• ঢাকা
  • রবিবার, ২৯ নভেম্বর, ২০২০, ১৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৭
প্রকাশিত: আগস্ট ১, ২০২০, ০৭:১১ পিএম
সর্বশেষ আপডেট : আগস্ট ১, ২০২০, ০৭:১৫ পিএম

কক্সবাজা‌রে পুলি‌শের গু‌লি‌তে সা‌বেক সেনা কর্মকর্তা নিহত

বিশেষ প্রতিনিধি
কক্সবাজা‌রে পুলি‌শের গু‌লি‌তে সা‌বেক সেনা কর্মকর্তা নিহত
পুলিশের গুলিতে নিহত মেজর (অবসরপ্রাপ্ত) সিনহা মো. রাশেদ- সংগৃহিত

কক্সবাজারের টেকনা‌ফ উপ‌জেলার বাহারছড়ায় মে‌রিন ড্রাইভ সড়‌কের এক‌টি চেক‌পো‌স্টে পু‌লি‌শের গুলিতে সেনাবা‌হিনীর একজন অবসরপ্রাপ্ত মেজর নিহত হয়েছেন।

শুক্রবার (৩১ জুলাই) রাত সা‌ড়ে ১০টার দি‌কে এই ঘটনা ঘ‌টে। নিহত সেনা কর্মকর্তার নাম সিনহা মো. রা‌সেদ।  বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত এই মেজর প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ নিরাপত্তা বাহিনী এসএসএফ (স্পেশাল সিকিউরিটি ফোর্স)-এর একজন সাবেক কর্মকর্তা ছিলেন।

এর পরপরই অনাকাঙ্খিত এই ঘটনার তদন্তে একজন উপ-সচিবকে প্রধান করে তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে বলে জানা গেছে। 

ঘটনা প্রসঙ্গে পু‌লিশের দেয়া বর্ণনায় জানা যায়, সাবেক ওই সেনা কর্মকর্তা তার ব্যক্তিগত গাড়িতে ক‌রে অপর একজন সঙ্গী সহ টেকনাফ থে‌কে কক্সবাজার আসছিলেন। ‌মে‌রিন ড্রাইভ সড়কের বাহারছড়া চেক‌পো‌স্টে কর্তব্যরত পু‌লিশ গাড়িটি থা‌মি‌য়ে তল্লাশি কর‌তে চাইলে ওই সেনা কর্মকর্তা বাধা দেন। এই নি‌য়ে তর্ক বিতর্কের এক পর্যায়ে সেনা কর্মকর্তা তার কা‌ছে থাকা পিস্তল বের কর‌লে পুলিশ 'আত্মরক্ষার্থে' গু‌লি চালায়। এতে সেনা কর্মকর্তা রা‌শেদ গুরুতর আহত হন। সেখান থেকে তাকে কক্সবাজার সদর হাসপাতা‌লে নি‌য়ে ‌গে‌লে কর্তব্যরত চিকিৎসক মেজর সিনহাকে মৃত ঘোষণা ক‌রেন। শ‌নিবার (১ আগস্ট) সকা‌লে নিহ‌তের ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হ‌য়ে‌ছে।

এদিকে কক্সবাজা‌র পু‌লিশ সুপার এবিএম মাসুদ হো‌সেন ঘটনা সম্পর্কে জা‌নি‌য়ে‌ছেন, সামলাপু‌রের লোকজন ওই গা‌ড়ির আরোহী‌দের ডাকাত সন্দেহ ক‌রে পু‌লিশকে খবর দেয়। এই সম‌য়ে পু‌লিশ চেক‌পো‌স্টে গা‌ড়ি‌টি থামা‌নোর চেষ্টা ক‌রে। কিন্তু গা‌ড়ির আরোহী‌ একজন তার পিস্তল বের ক‌রে পু‌লিশ‌কে গু‌লি করার চেষ্টা ক‌রে। আত্মরক্ষা‌র্থে পু‌লিশ গু‌লি চালায়। এতে ওই ব্যক্তি মারা যায়।

