• ঢাকা
  • রবিবার, ১৫ সেপ্টেম্বর, ২০১৯, ৩১ ভাদ্র ১৪২৬
প্রকাশিত: জুন ৫, ২০১৯, ০৪:২৯ পিএম
সর্বশেষ আপডেট : জুন ৫, ২০১৯, ০৫:৪৩ পিএম

তবে কি সত্যিই ছিল ড্রাগন!

এস এম সাব্বির খান
তবে কি সত্যিই ছিল ড্রাগন!

জলাভূমি সংলগ্ন শ্যাঁতশ্যাঁতে কোনো পাহাড়ের বুকে বা জলের গভীরে কোন অন্ধকার গুহায় ঘুমন্ত ভয়াল দর্শন কোনো ড্রাগনের গল্প নিশ্চয় কারো অজানা নয়। জেগে গেলেই সর্বনাশ! ক্ষুব্ধ ড্রাগনের মুখ থেকে বেরিয়ে আসা আগুনে জ্বলসে যাওয়া বা তার আহারে পরিণত হওয়া থেকে তখন আর নিস্তার পাবার সুযোগ নেই! তবে তার সবই সিনেমা, কল্পকাহিনী গাঁথা আর রূপকথার মাঝেই সীমাবদ্ধ। চীন বা জাপানের মানুষের কাছে কিন্তু মোটেই তা নয়। বরং রীতিমত দেবতা তুল্য এই মহাশক্তিধর প্রাণীটির অস্তিত্ব মিশে আছে তাদের ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক সত্ত্বার সঙ্গে। শুধু তাই নয়, এই ড্রাগনের অস্তিত্বের কথা শোনা গেছে বাংলাদেশে সহ পৃথিবীর আরও বহু দেশে।

বাংলাদেশের বগালেক সম্পর্কিত প্রাচীন লোকগাঁথায় বলা হয়, বিশাল জলরাশির আধার এই ঝিলটির পাড়ে অবস্থিত পাহাড়ের গুহায় বাস করতো এক ড্রাগন। নিজেদের রক্ষার্থে একদিন সংলগ্ন একটি গ্রামের একদল সাহসী যুবক সেই ড্রাগনটিকে হত্যা করে। সিলেটের সে অঞ্চলের আঞ্চলিক ভাষায় 'বগা' শব্দটির অর্থ 'ড্রাগন' বলে জানা যায়।  

স্লোভেনিয়ার গভীর জলদেশে ওলমের বিচরণ- ছবি: ইন্টারনেট

এত সব গল্প-কথায় যে কারো মনে প্রশ্ন জাগতে পারে, সত্যিই কি তবে ডাইনোসরের মত কোনো কালে এই পৃথিবীর বুকে দাপিয়ে বেড়িয়েছে ড্রাগনেরা? যদি সেটা হতো তবে ডাইনোসরের মত প্রাগৈতিহাসিক প্রাণীগুলো যেমন নিজেদের অস্তিত্বের সত্যতা জানান দিতে রেখে গেছে উত্তরসূরী, তারাও তো রেখে যেত। প্রাণীর বিবর্তনবাদ তত্ত্বের মাধ্যমে আজকের মানুষ যেমন জেনেছে সেই দানবীয় যুগের বিশাল দাঁতের হিংস্র স্যাবরদের উত্তরসূরী আজকের ব্যাঘ্রকূল বা বিশালাকায় ম্যামথেরা তাদের পরিবারের প্রতিনিধিত্ব করতে রেখে গেছে হাতিদের; ড্রাগনেরা কি এমন কাউকে রেখে গেছে? আকৃতি ও গঠনের সঙ্গে সাদৃশ্য থাকায় অনেক সময় অনেক সরীসৃপকেই ড্রাগনের উত্তরসূরী মনে করা হলেও প্রচলিত গল্পকথায় ড্রাগনের যে বৈশিষ্ট্যগুলো জানা যায়, তাদের সাথে তার বিশেষ দিকগুলোর তেমন কোন মিল পাওয়া যায়নি। আর তাই যুগ যুগ ধরে সেই সব কল্পকাহিনীর রাজা হয়েই রয়ে গেছে তারা।

