• ঢাকা
  • শনিবার, ০৮ আগস্ট, ২০২০, ২৪ শ্রাবণ ১৪২৭
প্রকাশিত: এপ্রিল ২৯, ২০২০, ০৮:৫৪ পিএম
সর্বশেষ আপডেট : এপ্রিল ২৯, ২০২০, ০৮:৫৪ পিএম

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়

কেটে ফেলা হয়েছে প্রায় ৪০ টি পাম গাছ

জাগরণ ডেস্ক
কেটে ফেলা হয়েছে প্রায় ৪০ টি পাম গাছ
সংগৃহীত ছবি

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) প্রশাসন ভবনের সামনের প্রায় ৪০টি পামগাছ কেটে ফেলা হয়েছে। করোনা পরিস্থিতিতে দেশব্যাপী চলমান সাধারণ ছুটির মধ্যেই গত সপ্তাহে গাছগুলো কেটে ফেলেছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।

ক্যাম্পাস সূত্রে জানা যায়, প্রায় ৩০ বছর আগে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসন ভবনের সামনে ‘ফিস্টেল পাম’ নামের এই গাছগুলো লাগানো হয়। কেটে ফেলা এসব গাছের ছবি সামাজিকমাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ায় শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে।

রাবির উদ্ভিদ বিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. এম কে আজাদ ফেসবুকে গাছ কেটে রাখার কিছু ছবি শেয়ার করেছেন। সেখানে তিনি লিখেছেন, ‘করোনা তোদেরও বাঁচতে দিল না! আজ রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান গেটের তথা প্রশাসন ভবনের সামনে সারি সারি দাঁড়ানো পাম গাছগুলো কেটে ফেলা হলো। জানি না তাদের কী অপরাধ ছিল।’

প্রজ্ঞা লাবনী নামের এক শিক্ষার্থী লিখেছেন, ‘রাবি প্রশাসন এর সমস্যা কি? ক্যাম্পাস বন্ধ থাকার এই সুযোগে তারা কেন এভাবে এই পুরাতন গাছগুলা কেটে ফেলছে। পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতার দোহাই নাকি সৌন্দর্য বর্ধন, কোন উদ্দেশ্যে তারা একাজ করছে?’

সাহানাত হোসেন বাবু নামে বিশ্ববিদ্যালয়ের এক সাবেক শিক্ষার্থী লিখেছেন, ‘সৌন্দর্য বর্ধন ও উন্নয়নের নামে ক্যাম্পাসের গাছ কেটে খেয়ে ফেলেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। ক্যাম্পাসের গাছ কাটা বন্ধে পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি।’

উদ্ভিদবিজ্ঞান বিভাগের সভাপতি অধ্যাপক গোলাম কবির বলেন, এ গাছগুলো আরও আগেই কাটার প্রয়োজন ছিল। বেশিরভাগ গাছই ছত্রাক আক্রান্ত হয়ে মারা গেছে। আমি তখনই বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে এ ব্যাপারে অবহিত করেছিলাম। কারণ এক গাছ থেকে আরেক গাছে ছত্রাক ছড়াচ্ছিল। তাছাড়া এই গাছগুলোর কাঠেরও তেমন মূল্য নেই আর।

বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক আনন্দ কুমার সাহা বলেন, আমাদের বাস্তবতা মানতে হবে, গাছগুলোর বয়স হয়েছে। এছাড়া ছত্রাক আক্রান্ত থাকায়, দ্রুতই মারা গেছে বেশিরভাগ গাছ। এ বিষয়ে আমরা উদ্ভিদবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষকদের সঙ্গে যোগাযোগ করেছিলাম এবং সেই সময় থেকে বিভিন্ন বিশেষজ্ঞের মাধ্যমে যত্ন নিয়েও তা থামানো যাচ্ছিল না। পরে যথাযথ প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে গাছ কাটার সিদ্ধান্ত হয়, এখানে অন্য কোনও উদ্দেশ্য নেই।

তিনি আরও বলেন, সামনের বর্ষাকে সামনে রেখে গাছগুলো কাটা হয়েছে। যাতে এখানে নতুন গাছ লাগানো যায়। আগামী জুন মাসের প্রথম সপ্তাহে এখানে ‘বোটল পাম’ নামে এক ধরনের পাম গাছ লাগানো হবে। ডেইলিস্টার।

এসএমএম