• ঢাকা
  • শুক্রবার, ০১ জুলাই, ২০২২, ১৭ আষাঢ় ১৪২৯
প্রকাশিত: ফেব্রুয়ারি ২০, ২০২২, ০৬:৫১ পিএম
সর্বশেষ আপডেট : ফেব্রুয়ারি ২০, ২০২২, ০৬:৫৯ পিএম

ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রীঃ

বাংলায় মোবাইলের তথ্য পাওয়া একটি ঐতিহাসিক ঘটনা

বাংলায় মোবাইলের তথ্য পাওয়া একটি ঐতিহাসিক ঘটনা
ছবি- জাগরণ।

দেশের সকল মোবাইল অপারেটর এখন থেকে ইংরেজীর পরিবর্তে গ্রাহকদের নিকট মাতৃভাষা বাংলায় এসএমএস এবং নোটিফিকেশন পাঠাবে। ২১ ফেব্রুয়ারি আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষ‌্যে  বিটিআরসির উদ‌্যোগে এই কার্যক্রম চালু করা হয়। ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রী জনাব মোস্তাফা জব্বার আজ (২০ ফ্রব্রুয়ারি) ঢাকায় বিটিআরসি মিলনায়তনে গ্রাহকদের নিকট বাংলায় নোটিফিকেশন বা এসএমএস প্রেরণ কার্য়ক্রম আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করেন। 

বিটিআরসি‘র চেয়ারম‌্যান শ‌্যাম সুন্দর সিকদারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে ডাক ও টেলিযোগাযোগাযোগ বিভাগের সচিব মো: খলিলুর রহমান বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানে  বিটিআরসি‘র ভাইস চেয়ারম‌্যান সুব্রত রায় মৈত্র টেলিটক বাংলাদেশ লিমিটেড-এর ব‌্যবস্থাপনা পরিচালক মো. সাহাব উদ্দিন, গ্রামীণ ফোনের সিইও ইয়াসির আজমান, রবি'র ভারপ্রাপ্ত সিইও রিয়াজ রশিদ এবং বাংলা লিংক-এর ভারপ্রাপ্ত সিইও তৈমুর রহমান বক্তব্য রাখেন। অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বিটিআরসি‘র মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল নাসিম পারভেজ।

এই উপলক্ষ‌্যে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রী বলেন, বাংলায় এসএমএস বা নোটিফিকেশন রূপান্তরের পেছনের  কাজগুলো চ‌্যালেঞ্জিং ছিল কিন্তু তা সত্ত্বেও সেটি করা হয়েছে।  এই ঘটনাটি মাতৃভাষা, মা-মাটি ও মাতৃভূমির জন‌্য একটি ঐতিহাসিক ঘটনা হিসেবে মন্ত্রী  উল্লেখ করেন। তিনি বলেন প্রযুক্তিগত দিক থেকে কোন ভাষা থেকে বাংলা ভাষা পিছিয়ে নেই। এমন কোন ডিভাইস বা যন্ত্র নেই যেখানে বাংলা লেখা যাবে না উল্লেখ করে ডিজিটাল প্রযুক্তিতে বাংলা ভাষার এই উদ্ভা্বক বলেন, ১৯৮৭ সালে ইউনিকোড কনসোর্টিয়াম হওয়ার সময়ও বাংলার প্রকৃত রূপ ছিল না– অনেক বর্ণমালা বাদ দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু আমি নিজে সেই বর্ণগুলো যুক্ত করাই। এরপর ইন্টারনেটে ব্যবহার করার যেসব সংকাট ছিলো সেসবও দূর করা হয়েছে। বাংলার এনকোডিং ও কীবোর্ডও এখন প্রমিত। তাই প্রযুক্তিতে বাংলা ভাষা ব‌্যবহার করা কঠিন এই অজুহাত দেওয়ার কোন সুযোগ নেই।

মন্ত্রী বলেন, একুশ আমাদের অহংকার। বাংলা ভাষা আন্দোলনের পথ বেয়েই বাঙালির জাতি রাষ্ট্র বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা লাভ করেছে। বঙ্গবন্ধু কেবল ভাষা আন্দোলন করে দেশটাকে গড়ে তুলেননি। তিনি বলেছিলেন‘ আমরা স্বাধীনতা পেলে আমাদের দাপ্তরিক ভাষা হবে বাংলা ‘– বঙ্গবন্ধু তাই করেছিলেন। তিনি মুনির কীবোর্ডকে পূর্ব জার্মানীর অপটিমা কোম্পানির সহায়তায় অপটিমা মুনির টাইপ রাইটার যন্ত্রটি তৈরির ব‌্যবস্থা তিনি করেছিলেন বলে মন্ত্রী উল্লেখ করেন। তিনি বলেন এরই ধারাবাহিকতায় তিনি অফিস আদালতে বাংলা চালু করেছিলেন। সর্বত্র বাংলা চালুর ব‌্যাপারে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার গৃহীত বিভিন্ন কর্মসূচি তুলে ধরে ডিজিটাল প্রযুক্তি বিকাশের অ্গ্রদূত জনাব মোস্তাফা জব্বার বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দিকনির্দেশনায় আজকের এই কাজটি করতে পারার মতো পরম আনন্দ আর হতে পারে না। আজকের দিনটি ঐতিহাসিক, স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তীতে এই অসাধারণ কাজটি করতে পারা আমার জীবনের বড় অর্জন।' আগামী জুনের মধ‌্যে শতভাগ এসএমএস বা নোটিফিকেশন গ্রাহকদের কাছে বাংলায় পাঠাতে মোবাইল অপারেটরদেরকে মন্ত্রী নির্দেশ দেন। 

বিশেষ অতিথির বক্তৃতায় ডাক ও টেলিযোগাযোগ সচিব মো: খলিলুর রহমান ডিজিটাল মাধ‌্যমে সর্বত্র বাংলা ভাষার প্রয়োগ অব‌্যাহত রাখার জন‌্য সংশ্লিষ্টদের প্রতি আহ্বান জানান। তিনি বাংলা এসএমএস ও নোটিফিকেশন পাঠানোর কার্য়ক্রমটি বাংলা ভাষার জন‌্য যুগান্তকারী কাজ বলে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, তিনি সরকারের কার্যক্রমে বাংলা প্রয়োগের ওপর গুরুত্বারোপ করে বলেন, ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগের বিভিন্ন পুরনো আইন, বিধি-বিধান যা ইংরেজিতে ছিলো তা বাংলায় করা হচ্ছে। 

অনুষ্ঠানে সভাপতির বক্তৃতায় বিটিআরসি‘র চেয়ারম‌্যান শ‌্যাম সুন্দর সিকদার বলেন, বাংলা ভাষার প্রতি ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রীর অদম‌্য ভাল বাসার কারণেই আমরা আজ বাংলায় এসএসএমস বা নোটিফিকেশন গ্রাহকদের কাছে পৌঁছাতে সক্ষম হয়েছি। তিনি প্রতিযোগিতা নয় দায়বদ্ধতা থেকেই প্রযুক্তিতে বাংলা ব‌্যবহারে সকলকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান।

 

এসকেএইচ//