কিন্তু জোসেফাস নিকোলাউস ল্যোরেন্তে নামের এক ইতালীয় বংশোদ্ভূত অস্ট্রিয়ান জীব বিজ্ঞানীর অনুসন্ধানী গ্রন্থের আলোকে জানা গেছে ইউরোপের দেশ স্লোভেনিয়া ও তার পার্শ্ববর্তী অঞ্চলের জলমগ্ন দুনিয়ার অতলে বসবাস করছে এমন এক প্রাণী যাদের এই ড্রাগনের আদর্শ উত্তরসূরী বললে মোটেই বাড়িয়ে বলা হবে না। তারও আগে এই প্রাণীটির কথা আলোচনায় আনেন স্লোভেনিয় প্রকৃতিবিজ্ঞানী ভালভাস্যর। স্লোভেনিয়ার জাতীয় প্রাণী হিসেবে নির্ধারিত এই মেরুদন্ডী জলজ প্রাণীটির বাস গভীর সমুদ্রের বুকে নিমজ্জিত লাইমস্টোন পর্বতের অন্ধকার গুহায়। তবে মিঠাপানির জলাভূমি সংলগ্ন অঞ্চলেও সানন্দে টিকে থাকতে পারে ওলমেরা। শুধু আলো থেকে দূরে থাকা চাই এদের, ঠিক পূর্বজদের মতই। যাদের দৈহিক আকৃতি, খাদ্য বৈচিত্র্য, বাস্তুসংস্থান বা স্বভাবের অনেকটা অংশজুড়েই রয়েছে পূর্বশূরীদের ধাচ!

আসুন তবে জেনে নেয়া যাক ওলমদের সম্পর্কে এমন কিছু তথ্য যা তাদের বৈশিষ্ট্য প্রকাশের পাশাপাশি অনেক ক্ষেত্রে পূর্বজদের সাথে নিজেদের সাদৃশ্যেরও জানান দিচ্ছে।

ওলমদের মাংসল ত্বকের কারণে অনেকে এদের 'মৎস্য মানব' নামে অবিহিত করেন- ছবি: ইন্টারনেট

II ওলম-এর পরিচিতি II

ওলম (ইংরেজি: Olm) বা প্রটিয়াস (বৈজ্ঞানিক নাম: প্রটিয়াস এঙ্গুইনাস) হল প্রটিডে (মসৃণ ত্বকের জলজ সরীসৃপ) প্রজাতির প্রাণী যারা শতবর্ষজীবী! একটি গবেষণায় উল্লেখ করা হয় যে এদের আয়ু সর্বোচ্চ ১০০ বছরের উপরও হতে পারে এবং গড় আয়ু ৬৮.৫ বছর।  ওমেরা মাংসাশী প্রজাতির প্রাণী এবং এদের একটি বিশেষ প্রজাতি, ব্ল্যাক ওমেরা ছোট হলেও বেশ হিংস্র।  এদের দেহের আয়তনের হিসেবে এরা অন্যান্য উভচরদের তুলনায় অনেক বেশীদিন বাঁচে। ওলম এক ধরনের জলজ সালাম্যান্ডার বা সরীসৃপ। এদের অনুসন্ধানে জানা যায়, ইউরোপের জলমগ্ন গুহায় বসবাসকারী একমাত্র মেরুদন্ডী প্রজাতির প্রাণী এই ওলম।  এরা অন্যান্য উভচর প্রাণীর বিপরীত, এবং এরা সম্পূর্ণভাবে জলজ প্রাণী; এরা খাওয়া দাওয়া করে, ঘুমায় এবং শ্বাস নেয় পানির নীচে। দিনারিক আল্পসের গুহায় বসবাসকারী এই প্রাণীটি সে অঞ্চলের মাটির নীচে বয়ে যাওয়া পানিতে বিচরণ করে। মধ্য ও দক্ষিণ পশ্চিম ইউরোপের কার্স্ট অঞ্চল, বিশেষ করে দক্ষিণ স্লোভেনিয়া, ট্রিস্টে, ইতালি, দক্ষিণ-পশ্চিম ক্রোয়েশিয়া, এবং বসনিয়া-হার্জেগোভিনায় এদের দেখা যায়।

