• ঢাকা
  • শনিবার, ০৭ ডিসেম্বর, ২০১৯, ২৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৬
প্রকাশিত: নভেম্বর ১৩, ২০১৯, ১০:২০ পিএম
সর্বশেষ আপডেট : নভেম্বর ১৩, ২০১৯, ১০:২০ পিএম

‘গ্রহজনিত জরুরি অবস্থা ঘোষণা’র প্রস্তাব পাস

জাগরণ প্রতিবেদক
‘গ্রহজনিত জরুরি অবস্থা ঘোষণা’র প্রস্তাব পাস

বিশ্বের ধনী দেশগুলোর কার্বন নিঃসরণের ফলে পরিবেশগত ক্ষতি ও জলবায়ু পরিবর্তনজনিত অভিঘাতের ফলে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে বিশ্বব্রহ্মাণ্ড। ক্ষতির শিকার হচ্ছে বিশ্বের অনেক দেশের সঙ্গে বাংলাদেশও। ক্লাইমেট চেঞ্জ ও জলবায়ু অভিঘাতের ফলে দেশের সাড়ে চার কোটি মানুষ ক্লাইমেট উদ্বাস্তু হতে বাধ্য হচ্ছে। বিশ্বের ধনী দেশগুলোর কার্বন নিঃসরণের ফলে আমাদের মতো দেশ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। কোটি কোটি মানুষ ক্লাইমেট রিফিউজি হতে বাধ্য হচ্ছে বলে জানিয়েছেন জাতীয় সংসদের বন, পরিবেশ ও জলবায়ুবিষয়ক মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সভাপতি সাবের হোসেন চৌধুরী।

তিনি বলেন, প্রস্তাবটি পাস হলে আগামী দিনে বাংলাদেশের রাজনৈতিক কূটনীতির একটি ক্ষেত্র তৈরি হবে, যা হতে পারে রোল মডেল।

বুধবার (১৩ নভেম্বর) রাতে জাতীয় সংসদে বন, পরিবেশ ও জলবায়ুবিষয়ক মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির পক্ষে সভাপতি সাবের হোসেন চৌধুরী সংসদে ‘গ্রহজনিত জরুরি অবস্থা’ ঘোষণার প্রস্তাব আনেন। এ সময় স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী সভাপতিত্ব করছিলেন। প্রস্তাবটিকে সমর্থন জানিয়ে বক্তব্য দেন সরকারি দলের সাবেক বাণিজ্যমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য তোফায়েল আহমেদ, শেখ ফজলুল করিম সেলিম, এমপি কাজী নাবিল আহমেদ, ওয়াশিকা আয়েশা খানম, নজরুল ইসলাম বাবু, জাসদের শিরিন আখতার, বিএনপির হারুনুর রশীদ, রুমিন ফারহানা, জাতীয় পার্টির রুস্তম আলী ফরাজী, মুজিবুল হক চুন্নু, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম, রফিকুল ইসলাম বীর উত্তম ও প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ বিপু।

বক্তব্যে সাবের হোসেন চৌধুরী জানান, জলবায়ুর এই অভিঘাতের ফলে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা ৬ ফুট বেড়ে যেতে পারে। যার ফলে ঢাকাসহ বিশ্বের বহু শহর পানির নিচে তলিয়ে যেতে পারে। জলবায়ু বিপর্যয়ের ফলে বিশ্বের ১৬ ভাগ প্রাণী বিলুপ্ত। আরো ১০ লাখ প্রাণী বিলুপ্তির পথে। প্লাস্টিক বর্জ্য খাচ্ছে মাছ, আর আমরা সেই দূষিত দ্রব্য বিষ খাওয়া মাছ খেয়ে মূলত আমরাও বিষ খাচ্ছি। বিশ্বে আজ ধীরে ধীরে তাপমাত্রা বেড়ে চলেছে, বসবাস অযোগ্য হয়ে উঠছে পৃথিবী। এর জন্য বিশ্বের সব দেশকে জলবায়ু ও পরিবেশ দূষণ রোধে একযোগে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি। প্রস্তাবটির বিশদ বর্ণনা দিতে গিয়ে সাবের হোসেন চৌধুরী সংসদে স্লাইড শো প্রদর্শন করেন।

প্রায় ৩৫ মিনিটের বক্তব্যে সাবের হোসেন চৌধুরী বিশ্বের ধনী দেশগুলোর জন্য তৃতীয় বিশ্বের দেশগুলো পরিবেশগতভাবে যে ক্ষতির সম্মুখীন হয় তা তুলে ধরেন।

বক্তারা এ প্রস্তাবের ওপর আলোচনায় বলেন, দিনে দিনে ক্লাইমেট চেঞ্জের ফলে বিশ্ব বসবাসের অযোগ্য হয়ে উঠেছে। বিশ্বের ধনী দেশগুলো কার্বন নিঃসরণের ফলে দরিদ্র দেশগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। ২০ ভাগ দেশ কার্বন নিঃসরণ করে আর ৮০ ভাগ লোক ক্ষতিগ্রস্ত হয়। অথচ তারা কোনো ক্ষতিপূরণ দেয় না। ধনী দেশগুলো তাদের প্রতিশ্রুতি মানছে না। এর জন্য যারা ক্লাইমেট চেঞ্জের ফলে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে তারা অসহায় হয়ে পড়ছে। তাই বিশ্বের সব দেশকে একযোগে কাজ করার আহ্বান জানান তারা।

এরই পরিপ্রেক্ষিতে প্রথমবারের মতো ‘গ্রহজনিত জরুরি অবস্থা’ ঘোষণার সিদ্ধান্ত প্রস্তাব পাস করল একাদশ জাতীয় সংসদ। জলবায়ু নিয়ে বাংলাদেশের আন্দোলন আন্তর্জাতিক পর্যায়ে নিয়ে যেতে এ পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে। 
 
এইচএস/এনআই

আরও পড়ুন