• ঢাকা
  • শুক্রবার, ২২ নভেম্বর, ২০১৯, ৮ অগ্রহায়ণ ১৪২৬
প্রকাশিত: নভেম্বর ৯, ২০১৯, ০৩:২১ পিএম
সর্বশেষ আপডেট : নভেম্বর ৯, ২০১৯, ০৩:২১ পিএম

‘বাকশালের কর্মসূচি পালন করা গেলে অনেক আগেই দেশ উন্নত হত’

জাগরণ প্রতিবেদক
‘বাকশালের কর্মসূচি পালন করা গেলে অনেক আগেই দেশ উন্নত হত’
শেখ হাসিনা - ফাইল ছবি

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, দেশের শ্রমজীবী মানুষের ভাগ্য পরিবর্তনই বর্তমান সরকারের লক্ষ্য, মাথার ঘাম পায়ে ফেলে দেশের অর্থনীতিকে যারা সচল রাখে তাদের কল্যাণে কাজ করা আওয়ামী লীগের নীতি। তাই স্বাধীনের পর যুদ্ধবিধ্বস্ত বাংলাদেশের শিল্প কারখানাগুলো নতুন করে চালু করা হয়েছিল। কৃষক শ্রমিককে দেশের অর্থনীতির মূল ভিত্তি বিবেচনা করে বাকশালের মাধ্যমে দেশের অর্থনীতির মুক্তি দ্রুত করার উদ্যোগ নেয়া হয়েছিল। অর্থনীতির দ্রুত বিকাশের লক্ষ্যে দেশের সব শ্রেণির মানুষকে নিয়ে একটি জাতীয় ঐক্যের ডাক দিয়েছিলেন জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। এ ঐক্যের নাম বাকশাল, বাংলাদেশ কৃষক শ্রমিক লীগ। বাকশাল ছিল ঐক্যের প্ল্যাটফর্ম। বাকশালের কর্মসূচিগুলো পালন করা গেলে অনেক আগেই দেশ উন্নত হতো।

শনিবার (৯ নভেম্বর) সকালে রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে শ্রমিক লীগের ১২তম ত্রিবার্ষিক সম্মেলনে দেয়া বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন। 

এসময় প্রধানমন্ত্রী ঘূর্ণিঝড় বুলবুল মোকাবিলায় সরকার সব ধরনের প্রস্তুতির কথা উল্লেখ করেন। উসকানি দিয়ে ছাত্রদের রাস্তায় নামানো সহ্য করা হবে না বলেও হুঁশিয়ারি দেন সরকারপ্রধান। তিনি বলেন, আন্দোলনের নামে শিক্ষাথীদের কর্মঘণ্টা নষ্ট করা যাবে না, সরকারের সিদ্ধান্ত না মানতে চাইলে নিজেদের টাকায় বিশ্ববিদ্যালয়কে চলতে হবে। 

প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশ যখন এগিয়ে যাচ্ছিল তখন ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট জাতির পিতাকে সপরিবারে হত্যা করা হয়। আমি আমার স্বজনদের হারিয়েছিলাম, কিন্তু বাংলাদেশের মানুষ হারিয়েছিল তাদের ভবিষ্যৎ। দেশ উন্নয়নের পথ থেকে সরে যায়, মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তনের জন্য আওয়ামী লীগ ছাড়া আর কেউ কাজ করেনি। আমরা ক্ষমতায় এসে দেশের উন্নয়নে কাজ করছি। কৃষক-শ্রমিকের উন্নয়নে কাজ করছি।

তিনি বলেন, শ্রমজীবী মানুষের দাবি আদায় ও অধিকার প্রতিষ্ঠায় ১৯৬৯ সালের ১২ই অক্টোবর জাতীয় শ্রমিক লীগ প্রতিষ্ঠা করেন জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। বর্তমান সরকার শ্রমিকদের কল্যাণে বিভিন্ন পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে। সরকারের ধারাবাহিকতা থাকায় দেশ এগিয়ে যাচ্ছে, সুফল ভোগ করছে সাধারণ মানুষ। ২৯ বছর এদেশের মানুষ শুধু বঞ্চনার শিকার হয়েছে। ১৯৭৫ সাল থেকে ১৯৯৬ সাল— এই ২১ বছর আর ২০০১ থেকে ২০০৮ সাল— এই ৮ বছর বাংলাদেশের মানুষ বঞ্চনা ভোগ করেছে।

সম্মেলনে বিশেষ অতিথি হিসেবে আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের, শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হাবিবুর রহমান সিরাজ, শ্রম প্রতিমন্ত্রী মন্নুজান সুফিয়ানসহ বিদেশি তিনজন অতিথি উপস্থিত আছেন। সম্মেলনে সভাপতিত্ব করছেন জাতীয় শ্রমিক লীগের সভাপতি শুক্কুর মাহমুদ এবং সভা পরিচালনায় সাধারণ সম্পাদক সিরাজুল ইসলাম।