এদের মাংশল রঙের চামড়ার কারণে ‘মনুষ্য মৎস’ বা 'হিউম্যান ফিস' নামেও এরা পরিচিত। এছাড়া ‘কেভ সালাম্যান্ডার’ বা ‘সাদা সালাম্যান্ডার’ নামেও পরিচিতি আছে এদের। ১৬৮৯ সালে স্থানীয় স্লোভেনীয় প্রকৃতিবিজ্ঞানী ভালভাস্যর তাঁর 'গ্লোরি অফ দ্য ডাচি অব কার্নিওলা' গ্রন্থে সর্বপ্রথম ওম-এর কথা উল্লেখ করেন। নি তার বিবরণে বলেন যে, প্রচন্ড বৃষ্টির পর এই ওমরা মাটির নীচের পানি থেকে ভেসে উঠে আসে এবং স্থানীয় বাসিন্দারা মনে করেন এরা কেভ ড্রাগনের সন্তান-সন্ততি। প্রাগৈতিহাসিক ড্রাগনদের ক্ষেত্রে একটি কথা প্রচলিত আছে যে প্রবল বর্ষণের সময় জলের গভীর থেকে উঠে আসে এরা রাতের অন্ধকারে, শিকারের খোঁজে।

ওলমের মাথার দু'ধারে অবস্থিত  মেকানো এবং ইলেক্ট্রোরিসেপ্টর ইন্দ্রিয় যা ইলেক্ট্রো-ম্যাগনেটিক শক্তি দাহ্রনে সক্ষম- ছবি: ইন্টারনেট

এই প্রাণীটির সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য দিক হল যে এরা মাটির নীচের সম্পূর্ণ অন্ধকারে খুব ভালভাবে খাপ খাইয়ে বসবাস করতে পারে। ওমদের চোখগুলো মোটা ত্বকের স্তরের নিচে নিমজ্জিত, যেমন ড্রাগনদের চোখ তাদের ত্বকের বর্ণের মাংসল পর্দায় ঢাকা থাকতো। কিন্তু এদের অন্যান্য ইন্দ্রিয়, যেমন ঘ্রানশক্তি ও শ্রবনশক্তি অত্যন্ত তীক্ষ্ণভাবে বিকশিত। এদের চামড়ায় কোন রঞ্জন নেই। এদের সামনের পায়ে তিনটি পদাঙ্গুলি আছে আর পেছনের পায়ের দু’টি পদাঙ্গুলির সাথে খুড়ের মত একটি আঙুল রয়েছে। তবে ওমদের মাথার দু'ধারে অবস্থিত ঝালটের মত জিলগুলো একেবারে ড্রাগনের মতই। শুধু তাই নয় কাল্পনিক ড্রাগন যেমন আগুন ছোড়ার আগে জিলগুলো ফণার মত মেলে ধরে পমদের এই জিলগুলো ইলেক্ট্রোম্যাগনেটেক সেন্সরি পাওয়ার উৎপন্ন করতে ঠিক সেভাবেই নিজেদের জিলগুলো ব্যবহার করে।

