• ঢাকা
  • মঙ্গলবার, ০৭ এপ্রিল, ২০২০, ২৪ চৈত্র ১৪২৬
প্রকাশিত: মার্চ ১২, ২০২০, ০৫:৫৮ পিএম
সর্বশেষ আপডেট : মার্চ ১২, ২০২০, ০৫:৫৮ পিএম

ঋণ না নিয়েও ‘ঋণ খেলাপি’ পাবনার ৩০ কৃষক !

পাবনা সংবাদদাতা
ঋণ না নিয়েও ‘ঋণ খেলাপি’ পাবনার ৩০ কৃষক !

পাবনার চাটমোহর উপজেলার ঝাঁকড়া গ্রামে ‘একটি বাড়ি একটি খামার’ (বর্তমান নাম-আমার বাড়ি আমার খামার) সমিতি থেকে ঋণ না নিয়েও ৩০ জন কৃষক ‘ঋণ খেলাপি’ হয়েছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। তাদের নামে ঋণ তুলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা আত্মসাৎ করেছেন বলে দাবি ভুক্তভোগীদের। এমন ঘটনার প্রতিবাদে বুধবার উপজেলা পরিষদে প্রকল্প অফিসে গিয়ে মাঠকর্মীসহ সমিতির ম্যানেজারের শাস্তি এবং এর প্রতিকার চেয়ে বিক্ষোভ করেন ভুক্তভোগী সদস্যরা।

ভুক্তভোগীদের অভিযোগে জানা গেছে, ২০১২ সালে উপজেলার হরিপুর ইউনিয়নের ঝাঁকড়া গ্রামে ‘একটি বাড়ি একটি খামার’ (বর্তমান নাম-আমার বাড়ি আমার খামার) প্রকল্পের সমিতি গঠন করে ৬০ জন সদস্যের মাঝে ১০ হাজার টাকা করে ঋণ বিতরণ করা হয়। অভিযোগ রয়েছে, ঋণগ্রহীতারা কিস্তির টাকা নিয়মিত পরিশোধ করলেও মাঠ সহকারী আলিফ হোসাইন এবং ম্যানেজার মোজাহার হোসেন পাশ বইয়ে টাকার পরিমাণ তোলেননি। টাকা নেওয়ার পরেও সদস্যদের দেননি কোনো রশিদ। এছাড়া সমিতির সদস্য না হয়েও হাসানুর সরকার নামে এক ব্যক্তির নামে ভুয়া ঋণ বিতরণ দেখিয়ে অপর এক ব্যক্তিকে টাকা প্রদান করা হয়।

এরপর ২০১৩ এবং ২০১৬ সালে এসে পুনরায় ওই সদস্যদের না জানিয়ে আবারও তাদের নামে অতিরিক্ত ঋণ বিতরণ দেখানো হয়। দীর্ঘ কয়েক বছর পর ঋণ খেলাপি তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হন ওই গ্রামের প্রায় ৩০ জন। সপ্তাহ খানেক আগে অনাদায়ী ঋণ আদায়ে খেলাপি সদস্যদের কাছে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) স্বাক্ষরিত নোটিশ গেলে বিষয়টি বুঝতে পারেন ভুক্তভোগীরা। পরে তারা বুধবার দুপুরে পৌর সদরে ‘আমার বাড়ি আমার খামার’ প্রকল্প অফিসে গিয়ে প্রতিবাদ জানান এবং বিক্ষোভ করেন।

এ সময় আবদুর রশীদ, জাহিদুল প্রামানিক, জাহাঙ্গীর হোসেনসহ বেশ কয়েকজন ভুক্তভোগী গণমাধ্যমকর্মীদের কাছে অভিযোগ করেন, সময়মতো তারা কিস্তি পরিশোধ করার পরেও পাশ বইয়ে তোলেননি সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। বইগুলো তারা (মাঠ সহকারী ও ম্যানেজার) নিজেদের কাছে জমা রাখেন। দীর্ঘদিন তাদের গ্রামে সমিতির কোনো কার্যক্রমও নেই। দ্বিতীয়বার ঋণের টাকা না নিয়েও খেলাপি তালিকায় নাম আসলো কীভাবে, তা ভেবে পাচ্ছেন না তারা। তাদের দাবি ‘সদস্যদের নামে টাকা তুলে তছরুপ করা হয়েছে।’

এ বিষয়ে প্রকল্পের ম্যানেজার মোজাহার হোসেন ও মাঠ সহকারী আসিফ হোসাইন বলেন, প্রথম দফায় অনেকেই ঋণ নিয়ে কিস্তির টাকা ঠিকমতো দেননি। যাদের বাকি ছিল তারা সমন্বয় করে আবারও ঋণ নিয়েছে। কিন্তু কিস্তির টাকা বারবার চাওয়ার পরেও দেয়নি। বাড়ি পর্যন্ত গিয়েও কেউ কিস্তির টাকা পরিশোধ করেনি। এখন নোটিশ পেয়ে অস্বীকার করছে।’

এ ব্যাপারে আমার বাড়ি আমার খামার প্রকল্পের চাটমোহর উপজেলা সমন্বয়কারী খলিলুর রহমান বলেন, ঋণ তারা অবশ্যই নিয়েছেন। অনেক সদস্য কিস্তি দেননি। তবে যেহেতু সমস্যা তৈরি হয়েছে তাই বৃহস্পতিবার বসে বিষয়টি সমাধান করা হবে।

এমএইচবি