• ঢাকা
  • শুক্রবার, ১৫ নভেম্বর, ২০১৯, ১ অগ্রাহায়ণ ১৪২৬
প্রকাশিত: নভেম্বর ১০, ২০১৯, ০৩:০৪ এএম
সর্বশেষ আপডেট : নভেম্বর ১০, ২০১৯, ০৬:৩৬ এএম

কমে আসছে ঝড়ের প্রকোপ

বাংলাদেশের উপকূলীয় অঞ্চল অতিক্রম করছে ‘বুলবুল’

জাগরণ ডেস্ক
বাংলাদেশের উপকূলীয় অঞ্চল অতিক্রম করছে  ‘বুলবুল’
সৌজন্যে আনন্দবাজার

বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট প্রবল ঘূর্ণিঝড় বুলবুল অনেকটাই দুর্বল হয়ে পড়েছে। ভারতের পশ্চিমবঙ্গে তাণ্ডব চালিয়ে বাংলাদেশের সুন্দরবন অঞ্চল পার হয়ে খুলনার উপকূলবর্তী এলাকা দিয়ে এগোচ্ছে ঘূর্ণিঝড় ‘বুলবুল’। ভারতের আবহাওয়া বিভাগ বলছে, আগামী তিন ঘণ্টায় শক্তি আরও কমে বুলবুল ঘূর্ণিঝড়ে এবং তার পরবর্তী ছয় ঘণ্টায় এটি নিম্নচাপে রূপান্তরিত হওয়ার সমূহ সম্ভাবনা রয়েছে।

সর্বশেষ তথ্য মতে, শনিবার (৯ নভেম্বর) সন্ধ্যায় পশ্চিমবঙ্গের ফ্রেজারগঞ্জ, বকখালি, সাগরদ্বীপ, কাকদ্বীপ এলাকায় আঘাত হানার পর সুন্দরবনের বদ্বীপ এলাকা হয়ে উপকূলের খেপুপাড়া দিয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করে ঝড়টি।

..........................................................................  গুরুত্বপূর্ণ তথ্যসমূহ  ..........................................................................

বাংলাদেশ সময় রাত ৩টায় ভারতের কেন্দ্রীয় আবহাওয়া বিভাগ ও আলিপুর আবহাওয়া অধিদফতরের সর্বশেষ বুলেটিনে বলা হয়, এ সময় ঘূর্ণিঝড় কেন্দ্রের কাছে বাতাসের গতিবেগ ছিল ঘণ্টায় ৯৫ থেকে ১০৫ কিলোমিটার, যা দমকা হাওয়া আকারে ১১৫ কিলোমিটার পর্যন্ত বৃদ্ধি পাচ্ছিল।ঝড়টি ঘণ্টায় ১২ কিলোমিটার গতিতে পূর্ব-উত্তরপূর্ব দিকে এগোচ্ছিল।

এদিকে বাংলাদেশের আবহাওয়া অধিদপ্তরের উপপরিচালক আয়শা খাতুন বলেন, ঘূর্ণিঝড় কেন্দ্রের ৬৪ কিলোমিটারের মধ্যে বাতাসের টানা গতিবেগ ঘণ্টায় সর্বোচ্চ ৯০ কিলোমিটার, যা দমকা অথবা ঝড়ো হাওয়ার আকারে ১১০ কিলোমিটার পর্যন্ত বাড়ছে। 

তবে দুর্বল হয়ে এলেও ভরা জোয়ারের সময় বাংলাদেশের উপকূলে বুলবুলের উপস্থিতির কারণে ৫ থেকে ৭ ফুট উচ্চতা পর্যন্ত জলোচ্ছ্বাসের সম্ভাবনা রয়েছে।

বাংলাদেশের আবহাওয়া অধিদফতরের আবহাওয়াবিদ আব্দুল মান্নানের দেয়া তথ্য মতে, শনিবার দিবাগত রাত ৩টা নাগাদ ঘূর্ণিঝড়টি ধীরে ধীরে বাংলাদেশের উপকূলীয় অঞ্চল অতিক্রম করতে শুর করে। শক্তি ক্ষয় করে বেশ দুর্বল হয়ে পড়া ঘূর্ণিঝড়টি ধীরলয়ে উত্তর-পূর্ব দিকে অগ্রসর হচ্ছে। বিশেষজ্ঞদের ধারণা, রোববার (১০ নভেম্বর) দুপুরের দিকে এটি বাংলাদেশের মধ্যাঞ্চল পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে।  ঘূর্ণিঝড় বুলবুলের গতিবেগ কমে আসায় ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ উল্লেখযোগ্য হারে কমবে বলে প্রত্যাশা করছেন এই আবহাওয়াবিদ।

পাশাপাশি ভোরের আগেই ঘূর্ণিঝড়টি উপকূল অতিক্রম করে বাংলাদেশের স্থলভাগে অবস্থান করবে। বর্তমানে ঝড়টির ৮০ শতাংশ বাংলাদেশের অভ্যন্তরে রয়েছে। বাকি ২০ শতাংশ উত্তর পশ্চিম বঙ্গোপসাগর এবং সুন্দরবন উপকূলীয় এলাকায় অবস্থান করছে।