II বাহ্যিক রূপ II

ওমের দেহ সরীসৃপের মত। লম্বায় ২০-৩০ সেন্টিমিটার (৮-১২ ইঞ্চি), এবং কোন কোন প্রজাতি ৪০ সেন্টিমিটার (১৬ ইঞ্চি) পর্যন্ত লম্বা হতে পারে। এদের স্ত্রীগুলি পুরুষদের চেয়ে বড় হয়। এদের মাথা সিলিন্ডার আকৃতির এবং সমপরিমাণ পুরু। এদের লেজ তুলনামূলকভাবে চ্যাপ্টা এবং এর চারিদিকে ডানা আছে। এদের হাত ও পা দেহের তুলোনায় ছোট ও সরু এবং এদের আঙ্গুলের সংখ্যা ও আকৃতি অন্যান্য উভচর প্রাণীর তুলনায় বেশ ভিন্ন। এর শরীর একটি পাতলা চামড়া দ্বারা আবৃত, যাতে খুব কম পরিমাণে রাইবোফ্লেভিন নামে এক বিশেষ ধরনের রঞ্জন রয়েছে, যার ফলে এদেরকে হলদেটে সাদা বা গোলাপি দেখায়। এদের পেটের দিকে তাকালে এদের আভ্যন্তরীন অঙ্গগুলি জ্বলজ্বল করতে দেখা যায়। এদের গায়ের বর্ণ শ্বেতাঙ্গ মানুষদের মত হওয়ায় কোন কোন ভাষায় এদেরকে ‘মৎস্য মানব’ নামেও অভিহিত করা হয়।

ওমেরা আলোর সংস্পর্শ থেকে দূরে সরে থাকে। আলো লাগলে অবশ্য এদের বর্ণ ক্রমে ক্রমে গাঢ় বর্ণ ধারণ করে এবং কখনো কখনো লার্ভাও রঙ্গিন হয়ে যায়। এদের মুখের অগ্রভাগ খুব ছোট, এবং ক্ষুদ্র দাঁতগুলি একটি ছাকনির ন্যায় কাজ করে, যাতে বড় কোন বস্তু মুখে প্রবেশ করতে না পারে। এদের নাসিকা গহ্বর এত ক্ষুদ্র যে চোখেই পড়ে না। এদের পশ্চাদবর্তী চোখ দু’টি মাংসল আবরণ দ্বারা আবৃত।  জলজ ড্রাগনদের মত এরা শ্বাস নেয় বাহ্যিক শ্বাসতন্ত্র দ্বারা। এদের গিল বা শ্বাসতন্ত্র দেখতে টকটকে লাল।

ওলমদের সংবেদনশীল তক্বে খুব হালকা মাত্রার রঞ্জন রয়েছে যা আলোর সংস্পর্শে এলে বর্ণ পরিবর্তন করে।- ছবি: ইন্টারনেট

II অনুভবকারী ইন্দ্রিয়সমূহ II

গুহায় বসবাসকারী ওলমেরা গুহার আবহের সাথে নিজেদের মানিয়ে নিতে অনুভবকারী ইন্দ্রিয়সমূহ উন্নত করার চেষ্টায় থাকে। যাতে উচ্চমাত্রার স্নায়ুবীক সক্ষমতা সৃষ্টি হয়। ওম যেহেতু চোখে দেখতে পায় না, তাই তারা তাদের অন্য ইন্দ্রিয়সমূহ ভালভাবে কাজে লাগাতে চেষ্টা করে যা স্থলে বাস করা উভচর প্রাণীদের তুলনায় অনেক বেশী কার্যকর।

II ফটোরিসেপ্টর
অন্ধ হওয়া সত্ত্বেও ওম আলো থেকে দূরে থাকে। এদের চোখগুলো পশ্চাদবর্তী হলেও অকার্যকর নয় মোটেই। বরং শক্তিশালী হিডেন ক্যামেরার মত কাজ করে এগুলো। এই চোখগুলো চামড়ার নীচে অবস্থিত এবং সহজে চোখে পড়ে না। গবেষণায় দেখা গেছে যে এদের চামড়াও আলোর প্রতি সংবেদনশীল।  

