• ঢাকা
  • বৃহস্পতিবার, ০৯ এপ্রিল, ২০২০, ২৬ চৈত্র ১৪২৬
প্রকাশিত: মার্চ ২২, ২০২০, ০৯:২৭ পিএম
সর্বশেষ আপডেট : মার্চ ২২, ২০২০, ০৯:২৭ পিএম

কোভিড-১৯

মিরপুর উত্তর টোলারবাগে জনমনে আতঙ্ক

জাগরণ ডেস্ক
মিরপুর উত্তর টোলারবাগে জনমনে আতঙ্ক
বাড়তি সতর্কতা হিসেবে ভবন জীবাণুমুক্ত করা হচ্ছ ● বিবিসি বাংলা

শনিবার (২১ মার্চ) যে ব্যক্তি করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন, তার আবাসস্থল মিরপুর উত্তর টোলারবাগে জনমনে এখন এক ধরনের আতঙ্ক বিরাজ করছে।

ওই ব্যক্তি আক্রান্ত অবস্থাতেই বিভিন্ন স্থানে ঘুরে বেড়ানোয়, স্থানীয় বাসিন্দারা আশঙ্কা করছেন, এই ভাইরাস এরই মধ্যে আশেপাশে ছড়িয়ে যেতে পারে।

এমতাবস্থায় খুব প্রয়োজন ছাড়া বাড়ির বাইরে বের হচ্ছেন না কেউ।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক মিরপুর টোলারবাগের এক বাসিন্দা বিবিসি বাংলাকে বলেন, করোনাভাইরাসের ভয়ে আমরা এমনিতেই কম বের হতাম কিন্তু এই মৃত্যুর কারণে পুরো এলাকাই মনে হচ্ছে যেন স্তব্ধ হয়ে গেছে। রাস্তা-ঘাটে তেমন লোকজন নেই। সবাই এক ধরনের গৃহবন্দি। বাড়ির কাজের লোকদেরও আসতে মানা করা হয়েছে। আমাদের ধারণা ওই ব্যক্তির মাধ্যমে এই ভাইরাস হয়তো অনেকটাই ছড়িয়ে পড়েছে।

তবে গণমাধ্যমে ৯তলা ওই ভবনটি ‘লকডাউন’ করার যে খবর প্রচার করা হচ্ছে সেটির ভিত্তি নেই বলে বিবিসি বাংলাকে জানান মিরপুরের উপ-কমিশনার মোস্তাক আহমেদ।

তিনি বলেছেন, শুধু আক্রান্ত ব্যক্তির পরিবারকে ওই ভবনে কোয়ারেন্টিনে রাখা হয়েছে এবং ভবনের বাকি সদস্যদের সতর্কতার সাথে চলাফেরার অনুরোধ জানানো হয়েছে।

ফ্ল্যাট মালিকরা পুলিশ, আইইডিসিআর ও সিটি করপোরেশনের নির্দেশনায় ভেতরে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা করেছেন মোস্তাক আহমেদ।

‘করোনায় আক্রান্ত রোগীর পরিবারকেই শুধু কোয়ারেন্টিনে রাখা হয়েছে। আর অফিশিয়ালি কোনও ভবন ‘লকডাউন’ করা হয়নি। ভবনের বাসিন্দারা তাদের নিরাপত্তার জন্যই চলাচল সীমিত করেছেন। আমরা বলছি তারা যেন মাস্ক পরে, প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নিয়ে বের হন।

আক্রান্ত ব্যক্তি মিরপুরে যে বিশেষায়িত হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছিলেন, সেখানকার চিকিৎসক-কর্মকর্তা-কর্মচারীরাও আতঙ্কের মধ্যে আছেন।

এরই মধ্যে একজন চিকিৎসক কোয়ারেন্টিনে আছেন বলে জানা গেছে।

হাসপাতালের কর্মকর্তারা সম্মিলিতভাবে কর্মবিরতিতে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন বলে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক কর্মকর্তা নিশ্চিত করেছেন।

তবে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ এ নিয়ে মুখ খোলেননি।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ওই কর্মকর্তা জানান, যখন পরীক্ষায় জানা যায় যে ওই রোগী করোনা পজিটিভ তখন তো পুরো হাসপাতালেই একটা উদ্বেগজনক অবস্থা। এজন্য আমরা সম্মিলিতভাবে কর্মবিরতিতে গিয়েছি। আমি তো এখনও জানি না, আমি বা আমার সহকর্মীদের কেউ সংক্রমিত হয়েছেন কিনা। স্বাভাবিকভাবেই ভীষণ উদ্বেগের মধ্যে আছি।

যে ব্যক্তি মারা গেছেন, তিনি কার কাছ থেকে ভাইরাসটি বহন করেছিলেন, সেটি এখনও চিহ্নিত করা যায়নি।

তবে উপযুক্ত প্রমাণ ছাড়া তার এই সংক্রমণকে এখনই কমিউনিটি ট্রান্সমিশন বলতে চাইছে না আইইডিসিআর।

প্রতিষ্ঠানটির পরিচালক মীরজাদী সেব্রিনা ফ্লোরা বলেছেন, বর্তমানে তারা ওই ব্যক্তির সংস্পর্শে আসা ব্যক্তিদের নমুনা পরীক্ষা করে সংক্রমণের কারণ জানার চেষ্টা করছেন।

আমরা কমিউনিটি ট্রান্সমিশন বলার আগে আরেকটু সময় নেব, কারণ আমরা সংক্রমণের উৎস খুঁজতে কাজ করে যাচ্ছি। ওই এলাকায় দু’জন প্রবাসী ব্যক্তির নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে। আমরা দেখতে চাই যে তারা আক্রান্ত কিনা বা তাদের থেকে সংক্রমণ হয়েছে কিনা।

‘কমিউনিটি ট্রান্সমিশন’ মানে যেখানে সংক্রমণের উৎস অর্থাৎ কার মাধ্যমে রোগী সংক্রমিত হয়েছিল সেটি যদি বের করা না যায়।

এটি যে কোনও সংক্রমণ রোগের একটি পরবর্তী পর্যায়।

তাই বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার কাছে এ বিষয়ে রিপোর্ট করার আগে পুরোপুরি নিশ্চিত হওয়ার কথা জানান ফ্লোরা।

এর আগে তারা এটাকে ‘কমিউনিটি ট্রান্সমিশন’ বলবেন না।

এসএমএম