এর আগে শনিবার (৯ নভেম্বর) রাত ১১টার পর আবহাওয়া অধিদফতরের উপপরিচালক আয়শা খাতুন ঝড়ের পরিস্থিতি সম্পর্কে তথ্য প্রদানকালে জানিয়েছেন, রাত ৯টা নাগাদ ঘূর্ণিঝড়টি খুলনা উপকূল অতিক্রম করতে শুরু করে। তবে তার আগেই কিছুটা শক্তি হারিয়ে অতি ভয়ঙ্কর ঘুর্ণিঝড় থেকে ভয়ঙ্কর ঘূর্ণিঝড়ের পর্যায়ে নেমে এসেছে এটি। এ সময় বুলবুলের প্রভাবে বাংলাদেশের একমাত্র দ্বীপজেলা ভোলার লালমোহন ও চরফ্যাশন উপজেলায় ঝড়ো বাতাসে সাতটি ঘর বিধ্বস্ত হয়েছে। এতে আহত হয়েছেন অন্তত ১০ জন।

এদিকে ভারতীয় আবহাওয়া অধিদফতরের তথ্যও এ কথার পক্ষেই সায় দিচ্ছে। তারা জানায়, পশ্চিমবঙ্গের সাগরদ্বীপ এবং বাংলাদেশে খেপুপাড়ার মধ্যবর্তী অংশে আঘাত হানার পরে স্থলভাগে চলে আসবে ঘূর্ণিঝড় বুলবুল। তরপরেই আস্তে আস্তে উত্তরপূর্বের দিকে বাংলাদেশ অভিমুখে যেতে থাকবে আর ক্রমেই শক্তিক্ষয়ে দুর্বল হতে থাকবে ঝড়টি।

ঘূর্ণিঝড়টি বর্তমানে উত্তরপশ্চিম বঙ্গোপসাগর, গাঙ্গেয় পশ্চিমবঙ্গ এবং বাংলাদেশের দক্ষিণপশ্চিম এলাকায় অবস্থান করছে। ঘূর্ণিঝড় কেন্দ্রের ৬৪ কিমি এর মধ্যে বাতাসের একটানা সর্বোচ্চ গতিবেগ ঘণ্টায় ১০০ কিমি। যা দমকা অথবা ঝড়ো হাওয়ার আকারে ১২০ কিমি পর্যন্ত বৃদ্ধি পাচ্ছে। তবে স্থলভাগে অবস্থানকালে ক্রমেই এর প্রকোপ হ্রাস পাবে বলে জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।  

আবহাওয়া অধিদপ্তরের বিশেষ বুলেটিনে বলা হয়েছে, উত্তর-পশ্চিম বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন এলাকায় অবস্থানরত অতি প্রবল ঘূর্ণিঝড় ‘বুলবুল’ আরও উত্তর পূর্ব দিকে প্রতি ঘণ্টায় আট কিলোমিটার বেগে অগ্রসর হয়ে কিছুটা দুর্বল হয়ে প্রবল ঘূর্ণিঝড় আকারে রাত ৯টা নাগাদ পশ্চিমবঙ্গ-খুলনা উপকূল (সুন্দরবনের নিকট দিয়ে) অতিক্রম শুরু করেছে। এটি বর্তমানে উত্তর-পশ্চিম বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন গাঙ্গেয় পশ্চিমবঙ্গ এবং বাংলাদেশের দক্ষিণপশ্চিম এলাকায় (২১.৪ উত্তর অক্ষাংশ এবং ৮৮.৩ পূর্ব দ্রাঘিমাংশ) অবস্থান করছে।

তবে ঘূর্ণিঝড়ের প্রবনতা অব্যাহত থাকায় সতর্কতামুলক নির্দেশনায় কোনো পরিবর্তন আনা হয়নি। সে অনুস্বারে, মোংলা ও পায়রা সমুদ্রবন্দরকে ১০ নম্বর মহাবিপদ সংকেত দেখিয়ে যেতে বলা হয়েছে। উপকূলীয় জেলা ভোলা, বরগুনা, পটুয়াখালী, বরিশাল, পিরোজপুর, ঝালকাঠি, বাগেরহাট, খুলনা, সাতক্ষীরা এবং তাদের অদূরবর্তী দ্বীপ ও চরগুলো ১০ নম্বর মহাবিপদ সংকেতের আওতায় থাকবে।

চট্টগ্রাম সমুদ্রবন্দরকে নয় নম্বর মহাবিপদ সংকেত দেখিয়ে যেতে বলা হয়েছে। উপকূলীয় জেলা চট্টগ্রাম, নোয়াখালী, লক্ষ্মীপুর, ফেনী, চাঁদপুর এবং তাদের অদূরবর্তী দ্বীপ ও চরগুলো নয় নম্বর মহাবিপদ সংকেতের আওতায় থাকবে। এছাড়া কক্সবাজার সমুদ্রবন্দরকে চার নম্বর স্থানীয় হুঁশিয়ারি সংকেত দেখিয়ে যেতে বলা হয়েছে।

ঘূর্ণিঝড় বুলবুলের প্রভাবে রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে হালকা ও মাঝারি প্রকৃতির বৃষ্টিপাত অব্যাহত রয়েছে। তবে রাত আনুমানিক ৪টা নাগাদ বৃষ্টির মাত্রা কিছুটা বৃদ্ধি পেলেও বর্তমানে তা স্বাভাবিক পর্যায়ে রয়েছে।

এসকে

আরও পড়ুন