II কিমোরিসেপ্টর
ওমের মাথার সম্মুখ ভাগে আছে সংবেদনশীল কিমো, মেকানো ইন্দ্রিয় এবং ইলেক্ট্রো রিসেপ্টর। ওম পানিতে খুব অল্প পরিমণে জৈব পদার্থ থাকলেও তা অনুভব করতে পারে। শুধু তাই নয়, এদের ধারে কাছে কোথায় কোন প্রাণের উপস্থিতি তাৎক্ষণিকভাবে দৈহিক কোষে স্থাপিত প্রাকৃতিক সেন্সরের মাধ্যমে টের পেয়ে যায় তারা! অন্যান্য জলজ প্রাণীর তুলনায় এরা শিকারের গুণ ও পরিমাণ খুব ভালভাবে অনুভব করতে পারে। ওমের মাথার সম্মুখভাগে সংবেদনশীল কিমো, মেকানো এবং ইলেক্ট্রোরিসেপ্টর রয়েছে। পানিতে খুব অল্প পরিমাণে প্রাকৃতিক উপাদান থাকলেও ওম সেটা অনুভব করতে পারে। এরা অন্য উভচরের তুলনায় এদের শিকারের পরিমাণ ও গুণগত মান তীক্ষ্ণ ঘ্রাণ শক্তির মাধ্যমে সহজেই অউমান করতে পারে। এদের অনুনাসিক গহ্বরের ভিতরে অবস্থিত নাকের এপিথিলিয়াম অন্যান্য উভচর প্রাণীর তুলনায় বেশী পুরু যা এদের স্বাদগ্রন্থির সঙ্গে বেশীরভাগ জিহ্বার উপরের ভাগে অবস্থিত। মুখ গহ্বরের স্বাদগ্রন্থি ব্যবহৃত হয় খাদ্যের স্বাদ নিতে, আর ফুলকায় অবস্থিত স্বাদগ্রন্থি দ্বারা সম্ভবতঃ পানিতে কেমিক্যালের উপস্থিতি অনুভব করে থাকে ওমেরা।

II মেকানো এবং ইলেক্ট্রোরিসেপ্টর
ওমের কানের ভিতরের অনুভবশীল পর্দা বিশেষভাবে তৈরি যাতে এরা পানির নীচে শব্দতরঙ্গ ও ভূকম্পন অনুভব করতে পারে। জটিল অনুভূতিশীল কোষের কারণে এরা শব্দের উৎস জানতে নিরুপন করতে পারে, ড্রাগন বলে কথা! যেহেতু দীর্ঘ জীবনের বেশীরভাগ সময় এদের কিছু শারিরীক গঠন অপরিণত থাকে, তাই এরা খুব কম সময় এদের শ্রবণেন্দ্রিয় খোলা জায়গায় ব্যবহার করার সুযোগ পায়। এ কারণে এরা লাভবান হয় গুহার অন্ধকারে পানির নীচে শ্রবণেন্দ্রিয় ব্যবহারের মাধ্যমে শব্দ শুনে ও শিকারের সন্ধান করে। গবেষণায় সাম্প্রতিক এক গবেষণায় জানা যায়, প্রোটিয়াসদের শ্রবণ সংবেদনশীলতা ১০ থেকে ১৫,০০০ হার্জ পর্যন্ত হতে পারে।  বিজ্ঞানীরা আলো এবং ইলেক্ট্রন মাইক্রোস্কোপের সাহায্যে ওমের মাথায় অবস্থিত একটি নতুন ধরনের অনুভূতিশীল ইন্দ্রিয়ের সন্ধান পেয়েছেন। ধারণা করা হচ্ছে এই ইন্দ্রিয়গুলো উচ্চশক্তির ইলেক্ট্রো-রিয়েক্টর হিসেবে কাজ করতে সক্ষম। এই ইন্দ্রিয়গুলোকে বিজ্ঞানীরা এম্পুলারি (বৈদ্যুতিক শক্তির মাত্রা-এম্প পরিমাপক)  ইন্দ্রিয় হিসেবে আখ্যায়িত করেন । অন্যান্য মেরুদন্ডী প্রাণীর মত ওমও সূক্ষ্ণ বৈদ্যুতিক পরিধি অনুভব করতে পারে। গবেষণা অনুসারে, ওম নিজেকে খাপ খাওয়াতে পৃথিবীর বৈদ্যুতিক পরিধি এবং চৌম্বকিয় শক্তির ক্ষেত্র নির্ধারণের মত অসাধারণ অনুভব ক্ষমতা রাখে। ২০০২ সালের এক গবেষণায় দেখা গেছে যে, প্রোটিয়াস এঙ্গুইনাস প্রাকৃতিক ও কৃত্রিম চৌম্বক ক্ষেত্রের সাথে একই রেখায় অবস্থান করতে পারে, যা অন্য যে কোন প্রাণীর তুলোনায় একটি বিরল বৈশিষ্ট্য!