সম্মেলনে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক, সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেন, গত ৪৪ বছরে বাংলাদেশের সবচেয়ে দক্ষ প্রশাসক, সবচেয়ে সৎ ও সাহসী রাজনীতিবিদের নাম শেখ হাসিনা। ’৭৫ পরবর্তী সফল কূটনীতিকের নাম শেখ হাসিনা। আপন ঘর থেকে দুঃসাহসিক শুদ্ধি অভিযান চালিয়ে তিনি সততার প্রমাণ দিয়েছেন।

অনুষ্ঠানে শ্রম ও কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী মন্নুজান সুফিয়ান বলেন, তৈরি পোশাক শিল্পে সবুজ কারখানা (গ্রিন ফ্যাক্টরি) নির্মাণে বিশ্বের প্রথম ১০টি উন্নতমানের কারখানার সাতটিই বাংলাদেশে। ৯০ শতাংশ শিশুকে শিশুশ্রম থেকে বের করে আনা হয়েছে। ১ লাখ শিশুকে বিভিন্ন শিল্প প্রতিষ্ঠান থেকে তুলে আনা হবে। সরকারি শিল্প প্রতিষ্ঠানে শিশু শ্রমিক নেই। আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থার আইন অনুযায়ী, ১৪ বছরের নিচে কোনো শিশু শ্রমিককে কাজে নিয়োগ করা যায় না। তিনি বলেন, সরকার শ্রমিকদের জন্য সর্বনিম্ন ৮ হাজার টাকা মজুরি নির্ধারণ করেছে। ৪২টি সেক্টরে মজুরি নির্ধারণ করা হয়েছে।

জাতীয় শ্রমিক লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক, আওয়ামী লীগের শ্রম ও জনশক্তি বিষয়ক সম্পাদক হাবিবুর রহমান সিরাজ বলেন, চারদলীয় জোট সরকারের সময় দেশে অসংখ্য মিল, কলকারখানা বন্ধ করে দেয়া হয়েছিল। আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় এসে এসব কল-কারখানা পুনরায় চালু করেছে। 

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন জাতীয় শ্রমিক লীগের সভাপতি শুকুর মাহমুদ। তিনি বলেন, পোশাক খাতের শ্রমিকসহ দেশের প্রতিটি সেক্টরে শ্রমিকদের মজুরি বাড়ানো হয়েছে।

এই সম্মেলনেই ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে কাউন্সিল (দ্বিতীয়) অধিবেশনে নতুন নেতৃত্ব ঘোষণা করা হবে। এবারের সম্মেলনে সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক পদে পরিবর্তন হয়ে স্বচ্ছ ভাবমূর্তিসম্পন্ন, সক্রিয়, দক্ষ ও কর্মীবান্ধব নতুন নেতৃত্বের আশা করছেন নেতাকর্মীরা।

এর আগে সকাল ১০টা ৪০ মিনিটে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে জাতীয় শ্রমিক লীগের সম্মেলন মঞ্চে এসে পৌঁছান প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা। শান্তির প্রতীক সাদা পায়রা আর বেলুন উড়িয়ে তিনি জাতীয় শ্রমিক লীগের ১২তম জাতীয় সম্মেলনের উদ্বোধন করেন। 

সম্মেলন উপলক্ষে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে বিশাল সম্মেলন মঞ্চ ও প্যান্ডেল নির্মাণ ছাড়াও সম্মেলন স্থল ও আশপাশের সড়ক বর্ণাঢ্য সাজে সাজিয়ে তোলা হয়েছে। এতে আওয়ামী লীগ ও শ্রমিক লীগের ইতিহাস ঐতিহ্যের পাশাপাশি বর্তমান সরকারের বিভিন্ন উন্নয়ন কর্মকাণ্ড তুলে ধরা হয়েছে।

সকাল ৭টার পর থেকে বৃষ্টি উপেক্ষা করে সম্মেলনস্থলে উপস্থিত হন শ্রমিক লীগের কেন্দ্রীয় কমিটিসহ সারা দেশে সংগঠনটির ৭৮টি সাংগঠনিক জেলার প্রায় ১৬ হাজার কাউন্সিলর ও ডেলিগেটস।

শ্রমিক লীগ প্রতিষ্ঠার পর শুরুতে এটি আওয়ামী লীগের সহযোগী সংগঠন হিসেবে থাকলেও বর্তমানে ভ্রাতৃপ্রতীম সংগঠন হিসেবে কাজ করছে। ২০১২ সালের ১৯ জুলাই সংগঠনের সর্বশেষ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।

জেড এইচ

আরও পড়ুন