• ঢাকা
  • মঙ্গলবার, ০৪ আগস্ট, ২০২০, ২০ শ্রাবণ ১৪২৭
প্রকাশিত: জুলাই ১৪, ২০২০, ০৮:১৪ পিএম
সর্বশেষ আপডেট : জুলাই ১৪, ২০২০, ০৮:১৪ পিএম

জামালপুরে ভয়াবহ বন্যা, তীব্র খাদ্য সংকট

জামালপুর সংবাদদাতা
জামালপুরে ভয়াবহ বন্যা, তীব্র খাদ্য সংকট

উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ী ঢল ও অতি বর্ষনে জামালপুরে যমুনার পানি অস্বাভাবিকভাবে বৃদ্ধি পেয়ে বন্যা পরিস্থিতি ভয়াবহ রুপ নিয়েছে। আজ মঙ্গলবার সন্ধায় যমুনা নদীর বাহাদুরাবাদ পয়েন্টে গত ২৪ ঘন্টায় ৬৪ সেন্টিমিটার পানি বেড়ে বিপদসীমার ১১৫ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। দ্বিতীয় দফার বন্যায় জেলার ৭টি উপজেলা বন্যা কবলিত হয়ে পড়েছে। পানিবন্দি হয়ে পড়েছে প্রায় ৪ লাখ মানুষ। পানির স্রোতের তীব্রতায় টিকতে না পেড়ে পানিবন্দি মানুষ পরিবার পরিজন ও গৃহপালিত গরু ছাগল নিয়ে নিরাপদ আশ্রয়ের সন্ধানে ছুটছে দ্বিগবিদিগ। এসব মানুষজনকে আশ্রয় দিতে খোলা হয়েছে ১৪টি আশ্রয় কেন্দ্র। দুর্গতদের মাঝে দেখা দিয়েছে শুকনো খাবার ও বিশুদ্ধ পানির সংকট। বানভাসীদের পানিবাহিত রোগ দেখা দেয়ায় ২৩টি মেডিকেল টিম কাজ করছে বন্যা দুর্গত এলাকায়।

ইসলামপুর উপজেলার নোয়ারপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান মশিউর রহমান বলেন, পানি বৃদ্ধি প্রথম দফার রেকর্ড ভেঙেছে। সর্বত্রই এখন পানি। কোথাও শুকনো জায়গা নেই। বন্যানিয়ন্ত্রণ বাঁধের উপর দিয়েও পানি প্রবাহিত হচ্ছে। রাস্তা-ঘাটসহ ঘরবাড়ি তলিয়ে গেছে। হাজার হাজার মানুষ চরম দুর্ভোগের মধ্যে পড়েছেন। ঘরবাড়ি ছেরে মানুষ আশ্রয়ে খুঁজে বেরিয়ে পড়েছেন। এসব এলাকায় এখন তীব্র খাদ্য সংকট দেখা দিয়েছে। 

বন্যা দুর্গত এলাকার লোকজনের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, করোনার প্রাদুর্ভাবে আগে থেকে কর্মহীন ছিল। তার সঙ্গে বন্যা যোগ হওয়ায় দুর্গত এলাকার মানুষ চরম দুর্ভোগের মধ্যে রয়েছেন। একই সঙ্গে ফের বন্যায় আক্রান্ত হওয়ায় চরভাবে বিপাকে পড়েছেন দুর্গত এলাকার মানুষ। তাঁদের ঘরে পর্যাপ্ত খাবার নেই। অনেকে খাবার অভাবে চিড়া-মুড়ি খেয়েও থাকছেন। দুর্গত এলাকার লোকজন আশ্রয় কেন্দ্র, সেতু ও উঁচু স্থান যেতে শুরু করেছেন। ঘরবাড়ী বানের পানিতে ভেসে যাওয়া অনেকেই ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে। 
জেলা পানি উন্নয়ন বোর্ড জানিয়েছে মঙ্গলবার দুপুর যমুনা নদীর পানি বাহাদুরাবাদ ঘাট পয়েন্টে বিপদসীমার ১১৫ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হয় এবং ব্রহ্মপুত্র নদের পানি বিপদসীমা অতিক্রম না করলেও পানি বৃদ্ধি অব্যাহত রয়েছে। 

জেলার দেওয়ানগঞ্জ উপজেলার ৯টি ইউনিয়নের মধ্যে ৮টি ইউনিয়ন বন্যায় কবলিত। মঙ্গলবার দুপুরে দেওয়াগঞ্জ পৌর এলাকায় গিয়ে দেখা যায়- যমুনার পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় পৌরসভার সিংহভাগ এলাকা পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। সড়ক গুলোতে ৩-৪ ফুট পানি থাকায় যানবাহন চলাচল করতে পারছে না অধিকাংশ এলাকায়। পানি বন্দি হয়ে পড়ায় বন্ধ ঘোষনা করা হয়েছে উপজেলা পরিষদ ও ভূমি অফিসসহ কয়েকটি সরকারি দফতর। বিভিন্ন বাজারে বন্যার পানি ঢুকে পড়ায় ভোগান্তিতে রয়েছে ক্রেতা ও ব্যবসায়ীরা। সব মিলিয়ে ব্যাপক দূর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে দেওয়ানগঞ্জ পৌর এলাকা ও ৮ ইউনিয়নের বাসিন্দাদের। একই চিত্র জেলার প্রায় সব কয়েকটি উপজেলায়।
দেওয়ানগঞ্জ বেলতৈল বাজারের বাসিন্দা মো: মোজাম্মেল হক জানান- এবার ২য় দফা হঠাৎ করে পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় বিপাকে পড়েছেন তারা। কোনো রকম প্রস্তুতি ছিলো না তাদের। এখন পরিবার পরিজন নিয়ে দুর্বিসহ জীবন যাপন করছেন তারা।

কয়েকজন যানবাহন চালক জানান- হঠ্যাৎ করে বন্যার পানি আসায় রাস্তা ঘাট তলিয়ে গিয়েছে। তাই এখন গাড়ি না চালানোয় তাদের উপার্জন বন্ধ হয়ে গেছে। এভাবে চলতে থাকলে চরম দূর্ভোগ পড়তে হবে তাদের। তাই তারা দ্রুত প্রশাসনের কাছে ত্রানের দাবি জানান। ত্রানের বিষয়ে জেলা ত্রান ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা মো: নায়েব আলী জানান- জেলার জন্য পর্যাপ্ত ত্রান রয়েছে । পর্যায়ক্রমে ত্রানের যোগ্য সকলকে ত্রান সহায়তা দেওয়া হবে।

আর পানি বৃদ্ধির বিষয়ে জেলা পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মোহাম্মদ আবু সাঈদ জানান- যমুনা নদীর পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকবে এবং এই বন্যা ২-৩ সপ্তাহ পর্যন্ত থাকতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন তিনি।