর মানুষের আস্থার ঘাটতি রয়েছে’

জাগরণ প্রতিবেদক
‘দুদকের ওপর মানুষের আস্থার ঘাটতি রয়েছে’
বক্তব্য রাখেন টিআইবির প্রধান নির্বাহী ড. ইফতেখারুজ্জামান ● জাগরণ

দুদকের কাজে সার্বিক অগ্রগতি নেই। নিরপেক্ষভাবে তারা দায়িত্ব পালন করছে না বলে মন্তব্য করেছেন টিআইবির প্রধান নির্বাহী ড. ইফতেখারুজ্জামান।

মঙ্গলবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) রাজধানীর মাইডাস সেন্টারে দুদক সংক্রান্ত টিআইবি’র গবেষণা প্রতিবেদন প্রকাশ অনুষ্ঠানে তিনি এই মন্তব্য করেন।

টিআইবি পরিচালিত তাদের গবেষণায় বলা হয়, দুদকের ওপর মানুষের আস্থার ঘাটতি আছে। বড় দুর্নীতিবাজদের ধরতে দুদকের আগ্রহ নেই। বেশি মনোযোগী ছোট দুর্নীতিবাজদের নিয়ে। দুদক ক্ষমতাসীন দল ও জোটের রাজনীতিকদের ব্যাপারেও নমনীয়। আইন প্রণয়নের মাধ্যমে দুর্নীতি দমন কমিশনের কার্যক্রমে সরকারের প্রভাব বিস্তারের চেষ্টার তথ্যও উঠে এসেছে গবেষণায়।

টিআইবি দুদককে আরও কার্যকর ও স্বাধীন করতে আইন সংশোধনের সুপারিশ করেছে।

টিআইবি জানায়, দুদকের স্কোর ১০০-তে ৬০। আন্তর্জাতিক মান হিসেবে এটা মধ্যম শ্রেণির। উচ্চ শ্রেণির নম্বর শুরু ৬৭ থেকে। দুদককে মধ্যম শ্রেণি থেকে উচ্চ শ্রেণিতে যেতে তাই ভবিষ্যতে আরও ৭ নম্বর বাড়াতে হবে।

সংবাদ সম্মেলন জানান হয়, ২০১৬ থেকে ২০১৮ সালের তথ্য-উপাত্ত নিয়ে এই গবেষণা করা হয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে গবেষণাপত্র তুলে ধরেন টিআইবির রিসার্চ অ্যান্ড পলিসি বিভাগের প্রোগ্রাম ম্যানেজার শাম্মী লায়লা ইসলাম ও সিনিয়র প্রোগ্রাম ম্যানেজার শাহজাদা এম আকরাম।

গবেষণাপত্রে উঠে আসে, দুদকের কার্যক্রম ও ক্ষমতার ব্যবহারের কারণে এর স্বাধীনতা ও নিরপেক্ষতা প্রশ্নবিদ্ধ হচ্ছে।

টিআইবি বলছে, বিরোধী দলের রাজনীতিকদের হয়রানি এবং ক্ষমতাসীন দল ও জোটের রাজনীতিকদের প্রতি নমনীয় প্রদর্শনের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে দুদক। যার প্রমাণ পাওয়া যায় ২০১৮ সালের জাতীয় নির্বাচনের সময় দুদকের কার্যক্রমে।

তথ্য দাতাদের বরাত দিয়ে সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, দুদকের ওপর জনগণের আস্থা নেই, ক্ষুদ্র দুর্নীতির ওপর তারা বেশি মনোযোগী, বড় দুর্নীতিবাজ ধরার ক্ষেত্রে সংস্থাটির দৃশ্যমান সাফল্য নেই।

মামলা ও তদন্তের ক্ষেত্রে দুদকের কাঙ্ক্ষিত অগ্রগতি নেই।

এক প্রশ্নের জবাবে টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান জানান, দুদক কাগজে কলমে স্বাধীন, বাস্তবে স্বাধীনভাবে কাজ করছে বলে মনে হয় না তাদের।

গবেষণায় দুদকের ৫০টি নির্দেশক বিবেচনায় নেয়া হয়েছে। এর মধ্যে ২১টিতে দুদক উচ্চ শ্রেণিভুক্ত হয়েছে। ১৮টি মধ্যম ও ১১টি নিম্ন শ্রেণিভুক্ত হয়েছে। দুদকের অনুসন্ধান, তদন্ত ও মামলা দায়ের এই নির্দেশক সবচেয়ে কম নম্বর পেয়েছে।

প্রতিরোধমূলক, শিক্ষামূলক ও আউটরিচ কার্যক্রমে দুদক সবচেয়ে বেশি নম্বর পেয়েছে। এরপর বেশি নম্বর পেয়েছে স্বাধীনতা ও মর্যাদা নির্দেশকে।

স্বাধীনতার প্রশ্নে বলা হয়েছে, দুদক সরকারবিরোধীদের ওপর হয়রানিমূলক কাজ করে। অন্যদিকে ক্ষমতাসীনদের প্রতি সংস্থাটি নমনীয়।

দুর্নীতির অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে দুদকের সাড়া প্রদানের হারও কম বলেছে টিআইবি।

গবেষণা প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০১৬-১৮ সালে ৪৭ হাজার ৫৩৯টি অভিযোগের মধ্যে ৩ হাজার ২০৯টি অভিযোগ অনুসন্ধানের জন্য গৃহীত হয়। যা মোট অভিযোগের ৬ দশমিক ৭৫ শতাংশ। অথচ আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুসারে এই হার ৬৬ শতাংশের বেশি হওয়ার কথা।

এসএমএম