• ঢাকা
  • বুধবার, ০৬ জুলাই, ২০২২, ২২ আষাঢ় ১৪২৯
প্রকাশিত: মে ২৮, ২০২২, ০৯:০৪ পিএম
সর্বশেষ আপডেট : মে ২৮, ২০২২, ০৩:০৪ পিএম

নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যসামগ্রীর বাজারে অস্থিরতা

নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যসামগ্রীর বাজারে অস্থিরতা

ভারতের গম রপ্তানি বন্ধ ও চিনি রপ্তানি সীমিত করার খবরে দেশের বাজারে বেড়ে গেছে আটা-ময়দা ও চিনির দাম। আবার কোরবানির ঈদ সামনে রেখে কাঁচা চামড়ায় ব্যবহারের বাড়তি চাহিদা মাথায় নিয়ে আগাম বাড়িয়ে দেয়া হয়েছে লবণের দামও।

দেশে নিত্যপ্রয়োজনীয় এসব পণ্যের মজুত চাহিদার চেয়ে বেশি থাকার পরও এসবের অতিরিক্ত মূল্যবদ্ধিকে অযৌক্তিক মনে করছে ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন ফেডারেশন অফ বাংলাদেশ চেম্বার অফ কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (এফবিসিসিআই)।

উদ্ভূত পরিস্থিতিতে জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে মিল মালিকদের কাছে ডিলারদের তালিকা চেয়েছে ব্যবসায়ী সংগঠনটি। এর আগে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় ও এফবিসিসিআই কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত পর পর দুটি বৈঠকেও ডিলারদের তালিকা চাওয়া হয়।

নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যসামগ্রীর মজুত, আমদানি, সরবরাহ ও মূল্য পরিস্থিতি বিষয়ে শনিবার রাজধানীর মোহাম্মদপুর টাউন হল ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন কাঁচাবাজার বণিক সমিতির সঙ্গে বৈঠকে ডিলারদের তালিকা চাওয়া হয়।

এদিকে দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে রাখতে রাজধানীসহ সারা দেশে বিভিন্ন সংস্থার নিয়মিত মনিটরিং অব্যাহত রয়েছে। কোথাও কোনো কারসাজির ঘটনা দেখলেই পাইকারি ও খুচরা বিক্রেতাদের আইনের আওতায় আনা হচ্ছে। পণ্যগুলোর সরবরাহকারী কোম্পানির কারখানায়ও অভিযান চালিয়ে আমদানি, মজুত ও সরবরাহ পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।

তবে মধ্যস্বত্বভোগী ডিলাররা বরাবরই থেকে যাচ্ছে ধরাছোঁয়ার বাইরে। সাম্প্রতিক সময়ে ভোজ্যতেল ইস্যুতেও ডিলারদের ভূমিকা ছিল প্রশ্নবিদ্ধ।

সামনে কোরবানির ঈদ। বাজারে চাহিদাযোগ্য সব ধরনের নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দামে স্থিতিশীলতা রাখতে এবার এফবিসিসিআই আটা, ময়দা, চিনি, লবণ ইত্যাদি পণ্যের ডিলারদের তালিকা চেয়েছে মিল মালিকদের কাছে।

মোহাম্মদপুর টাউন হলে অনুষ্ঠিত বৈঠকে বক্তব্য দেন এফবিসিসিআইর সিনিয়র সহ-সভাপতি মোস্তফা আজাদ চৌধুরী বাবু। ভোগ্যপণ্যের বৈশ্বিক বাজার সংকট এবং কোরবানির ঈদকে পুঁজি করে দেশের বাজার অস্থির না করে সরকার নির্ধারিত মূল্যে পণ্য বিক্রি করতে ব্যবসায়ীদৈর প্রতি আহ্বান জানান তিনি। এ বিষয়ে তিনি বাজার কমিটিকে বিশেষভাবে তদারকি করারও নির্দেশনা।

ব্যবসায়ীদের উদ্দেশ করে বাবু বলেন, ‘কোনো ব্যবসায়ী পণ্য মজুত করে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করলে এবং সরকার নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে বেশি দামে পণ্য বিক্রি করে বাজার অস্থিতিশীল করার চেষ্টা করলে এফবিসিসিআই তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে সরকারকে সুপারিশ করবে। কোনো ডিলার এ সংকটের জন্য দায়ী হলে তার ডিলারশিপ বাতিলে মিল মালিকদের প্রতি চাপ প্রয়োগ এবং সরকারের কাছেও আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়ার জোর সুপারিশ করা হবে।’

কোন কোম্পানির ডিলার কোথায় কারা তার তথ্য নেই এফবিসিসিআইতে। তাই তিনি চিনি, লবণ, আটা, ময়দা ইত্যাদি পণ্যের ডিলারদের তালিকা এফবিসিসিআইতে পাঠানোর জন্য মিল মালিকদের প্রতি আহ্বান জানান।

বৈঠকে বাজার সমিতিগুলোকে দোকানিদের নিয়ে মসলা, লবণ, চিনি ইত্যাদি খাতভিত্তিক সভা করার পরামর্শ দেয়া হয়। দোকানে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্যতালিকা টানানোসহ সীমিত মুনাফায় ব্যবসা পরিচালনা করতে সংশ্লিষ্ট মার্কেটের ব্যবসায়ীদের বাধ্য করতেও সমিতিগুলোকে ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান মোস্তফা আজাদ চৌধুরী বাবু।

এফবিসিসিআইর এই সিনিয়র সহ-সভাপতি আবারো ১৫ দিন পর পর সয়াবিন তেলের দাম সমন্বয়ের সুপারিশ করেন।

বৈঠকে বাজারে স্থিতিশীলতা রাখতে প্রয়োজনের তুলনায় বাড়তি পণ্য না কিনতে ভোক্তাদের প্রতি আহ্বান জানান এফবিসিসিআইর পরিচালক আবু মোতালেব।

মোহাম্মদপুর টাউন হল ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন কাঁচাবাজার বণিক সমিতির সভাপতি মো. লুৎফর রহমান (বাবুল) জানান, যেসব দোকানি পণ্য মজুত ও সরকার নির্ধারিত মূল্যের বেশি দামে পণ্য বিক্রির চেষ্টা করেছে, সমিতি তাদের দোকান বন্ধ করে দিয়েছে। বাজার স্থিতিশীল রাখার স্বার্থে ভবিষ্যতেও অসাধু ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে একই ধরনের ব্যবস্থা নেয়া হবে।

বৈঠকে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন এফবিসিসিআই’র পরিচালক বিজয় কুমার কেজরিওয়াল, হারুন অর রশীদ, মোহাম্মদপুর টাউন হল সিটি করপোরেশন বাজার সমিতির সাধারণ সম্পাদক মো. মুসলিম উদ্দিন শিকদার প্রমুখ।