• ঢাকা
  • বুধবার, ১৯ জুন, ২০১৯, ৫ আষাঢ় ১৪২৬
Bongosoft Ltd.
প্রকাশিত: জুন ১২, ২০১৯, ০৮:২২ পিএম
সর্বশেষ আপডেট : জুন ১২, ২০১৯, ০৮:২২ পিএম

স্বামীর দেওয়া গরম দুধে ঝলসে গেছেন গৃহবধূ

লালমনিরহাট সংবাদদাতা
স্বামীর দেওয়া গরম দুধে ঝলসে গেছেন গৃহবধূ

লালমনিরহাটের হাতীবান্ধা উপজেলায় আফিয়া বেগম (২৫) নামের এক গৃহবধূকে গরম দুধে ঝলসে দিয়েছেন তার স্বামী মাসুদ রানা। মঙ্গলবার (১১ জুন) সন্ধ্যায় গুরুতর আহত গৃহবধূকে হাতীবান্ধা উপজেলা হাসপাতালে ভর্তি করেন প্রতিবেশীরা। এ ঘটনায় ওই গৃহবধূর দেবর সাজুকে মঙ্গলবার গভীর রাতে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

মাসুদ রানা উপজেলার বড়খাতা ইউনিয়নের পশ্চিম সারডুবি গ্রামের আব্দুস সামাদের ছেলে। আফিয়া বেগম মাসুদের স্ত্রী এবং একই গ্রামের আব্দুর রহমানের মেয়ে।

হাসপাতাল ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় ১৩ বছর আগে ৫০ হাজার টাকা যৌতুকে বিয়ে হয় মাসুদ-আফিয়া দম্পতির। বিয়ের কিছুদিন সংসার ভালোভাবে চললেও পরে যৌতুকের চাপ দেন জুয়াড়ি স্বামী মাসুদ রানা। সাধ্যমতো জামাইয়ের চাহিদা পূরণ করেন আফিয়ার বাবা-মা। জুয়ায় টাকা খুইয়ে পুনরায় স্ত্রীর কাছে যৌতুকের দাবি করেন মাসুদ। সংসার সচল রাখতে ইটভাটায় শ্রমিকের কাজ নেন গৃহবধূ আফিয়া।

সোমবার (১০ জুন) পুনরায় যৌতুকের টাকা আনতে আফিয়াকে বাবার বাড়ি যেতে বলেন মাসুদ। কিন্তু তিনি না যাওয়ায় তার সাথে ঝগড়া বাধে মাসুদের। মঙ্গলবার দুপুরে সন্তানের জন্য আফিয়া সেমাই রান্না করছিলেন। এ সময় সেমাই রান্নার গরম দুধ আফিয়ার শরীরে ঢেলে দেন মাসুদ। তার আর্তচিৎকারে স্থানীয়রা এসে তাকে উদ্ধার করে হাতীবান্ধা হাসপাতালে ভর্তি করেন। আফিয়ার পিঠের ওপরের অংশ ও গলা ঝলসে যায়।

হাসপাতালের বেডে শুয়ে আফিয়া বলেন, ‘স্বামী টাকার জন্য সব সময় আমাকে মারধর করেন। আমি ইটভাটায় কাজ করে টাকা আয় করে তাকে দিই। আর সেই টাকা দিয়ে আমার স্বামী জুয়া খেলে শেষ করে। গত সোমবারও আমাকে বাবার বাড়ি থেকে টাকা আনতে বলে। আমি টাকা আনতে যাইনি বলেই কড়াইভর্তি গরম সেমাই শরীরে ঢেলে দিয়েছে।’ এসব বলতে বলতে ডুকরে কেঁদে ওঠেন আহত গৃহবধূ আফিয়া বেগম।

আফিয়ার মা মর্জিনা বেগম বলেন, ‘আমরা গরিব মানুষ, তবু যতটুকু পারি জামাইকে টাকা দিয়ে সাহায্য করি। জামাই খুবই খারাপ। বিয়ের পর থেকে আমার মেয়েকে কারণে-অকারণে মারধর করে। আমি এর সঠিক বিচার চাই।’

হাতীবান্ধা হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. নাঈম হাসান নয়ন বলেন, আফিয়ার শরীরের কিছু অংশ ঝলছে গেছে। বর্তমানে তিনি চিকিৎসাধীন আছেন।

হাতীবান্ধা থানার ওসি ওমর ফারুক বলেন, এ ঘটনায় থানায় একটি মামলা হয়েছে। গৃহবধূর দেবর সাজুকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বাকি আসামি গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।

এনআই

Space for Advertisement