• ঢাকা
  • রবিবার, ২৩ ফেব্রুয়ারি, ২০২০, ১১ ফাল্গুন ১৪২৬

জাতির পিতার জন্মশতবার্ষিকীর ক্ষণগণনা

মুজিববর্ষ
প্রকাশিত: জানুয়ারি ১৭, ২০২০, ১২:২৩ পিএম
সর্বশেষ আপডেট : জানুয়ারি ১৭, ২০২০, ০৩:০১ পিএম

মহানায়িকার ৬ষ্ঠ প্রয়াণ দিবস আজ

পৈতৃক বাড়িতে এখনও হয়নি পূর্ণাঙ্গ স্মৃতি সংগ্রহশালা 

পাবনা সংবাদদাতা
পৈতৃক বাড়িতে এখনও হয়নি পূর্ণাঙ্গ স্মৃতি সংগ্রহশালা 
সুচিত্রা সেন

যার অনবদ্য অভিনয় আজো দাগ কেটে আছে কোটি দর্শকের হৃদয়ে। অভিনয় গুণে যিনি হয়ে উঠেছিলেন দুই বাংলার চলচ্চিত্রপ্রেমী মানুষের মহানায়িকা। তিনি বাংলা সিনেমার কিংবদন্তি নায়িকা পাবনার মেয়ে সুচিত্রা সেন। আজ ১৭ জানুয়ারি (শুক্রবার) সেই মহানায়িকার ৬ষ্ঠ প্রয়াণ দিবস। ২০১৪ সালের এই দিনে না ফেরার দেশে পাড়ি জমান তিনি। কিন্তু সুচিত্রা সেনের পৈতৃক বাড়ি উদ্ধারের ৬ বছর পার হলেও গড়ে ওঠেনি পূর্ণাঙ্গ স্মৃতি সংগ্রহশালা। এতে ক্ষুব্ধ পাবনাবাসী।

জানা গেছে, সুচিত্রা সেনের শৈশব-কৈশোরের একটি অংশ কেটেছে পাবনা শহরের গোপালপুর মহলার হেমসাগর লেনের পৈতৃক বাড়িতে। যে বাড়ির প্রতি কোনায় ছড়িয়ে রয়েছে সুচিত্রা সেনের ছুটোছুটির দিনগুলো। দেশ ভাগের আগে সুচিত্রা সেনের বাবা করুণাময় দাসগুপ্ত স্ব-পরিবারে কলকাতায় চলে যান। এর দীর্ঘ কয়েক বছর পর ইমাম গাযযালী ট্রাস্ট বাড়িটি লিজ নিয়ে ইমাম গাযযালী ইনস্টিটিউট গড়ে তোলে। 

২০০৯ সালে বাড়িটির লীজ বাতিল করে সেখানে সুচিত্রা সেন স্মৃতি সংগ্রহশালা বা ফিল্ম ইন্সটিটিউট করার দাবিতে আন্দোলনে নামে পাবনার সাংস্কৃতিককর্মীরা। সকল আইনি প্রক্রিয়া শেষে ২০১৪ সালে উচ্চ আদালতের নির্দেশে বাড়িটি সরকারের দখলে নেয় জেলা প্রশাসন। 

এরপর বাড়িটিতে স্বল্প পরিসরে ‘সুচিত্রা সেন স্মৃতি সংগ্রহশালা’ গড়ে তুলে ১০ টাকার বিনিময়ে বাড়িটি দর্শনার্থীদের জন্য উন্মুক্ত করে দেয়া হয়। কিন্তু উদ্ধারের ৬ বছর পরও বাড়িটি জরাজীর্ণ অবস্থায় পড়ে আছে। একটি পূর্ণাঙ্গ আর্কাইভ গড়ে তোলার দাবি জানায় সাংস্কৃতিকর্মীরা। কিন্তু কাজ ধীরগতিতে হওয়ায় হতাশ ও ক্ষুব্ধ জেলার সাংস্কৃতিকর্মীরা।

সাংস্কৃতিককর্মী শিশির ইসলাম, দেওয়ান মাহবুব, তানিয়া আক্তার তন্বী ও সাথী আক্তার জানান, বাড়িটি উদ্ধারের ৬ বছর পার হয়েছে। কিন্তু এখনও বাড়িটি জরাজীর্ণ অবস্থায় পড়ে আছে। ভেতরে শুধু সুচিত্রা সেনের কিছু ছবি ছাড়া কিছু নেই। দর্শনার্থীরা আসলেও সুচিত্রা সেনের বাড়ি দেখে তাদের মন ভরছে না। শুধু আশ্বাসের বেড়াজালে বন্দি পূর্ণাঙ্গ আর্কাইভ গড়ে তোলার কাজ। দ্রুত স্মৃতি আর্কাইভ কাজ শুরুর দাবি জানান তারা।

সুচিত্রা সেন স্মৃতি সংরক্ষণ পরিষদের সাধারণ সম্পাদক ড. নরেশ মধু জানান, সরকার ও সংস্কৃতিক বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সাথে তারা সবসময় যোগাযোগ করে চলেছেন। বাড়িটি ঘিরে প্রায় দশ কোটি টাকা ব্যয়ে একটি আধুনিক ভবন করার বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। যেটি নির্মাণ হলে উত্তরবেঙ্গর সাংস্কৃতিককর্মীদের জন্য একটি মাইলফলক হবে। 

ভারপ্রাপ্ত জেলা প্রশাসক শাহেদ পারভেজ জানান, সংগ্রহশালাটিকে পূর্ণাঙ্গ রূপ দিতে জমি অধিগ্রহণসহ দু’টি প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছে। জমি অধিগ্রহণের কাজ শেষে দ্রুত স্মৃতি সংগ্রহশালার কাজ শুরু হবে বলে আশা করেন তিনি।

এদিকে, প্রয়াণ দিবস পালনে সুচিত্রা সেনের প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধাঞ্জলি, স্মরণ পদযাত্রা, আলোচনা সভা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান  নানা কর্মসূচী গ্রহণ করেছে পাবনা জেলা প্রশাসন, সুচিত্রা সেন স্মৃতি সংরক্ষণ পরিষদ সহ বিভিন্ন সংগঠন।

টিএফ