ওলমেরা আলো থেকে দূরে অন্ধকার গুহায় থাকতে স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করে- ছবি: ইন্টারনেট

II ওমের প্রজনন প্রক্রিয়া II

ওমদের প্রজননের ব্যাপারেও পাওয়া গেছে বিরল তথ্য। পানির তাপমাত্রার ওপর ভিত্তি করে স্ত্রী ওম নির্ধারণ করে যে এ ডিম ছাড়বে নাকি গর্ভে আভ্যন্তরীন প্রজনন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে জ্যান্ত শিশু ওমের জন্ম দেবে। অর্থাৎ এরা দুটি প্রক্রিয়াতেই সক্ষম! ১০ ডিগ্রী সেলসিয়াস তাপমাত্রায় ডিমের ভিতরে থাকা এদের ভ্রূণের পরিপক্কতার সময় লাগে ১৪০ দিন, কিন্তু এটা আরো ঠান্ডা পানিতে ধীরে ও তুলনামূলকভাবে গরম পানিতে দ্রুত (সর্বনিম্ন ৮৬ দিনে) হয়। ডিম ফুটার পর প্রাপ্তবয়স্ক হতে এদের আরও ১৪ বছর লাগে, যদি সেটা ১০ ডিগ্রী সেলসিয়াস তাপমাত্রার পানিতে হয়। লার্ভা প্রাপ্তবয়স্ক রূপ পায় আরো ৪ বছর পর এবং সেটাও নির্ভর করে পানির তাপমাত্রার উপর। ঐতিহাসিক সূত্রে জানা যায় যে, ডিম পাড়া উভচর প্রাণীদের মত স্ত্রী ওমের একটি বিশেষ থলে আছে যা ডিমের আধার উৎপাদন করে, ঠিক যেমনটি আদর্শ দু'পেয়ে মেরুদন্ডী প্রাণী মানুষের (নারী) গর্ভে থাকে সন্তান ধারণের জন্য। পল ক্যামেরো নামক এক গবেষকের প্রতিবেদন মতে, ১৩ ডিগ্রী সেলসিয়াস তাপমাত্রার নীচে পানিতে স্ত্রী ওম জ্যান্ত শিশুর জন্ম দেয় এবং ডিম পাড়ে আরো বেশী তাপমাত্রার পানিতে।

স্লোভেনিয়ার গভীর জলমগ্ন পাহাড়ী গুহার এই বাসিন্দাদের নিয়ে রীতিমত হৈচৈ পড়ে গেছে। চলছে অনুসন্ধান আর একের পর এক গবেষণা। আর প্রতিটি গবেষণাই অদ্ভুত সব তথ্য জানান দিয়ে রীতিমত বিস্মিত করে দিচ্ছে বিজ্ঞানীদের। ওমদের নানা বৈশিষ্ট্য ও প্রকৃতগত দিকগুলো কি সত্যি তাদের ড্রাগনের উত্তরসূরী হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করবে? নাকি তার চেয়েও বিশেষ কোন প্রজাতির অস্তিত্ব সম্পর্কে জানান দেবে আধুনিক পৃথিবীকে? এরইমধ্যে নাকি দক্ষিন আমেরিকার ল্যাটিন অঞ্চলে এক প্রজাতির ওমের সন্ধান পাওয়া গেছে যাদের অঙ্গ কেটে দিলে নাকি সেখানে নতুন করে তা গজিয়ে ওঠে! সত্যিই, কত বিচিত্র এই প্রাণীজগত!

তথ্যসূত্র: উইকিপিডিয়া/ওয়েলস ইউনিভার্সিটি স্টাডি 

Islami Bank