এস‌পি জানান, এই ঘটনায় ২টি মামলা হ‌য়ে‌ছে। ২ জন‌কে আটক করা হ‌য়ে‌ছে। পু‌লিশ পিস্তল‌টি জব্দ ক‌রে‌ছে। এছাড়া গা‌ড়ি‌তে তল্লাশি ক‌রে ৫০টি ইয়াবা, কিছু গাঁজা এবং দুটি বিদেশি ম‌দের বোতল উদ্ধার করা হ‌য়ে‌ছে।

জানা গেছে, নিহত মেজর অব. রা‌শেদ এক‌টি তথ্যচিত্র ধারণের কা‌জে এক নারী ও অপর ৩ জন পুরুষ সঙ্গীসহ গত এক মাস ধ‌রে হিমছ‌ড়ির এক‌টি রেস্টহাউ‌জে অবস্থান কর‌ছি‌লেন।

এদিকে এই ঘটনা প্রসঙ্গে বিভিন্ন মাধ্যমে প্রকাশিত সংবাদে তথ্য উপস্থাপনের ক্ষেত্রে অসামঞ্জস্যতা রয়েছে বলে অভিযোগ তুলেছেন নিহতের ঘনিষ্ঠ কয়েকটি সূত্র। তারা বলছেন, অবসরপ্রাপ্ত মেজর সিনহা সেই সময় আর্মি ইউনিফর্ম পড়া অবস্থায় ছিলেন বলে উল্লেখ করা হয়েছে। কিন্তু তিনি কম্বেট কালারের ফুল স্লিভ টি-শার্ট ও প্যান্ট পরিহিত ছিলেন। সচরাচর এই রঙের টি-শার্ট ও প্যান্ট বাজারে কিনতে পাওয়া যায় এবং অনেক সাধারণ মানুষ বিশেষ করে তরুণদের মাঝে এর ব্যাপক চল রয়েছে। যাচাই বাছাই ছাড়াই সেটিকে আর্মি ইউনিফর্ম দাবি করাটা আপত্তিকর।

অপর একটি সূত্রের দাবি, ঘটনা প্রসঙ্গে দায়িত্বশীল পর্যায়ের বিবৃতিতে ভিন্নতা রয়েছে। একবার বলা হচ্ছে উনার সঙ্গে একজন সঙ্গী ছিলেন। আবার বলা হচ্ছে দুইজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। আসলে তারা কয়জন ছিলেন? একটি পর্যায় থেকে মাদক সংক্রান্ত অভিযোগ থাকলেও অন্য সূত্র সেটি উল্লেখ করেনি কেন? তাছাড়া মেরিন ড্রাইভের সেই সড়কে অবস্থিত পুলিশ চেকপোস্টের আগে একটি বিজিবি চেকপোস্টও রয়েছে এবং সেদিন নিহত মেজর (অব.) সিনহা সেই বিজিবি চেকপোস্ট পার হয়েই সামনে এগিয়েছিলেন। তাদের ব্যাপারে স্থানীয়দের ডাকাত সন্দেহে পুলিশের কাছে যে অভিযোগ করা হয়েছিলো বলে দাবি করা হচ্ছে, পুলিশ কেন বিজিবি গার্ডপোস্টে সে সম্পর্কে অবগত করেনি?

বিশিষ্টজনদের মতে, স্পর্শকাতর এই ঘটনাটি সর্বোচ্চ গুরুত্বের সঙ্গে আমলে নিয়ে যথাযথ তদন্ত নিশ্চিত করতে হবে। তারা মনে করেন, পুলিশের গুলিতে নিহত অবসরপ্রাপ্ত এই সেনা কর্মকর্তার ইস্যুটি যাতে কোনো মহল গুজব ছড়ানো বা অবান্তর বিতর্ক উষ্কে দেয়ার মাধ্যম হিসেবে ব্যবহার না করতে পারে সে ব্যাপারেও সতর্কতা অবলম্বন করা অত্যন্ত জরুরি।

এসকে