• ঢাকা
  • বুধবার, ১৬ অক্টোবর, ২০১৯, ১ কার্তিক ১৪২৬
প্রকাশিত: অক্টোবর ৯, ২০১৯, ০৯:১২ এএম
সর্বশেষ আপডেট : অক্টোবর ৯, ২০১৯, ০৯:১২ এএম

ফেসবুকে সরব সম্রাটের পক্ষের নেতা-কর্মীরা

জাগরণ প্রতিবেদক
ফেসবুকে সরব সম্রাটের পক্ষের নেতা-কর্মীরা
হাতকড়া পরিয়ে কারাগারে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে সম্রাটকে-ফাইল ছবি

রাজধানীর কাকরাইলে ভূঁইয়া ম্যানশন ছিল ঢাকা মহানগর দক্ষিণ যুবলীগের বহিষ্কৃত সভাপতি ইসমাইল চৌধুরী ওরফে সম্রাটের কার্যালয়। সেখানেই থাকা-খাওয়াসহ রাত্রি-যাপন করতেন আলোচিত-সমালোচিত এই যুব নেতা। ওই কার্যালয়ে সংগঠনের বর্তমান ও সাবেক নেতা-কর্মী থেকে শুরু করে তাকে ব্যবহার করে সুবিধাভোগী প্রভাবশালী মন্ত্রী-এমপিদের ভিড় লেগেই থাকত। এমনকি আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির অনেকেরই যাতায়াত ছিল ওই কার্যালয়ে। মাঝে-মধেই দেখা যেত চলচ্চিত্র জগতের তারকাদেরও। তবে ক্যাসিনোবিরোধী অভিযানের দু’এক দিন পর থেকে ওই কার্যালয় ফাঁকা হতে শুরু করে।

সম্রাটকে গ্রেফতারের পর থেকে কার্যালয় জনশূন্য। সুবিধাভোগীরা লাপাত্তা হয়ে গেছেন। তবে র‌্যাবের হাতে সম্রাট আটক হওয়ার পর থেকেই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে পক্ষে-বিপক্ষে চলছে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার ঝড়।

ক্যাসিনো-বিরোধী অভিযান শুরু হওয়ার পর থেকে ‘ক্যাসিনো সম্রাট’ হিসেবে আলোচনায় আসেন ইসমাইল চৌধুরী ওরফে সম্রাটের নাম। ঢাকা মহানগর দক্ষিণ যুবলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক খালেদ মাহমুদ ভূঁইয়া ও জি কে শামীমকে গ্রেফতারের পর সম্রাটকে গ্রেফতারের জোর দাবি ওঠে। কয়েকদিন আগেও সম্রাট কাকরাইলের কার্যালয়ে অবস্থান নেন। সে সময় নিচে কয়েকশ নেতা-কর্মী পাহারায় ছিলেন। গেলো এক সপ্তাহ আগে কাকরাইলের কার্যালয় ছেড়ে অজ্ঞাতস্থানে আত্মগোপনে যান সম্রাট। সে সময়ে কার্যালয়ের কয়েকজন কর্মচারী ছাড়া সংগঠনের নেতা-কর্মীদের তেমন ভিড় চোখে পড়ে নি।

ঢাকা মহানগর দক্ষিণ যুবলীগের সম্রাটের সিঙ্গাপুরসহ বিভিন্ন দেশে সফরসঙ্গীর অভাব ছিল না। তাকে ব্যবহার করে সুবিধা নিতে অনেক এমপি, নেতা এসে আড্ডা দিতেন সম্রাটের অফিসে। কিন্তু তার বিপদে এসব সুবিধাবাদীদের কেউ এখন পাশে নেই।

কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম থেকে যখন গ্রেফতার হন তখন তার একমাত্র সঙ্গী ছিলেন সংগঠনের সহ সভাপতি এনামুল হক আরমান। এদিন সকাল থেকে বিকাল পর্যন্ত সম্রাটের পক্ষে আইনজীবী নিয়োগসহ আইনি প্রক্রিয়ার যাবতীয় কাজ করেন ঢাকা মহানগর দক্ষিণ যুবলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মাকসুদুর রহমান মাকসুদ। অন্যদিকে সহ-সভাপতি মুরসালিন আহমেদ গা ঢাকা দিলে তিনিও আদালতপাড়ায় উপস্থিত হয়ে আইনজীবীদের সাথে কথা বলেছেন বলে জানা গেছে।

সম্রাটকে গ্রেফতার করার পর পরই তা ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ে। ফেসবুকের ঢুকতেই দেখা যায় সম্রাটকে নিয়ে ফেসবুক ব্যবহারকারীদের নানা ধরনের মন্তব্য। তাকে গ্রেফতার করায় অনেকে সরকার ও আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীকে সাধুবাদ জানিয়েছে। কেউ আবার নিরপেক্ষ বিচারের দাবি তুলেছেন। সরকারকে ধন্যবাদ দিয়ে শারমিন নামে এক ফেসবুক ব্যবহারকারী লিখেছেন, ‘সম্রাটকে গ্রেফতার করায় সরকারের সাধুবাদ জানাচ্ছি। তিনি যদি সত্যিই অপরাধী হন তাহলে তাকে যেন দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দেয়া হয়। আমরা চাই সত্যিকারের একটি সোনার বাংলা। যেখানে থাকবে না কোনও দুর্নীতি, থাকবে না কোনও দৃষ্কৃতকারী।

বেসরকারি টেলিভিশন এটিএন নিউজের বার্তা প্রধান প্রভাষ আমিন ফেসবুক স্ট্যাটাসে লিখেছেন, ‘অবশেষে সম্রাটের সাম্রাজ্যের পতন হলো। সম্রাটের যারা বস, তাদেরও গ্রেফতার চাই। রাব্বি নামে একজন লিখেছেন, সম্রাটকে গ্রেফতার একটি ইতিবাচক পদক্ষেপ। অপরাধী হলে তার শাস্তি নিশ্চিত করা হোক।’

ছাত্রলীগ নেতা আশ্রাফুল হাসান লিনাজ লিখেছেন, ‘আমার বিশ্বাস আপনি হবেন ঢাকা-৮ আসনের নৌকার মনোনীত মাঝি ইনশাআল্লাহ, দেখা হবে রাজপথে কথা হবে শ্লোগানে, প্রিয় ভাই’।’ 

যুবলীগ নেতা মাকসুদুর রহমান মাকসুদ লিখেছেন, ‘আপনি প্রিয় নেত্রীর পরীক্ষিত কর্মী। ঢাকার রাজপথের ত্যাগী নেতা-কর্মীরা আপনার সাথে থাকবে ইনশাআল্লাহ’।

মোরসালিন আহমেদ লিখেছেন, ‘রাষ্ট্রনায়ক শেখ হাসিনার অতন্দ্র প্রহরী। যার কোনও লোভ লালসা নাই শুধু শেখ হাসিনার নির্দেশ পালন করেন।’

হারুন চৌধুরী নামে একজন লিখেছেন, ‘দেশরত্ন জননেত্রী শেখ হাসিনার সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত চূড়ান্ত। কিন্তু প্রিয় নেতা আমরা যুবসমাজ আপনাকে ঢাকা-৮ আসনে সংসদ সদস্য হিসেবে দেখতে চাই’।’

একইভাবে আরও শত শত ফেসবুক ব্যাবহারকারী সম্রাটকে নিয়ে পক্ষে-বিপক্ষে নানা ধরনের মন্তব্য লিখেছেন নিজ নিজ পেজে। একইসাথে যুবলীগের নেতা-কর্মী ছাড়াও অনেকে ইসমাইল চৌধুরী ওরফে সম্রাটকে ১/১১ সময় জীবন বাজি রেখে রাজপথে ছিল উল্লেখ করে নিঃশর্ত মুক্তির দাবি জানিয়েছেন।

টিএস/এসএমএম

আরও পড়ুন

Islami Bank