• ঢাকা
  • বুধবার, ১৩ নভেম্বর, ২০১৯, ২৮ কার্তিক ১৪২৬
প্রকাশিত: আগস্ট ১৩, ২০১৯, ০২:১০ পিএম
সর্বশেষ আপডেট : আগস্ট ১৩, ২০১৯, ০২:১০ পিএম

বর্জ্য অপসারণ শুধু বক্তব্যেই সীমাবদ্ধ!

তোফাজ্জল হোসেন 
বর্জ্য অপসারণ শুধু বক্তব্যেই সীমাবদ্ধ!
কোরবানি ঈদের পরদিন মঙ্গলবার সকালে রাজধানীর সড়ক-মহাসড়কে এভাবেই বর্জ্য পড়ে থাকতে দেখা গেছে - ছবি : কাশেম হারুন

কোরবানির ২৪ ঘণ্টার মধ্যে রাজধানীকে বর্জ্যমুক্ত করার ঘোষণা দেয়া হলেও বাস্তবে তা কতটা হয়েছে- এ নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের মেয়র মো. আতিকুল ইসলাম প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন, মঙ্গলবার বেলা ১টার মধ্যে ঈদের দিনের কোরবানির সব বর্জ্য অপসারণ হবে। তবে রাজধানীর বিভিন্ন রাস্তায় যেভাবে আবর্জনা ছড়িয়ে-ছিটিয়ে আছে তাতে ৪০ শতাংশ কাজ এখনও বাকি বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। 

সোমবার ঈদের নামাজ আদায়ের পর রাজধানীবাসী ব্যস্ত হয়ে পড়েন পশু জবাইয়ে। সিটি করপোরেশনের জন্য অপেক্ষায় না থেকে অনেকেই বাড়ির আশপাশের ময়লা সুনির্দিষ্ট স্থানে জড়ো করে রাখেন। সরেজমিনে দেখা গেছে, ঢাকা উত্তর সিটির ৩০ নম্বর ওয়ার্ডের রিংরোডে মূল সড়কে ময়লা রেখে পরিবেশ নষ্ট করা হয়েছে। এমন দৃশ্য আরো বিভিন্ন এলাকার।

এদিকে ডেঙ্গু প্রতিরোধে সচেতনতার অংশ হিসেবে আবাসিক এলাকায় বেশিরভাগ বর্জ্য প্রাথমিকভাবে পরিষ্কার করেছেন সাধারণ মানুষই। তবে থেমে নেই ঢাকার দুই সিটি করপোরেশনও। রাজপথের বর্জ্য সরিয়ে পানি ও ব্লিচিং পাউডার প্রয়োগ করছে তারা।

ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের উপ-বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা মিল্লাতুল ইসকাম বলেন, সোমবার রাত ১০টা নাগাদ তারা ২০ হাজার টন বর্জ্য অপসারণ করেছেন। মঙ্গলবার বিকালের আগে আরও প্রায় ৭ হাজার টন বর্জ্য অপসারিত হবে। বাস্তবে যথাসময়ে ময়লা অপসারণ শেষ হবে কি? জানতে চাইলে তিনি বলেন, আশা করা হচ্ছে তা হয়ে যাবে।

তবে পুরান ঢাকার বাসিন্দা সারোয়ার হোসেন দৈনিক জাগরণকে বলেন, মেয়র হানিফ সাহেবের সোনালী ইতিহাস সব শেষ করে দেয়া হচ্ছে। এর জ্বলন্ত প্রমাণ মশা নিধনে নকল ওষুধ ছিটানোর কারণে মানুষের ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হওয়া। বর্তমান মেয়র সাঈদ খোকন চান শুধুমাত্র মিডিয়া কভারেজ। সারোয়ার হোসেন অভিযোগ করে বলেন, সব মিলিয়ে ৩০ হাজার টন বর্জ্য অপসারণ করা হয়েছে বলা হলেও বাস্তবে এ তথ্য সঠিক নয়।

ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন এ বছর ২৭৩টি স্থানে পশু কোরবানির ব্যবস্থা করেছে। এ ছাড়াও জবাইয়ের জন্য ৪০০টি স্থান চিহ্নিত করে দিয়েছে। ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন পশু জবাইয়ের জন্য ৬০২টি স্থান নির্ধারণ করে দিয়েছে। তবুও কেউ নিজ বাসভবনে, কেউ ভবনের পাশে সরু সড়কে আবার কেউ নগরীর প্রধান সড়কে পশু জবাই করেছেন। সিটি করপোরেশনের ডাকে রাজধানীবাসীর সাড়া না মেলায় এই কার্যক্রমে কিছুটা জটিলতা দেখা দেবে বলে মন্তব্য করেছেন ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের মেয়র আতিকুল ইসলাম। সোমবার দুপুর ২টায় রাজধানীর উত্তরা ১৫নং সেক্টরের ২নং ব্রিজের পশ্চিম পাশে বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কার্যক্রম উদ্বোধন করতে গিয়ে তিনি একথা বলেন।

ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রধান বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা মো. মঞ্জুর হোসেন বলেন, নির্ধারিত স্থানে পশু কোরবানি না দেয়ায় পরিবেশ আরও বেশি দূষিত হয়েছে। আমাদের কাজ করতে অসুবিধা হচ্ছে। সময় একটু বেশিই লাগছে।

ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের অঞ্চল-১ এর দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা বাসুদেব সরকার বলেন, ঈদের দিন ৫০০ টনের মতো বর্জ্য উৎপাদন হয়েছে। রাতের মধ্যে অধিকাংশ বর্জ্যই সরিয়ে ফেলেছি। যতক্ষণ পর্যন্ত না সব বর্জ্য আমরা সরাব, কাজ টানা চলতে থাকবে।

ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের অঞ্চল-৫ ও অঞ্চল-১০ এর দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মফিজুর রহমান জানান, সোমবার বিকাল ৫টা পর্যন্ত তার অঞ্চলের ৭০ শতাংশ বর্জ্য অপসারিত হয়েছে। কারওয়ানবাজার, ফার্মগেইট, লালমাটিয়া, মোহাম্মদপুর অঞ্চল-৫ এর আওতাধীন এবং বাড্ডা, সাতারকুঁল ও বেরাইদ এলাকা অঞ্চল-১০ এর আওতাধীন।

মফিজুর রহমান ভুঁইয়া বলেন, প্রধান সড়কগুলো থেকে বর্জ্য অপসারণের কাজ আমরা প্রায় শেষ করে ফেলেছি। তবে খবর আসছে, এখনও বেশকিছু গলিতে স্থানে স্থানে বর্জ্যের বস্তা পাওয়া যাচ্ছে। আমাদের পরিচ্ছন্নতা কর্মীরা কাজ করছেন। রাতভর কাজ চলবে। আমরা যত দ্রুত সম্ভব বর্জ্য অপসারণ করব।

এবছর কোরবানির পশুর বর্জ্য অপসারণের জন্য বিশেষ পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমের আওতায় উত্তর সিটির নিজস্ব ২,৪০০ এবং বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় ১,৪৩৫ জন পরিচ্ছন্নতাকর্মী কাজ করছেন। আরও ১,১০০ পরিচ্ছন্নতাকর্মী এবং বাসা-বাড়ি থেকে ভ্যান সার্ভিসের মাধ্যমে বর্জ্য সংগ্রহ করার জন্য প্রায় ৪ হাজার ৫০০ জন শ্রমিক কোরবানির বর্জ্য অপসারণে নিয়োজিত রয়েছেন। ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের ৫,২৪১ জন কর্মীর পাশাপাশি ১,২৫২ জন কর্মীকে অস্থায়ীভাবে নিয়োগ দেয়া হয়েছে। পাশাপাশি কোরবানির পশুর হাট পরিষ্কারের কাজে থাকবেন আরও ১,৯৫৪ জন। 

রাজধানীতে এবার বসেছিল ২৪টি গরুর হাট। বেচাকেনা শেষে ইজারাদারদেরই বাঁশের খুঁটি খুলে নেয়ার কথা থাকলেও সেই তৎপরতা চোখে পড়েনি। আফতাবনগর হাটে দুটি মরা গরু পড়ে থাকতে দেখা গেছে। তবে সবগুলো হাটেই সিটি করপোরেশনের পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের বর্জ্য অপসারণে কাজ করতে দেখা গেছে। দুই মেয়র  জানিয়েছেন, ভবিষ্যতে হাট শেষে বাঁশের খুঁটি না সরালে ইজারাদারদের জরিমানা করা হবে। 

নগর পরিকল্পনা প্ল্যানার্স এসোসিয়েশনের নেতা আদেল মোহাম্মদ দৈনিক জাগরণকে বলেন, ঈদে কোরবানি বর্জ্য সরাতে একটু সময় লাগতেই পারে। এজন্য দুই মেয়রের ২৪ ঘণ্টার আল্টিমেটাম দেয়ার প্রয়োজন হয় না। তারা নিজেরাই কথা দিয়ে কথা রাখতে পারেন না। বরং উল্টাপাল্টা কথা বলে সমালোচিত হচ্ছেন।

টিএইচ/ এফসি

আরও পড়ুন