• ঢাকা
  • শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর, ২০২০, ১০ আশ্বিন ১৪২৭
প্রকাশিত: আগস্ট ২, ২০২০, ০৬:৩২ পিএম
সর্বশেষ আপডেট : আগস্ট ২, ২০২০, ০৬:৩৩ পিএম

অবসরপ্রাপ্ত মেজর সিনহার মৃত্যু

এসআই লিয়াকতসহ ২১ পুলিশ সদস্যকে প্রত্যাহার

জাগরণ প্রতিবেদক
এসআই লিয়াকতসহ ২১ পুলিশ সদস্যকে প্রত্যাহার

কক্সবাজার-টেকনাফ মেরিনড্রাইভে পুলিশের গুলিতে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত মেজর সিনহা মো. রাশেদ খান নিহত হওয়ার ঘটনায় সেখান থেকে কর্তব্যরত ২১ পুলিশ সদস্যকে প্রত্যাহার করা হয়েছে।

রোববার (০২ জুলাই) স্থানীয় বাহারছড়া চেকপোস্টের ইনচার্জ লিয়াকতসহ অন্যদের প্রত্যাহারের আদেশ জারির পর প্রত্যহারাদেশ কার্যকর করা হয়।

এর আগে শুক্রবার (৩১ জুলাই) বাহারছড়ায় পুলিশের গুলিতে সাবেক সেনা কর্মকর্তা সিনহা রাশেদ নিহত হন।

এদিকে এ ঘটনায় প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। জানা গেছে, সংশ্লিষ্ট কার্যাদেশ বাস্তবায়নের অনুমোতপত্র হাতে না পৌঁছানোর কারণে এখনো কাজ শুরু করতে পারেনি কমিটি। তবে এই কমিটির মাধ্যমে স্পর্শকাতর এই ইস্যুটির নিরপেক্ষ এবং বস্তুনিষ্ঠ তদন্ত হবে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল।

রোববার (০২ আগস্ট) সকালে ধানমণ্ডির বাসায় সাংবাদিকদের মন্ত্রী আরো বলেন, তদন্ত সাপেক্ষে কেউ দোষী প্রমাণিত হলে, তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।
শুক্রবার রাতে কক্সবাজার-টেকনাফ মেরিন ড্রাইভ সড়কের শামলাপুর তল্লাশি চৌকিতে পুলিশের গুলিতে নিহত হন সাবেক মেজর সিনহা রাশেদ খান।

শনিবার (০১ আগস্ট) স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগ তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করে। কক্সবাজারের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেটকে কমিটির আহ্বায়ক করা হয়েছে।
কমিটির অন্য দুই সদস্য হলেন- জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার এবং ১০ পদাতিক ডিভিশনের জিওসি ও কক্সবাজার বাজার এরিয়া কমান্ডারের প্রতিনিধি। কমিটিকে সরেজমিন তদন্ত করে ঘটনার কারণ, উৎস অনুসন্ধান এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা প্রতিরোধে করণীয় ঠিক করতে নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।

এখন পর্যন্ত কী জানা গেছে, এমন প্রশ্নের উত্তরে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী তদন্ত চলার সময় কোনো মন্তব্য করতে অপারগতা প্রকাশ করেন। তদন্ত নিরপেক্ষ হবে বলেও আশ্বাস দেন তিনি।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল বলেন, 'একটা নিরপেক্ষ তদন্তের জন্য ৩ কমিটির সদস্য গঠন করা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীও সুষ্ঠু তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন। এই মুহূর্তে যা বলবো তাতেই একটা প্রভাব পড়তে পারে। তাই কিছুই বলতে চাচ্ছি না।

জানা গেছে, সাবেক মেজর সিনহা ২০১৮ সালে স্বেচ্ছায় সেনাবাহিনী থেকে অবসরে যান। তিনি অর্থমন্ত্রণালয়ের প্রাক্তন উপসচিব মুক্তিযোদ্ধা এরশাদ খানের ছেলে।
সংশ্লিষ্ট ইস্যুতে এই ২১ পুলিশ সদস্যকে প্রত্যাহারের মধ্যদিয়ে সাবেক এই সেনা কর্মকর্তা নিহতের ঘটনায় প্রথম কার্যকর পদক্ষেপ গৃহিত হলো।

