• ঢাকা
  • শনিবার, ২৮ মে, ২০২২, ১৪ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৯
প্রকাশিত: জানুয়ারি ১৭, ২০২২, ০৪:২৫ পিএম
সর্বশেষ আপডেট : জানুয়ারি ১৭, ২০২২, ০৪:২৫ পিএম

কুমিল্লায় ৪ বছরের শিশুকে ধর্ষণ করে হত্যা, শাস্তির দাবিতে বিক্ষোভ

কুমিল্লায় ৪ বছরের শিশুকে ধর্ষণ করে হত্যা, শাস্তির দাবিতে বিক্ষোভ
ধর্ষক মেহরাজ হোসেন তুষার। ছবি- জাগরণ।

কুমিল্লা সদর দক্ষিণ গলিয়ারা ইউনিয়নের ২০১৮ সালের ১৮ ডিসেম্বর কৃষ্ণ নগরে ৪ বছরের শিশু নাবিলাকে ধর্ষণ করার পর গলা টিপে হত্যা করে একই এলাকার ডাক্তার আলী আশ্রাফের পুত্র মেহরাজ হোসেন তুষার।

এমনই অভিযোগের আলোকে সোমবার (১৭ জানুয়ারি) সকালে কুমিল্লা আদালত প্রাঙ্গণে আইনজীবি, মানবাধিকার সংগঠন ও নাবিলার পরিবারসহ এলাকাবাসী মানববন্ধন করেন।

বাংলাদেশ মানবাধিকার কমিশন কুমিল্লা মহানগর শাখার উদ্যোগে মানববন্ধনে নাবিলার ধর্ষণকারী ও হত্যাকারির ফাঁসির দাবিতে বক্তব্য রাখেন সংগঠনের নেতৃবৃন্দ এসময় বাংলাদেশ মানবাধিকার কমিশন কুমিল্লা মহানগর শাখার সভাপতি তারিকুল ইসলাম লিটন, সহসভাপতি মোঃ দেলোয়ার হোসেন,যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জসিম উদ্দিন ভূইয়া, সাংগঠনিক সম্পাদক আক্তার জামিল,সহ সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুল হান্নান, আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক মোঃ আলমগীর হোসেন, আইন বিষয়ক সম্পাদক এ্যাডভোকেট মনির হোসেন ও আইনি সহায়তা প্যানেল সদস্য এ্যাডভোকেট ফাহমিদা রহমান সুপ্তিসহ অন্যান্যরা।

শিশু নাবিলার হত্যাকারির ফাঁসির দাবিতে মানববন্ধনে অশ্রু সিক্ত নয়নে প্রতিবাদে হত্যা হওয়া নাবিলার মা হালিমা আক্তার বলেন ধর্ষক তুষার পুলিশের কাছে স্বীকারোক্তি দিয়েছে সে আমার মেয়েকে ধর্ষণ করার পর গলা টিপে হত্যা করেছে। এরপরেও কেন এখনো আদালত এই নরপশুকে ফাঁসি দিচ্ছে না। আমি মাননীয় প্রধানমন্ত্রী দেশনেত্রী শেখ হাসিনার কাছে আকুল আবেদন জানাই আপনি একজন মা আপনি সন্তানের মর্ম বুঝেন আমার ছোট্ট শিশু নাবিলার কি দোষ ছিল তাকে ধর্ষণ করার পর হত্যা করেছে। আপনার কাছেআমার শিশুর নাবিলার ধর্ষণ ও হত্যাকারি তুষারের ফাঁসি দাবি করছি।

তিনি আরো বলেন আমার স্বামী কাতার প্রবাসী আবুল কালামকেও ধর্ষক তুষারের পরিবার হুমকি ধামকি দিচ্ছে এবং মামলার বাদী আমার শশুর আব্দুল আজিজ ও আমার আরেকটি শিশু সন্তানসহ আমাকে মামলা না তুলে নিলে মেরে ফেলার হুমকি দিচ্ছে। বর্তমানে আমি নিরাপত্তাহীনতায় দিন কাটাচ্ছি, কুমিল্লা জেলাপ্রশাসক, জেলা পুলিশ সুপার ও প্রশাসনের সকল স্তরের সকল সংস্থার কাছে আমার শিশু মেয়ে নাবিলার হত্যার বিচার ও আমাদের নিরাপত্তা কামনা করছি।

এদিকে মামলা পরিচালনা কারি আইনজীবী শরিফুল ইসলাম বলেন যেহেতু আসামি তুষার ১৬৪ ধারার জবানবন্দিতে স্বীকারোক্তি দিয়েছেন নাবিলাকে সে ধর্ষন করেন ও হত্যা করেন এবং মেডিক্যাল রিপোর্টেও ধর্ষণ ও হত্যার আলামত পাওয়া গিয়েছে তাই বিচারিক কাজটি দ্রুত হবে বলে আমি আশা করছি।

উল্লেখ্য, যে ২০১৮ সালের ১৮ ডিসেম্বর নাবিলাকে কোথাও খুজে না পেয়ে সদর দক্ষিণ থানায় সাধারণ ডায়েরি করেন নাবিলার পরিবার। পরদিন ১৯ ডিসেম্বর নাবিলার মৃতদেহ উদ্ধার করেন পুলিশ। এর পর নাবিলার দাদা আব্দুল আজিজ বাদী হয়ে মামলা দায়ের করেন। শিশু নাবিলাকে ধর্ষণ করে হত্যা করার প্রতিবাদে রাষ্ট্রের সুশীল সমাজ ও বিভিন্ন মানবাধিকার সংস্থা এবং সামাজিক সংগঠন ধর্ষণ ও হত্যাকারীর ফাঁসি দাবি করেন এবং বিচার বিলম্ব হলে আরো কঠোর কর্মসূচির হুশিয়ারী দেন।