প্রসঙ্গত, গত ৩১ জুলাই রাত সাড়ে ১০টার দিকে কক্সবাজার-টেকনাফ মেরিন ড্রাইভ সড়কে টেকনাফ উপজেলার বাহারছড়া ইউনিয়নের শামলাপুর চেকপোস্টে পুলিশের গুলিতে সেনাবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত মেজর এবং সাবেক এসএসএফ সদস্য সিনহা মো. রাশেদ খান (৩৬) নিহত হন। 

এ ঘটনা প্রসঙ্গে পুলিশের দাবি, নিরাপত্তা চৌকিতে দায়িত্বরত পুলিশ মেজর (অব.) সিনহার গাড়ি তল্লাশি করতে চাই তিনি তাতে বাধা দেন। এ নিয়ে পুলিশের সঙ্গে তর্ক-বিতর্কের এক পর্যায়ে মেজর সিনহা তার সঙ্গে থাকা পিস্তল বের করে গুলি চালানোর চেষ্টা করে। এ সময় 'আত্মরক্ষার্থে' তার ওপর গুলি চালান বাহারছড়া ফাঁড়ির দায়িত্বরত পুলিশ ইন্সপেক্টর লিয়াকত। পরে গুরুতর আহত অবস্থায় সিনহাকে কক্সবাজার সদর হাসপাতাজলে নেয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। এ সময় অবসরপ্রাপ্ত এই সেনা সদস্যের ব্যবহৃত গাড়ি তল্লাশি করে ৫০ পিস ইয়াবা, বিদেশি মদের বোতল, অল্প পরিমাণ গাঁজা, একটি বিদেশি পিস্তল ও ৯ রাউন্ড গুলি উদ্ধার করা হয় বলে দাবি করে পুলিশ।  সংশ্লিষ্ট ঘটনায় নিহত এই সেনা সদস্যের দুই সঙ্গীকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

এদিকে এই গুলির ঘটনা সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহে ঘটনাস্থল পরিদর্শনে যায় সেনাবাহিনীর একটি দল। স্থানীয় বেশ কয়েকজন গ্রামবাসী তখন তাদের দেখে এগিয়ে আসেন। এ সময় সেনা সদস্যদের কাছে এ প্রসঙ্গে বিস্তারিত তুলে ধরেন ঐ ঘটনার একাধিক প্রত্যক্ষদর্শী। যাদের মধ্যে স্থানীয় এক মসজিদের মোয়াজ্জিম এবং একজন ফেরিওয়ালা রয়েছেন। 

প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য মতে, একজন পুলিশের তাক করা অস্ত্রের মুখে দুই হাত ওপরে তুলে ধরে গাড়ি থেকে দুইজন লোক নেমে আসেন। তাদের একজন গাড়ির পেছন দিকে এসে দাঁড়ান। আরেকজন চালকের আসন থেকে  হাত উঁচু অবস্থায় নেমে এসে অস্ত্রধারী ঐ পুলিশের সামনে দাঁড়ান। তিনি পুলিশদের কিছু একটা বলে বোঝাতে চাইছিলেন ঠিক তখনই পিস্তল হাতে থাকা ঐ পুলিশ 'অফিসার কুত্তার বাচ্চা' বলেই তার বুকে গুলি চালিয়ে দেন। এতে ঐ ব্যক্তি সঙ্গে সঙ্গে মাটিতে লুটিয়ে পড়েন।

অপ্রত্যাশিত এই ঘটনার সুষ্ঠ ও নিরপেক্ষ তদন্ত নিশ্চিত করতে তাৎক্ষনিক পদক্ষেপ নেয় সরকার। দ্রুততম সময়ে বিশেষ কমিটি গঠনের মাধ্যমে বিষয়টি সুষ্ঠ ও নিরপেক্ষ তদন্তের বিস্তারিত প্রতিবেদন আগামী ৭ কার্যদিবসের মধ্যে দাখিলের নির্দেশনাও দেয়া হয়েছে।

এসকে