• ঢাকা
  • সোমবার, ২৬ অক্টোবর, ২০২০, ১১ কার্তিক ১৪২৭
প্রকাশিত: সেপ্টেম্বর ২৬, ২০২০, ০৫:১৬ এএম
সর্বশেষ আপডেট : সেপ্টেম্বর ২৬, ২০২০, ০৫:২১ এএম

এমসি কলেজ ছাত্রলীগ কর্মীদের ধর্ষণের শিকার গৃহবধূ  

সিলেট  সংবাদদাতা
এমসি কলেজ ছাত্রলীগ কর্মীদের ধর্ষণের শিকার গৃহবধূ  
সিলেট এমসি কলেজের গৃহবধূ ধর্ষনের ঘটনায় জড়িত ৬ স্থানীয় ছাত্রলীগ নেতাকর্মী (পরিচয় অনিশ্চিত) - বিশেষ সূত্রে সংগৃহিত

বাংলাদেশের বুকে 'প্রাচ্যের অক্সফোর্ড' খ্যাত সিলেটের শতবর্ষের ঐতিহ্যবাহী এমসি কলেজ ছাত্রাবাসে স্বামীকে আটকে রেখে এক গৃহবধূকে গণধর্ষণ করেছে ছাত্রলীগের ৬ কর্মী।

শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) রাত ১০টার দিকে খবর পেয়ে ঘটনাস্থল থেকে পৈশাচিক এই ধর্ষনকাণ্ডের শিকার ঐ গৃহবধূ ও তার স্বামীকে উদ্ধার করে শাহপরাণ থানা পুলিশ। 

পরে তাকে ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ওয়ানস্টপ ক্রাইসিস সেন্টারে (ওসিসি) ভর্তি করা হয়েছে।

অমানবিক এই ধর্ষনকাণ্ড ও এর প্রেক্ষিতে ঐতিহ্যবাহী শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটির মর্যাদা ক্ষুণ্ন হওয়ায় সাধারণ শিক্ষার্থীসহ সাধারণ নাগরিকদের মাঝে তীব্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে। এরইমধ্যে এই বিষিয়টি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম তোলপাড় করছে কট্টর সমালোচনা ও তীব্র নিন্দার ঝড়। 

ঘটনা সম্পর্কে প্রত্যক্ষদর্শীদের বর্ণনায় জানা যায়, ওই গৃহবধূ স্বামীর সঙ্গে এমসি কলেজ ঘুরতে আসেন। সিলেটের এমসি কলেজে স্বামীর সঙ্গে ঘুরতে যান ওই গৃহবধূ। এক পর্যায়ে রাত ৮টার দিকে তরুণীর স্বামী সিগারেট খাওয়ার জন্য এমসি কলেজের মূল গেটের বাইরে বের হন। এ সময় কয়েকজন ছাত্রলীগ কর্মী গৃহবধূকে জোরপূর্বক তুলে নিয়ে যেতে চায়। এতে তার স্বামী প্রতিবাদ করলে তাকে মারপিট শুরু করেন ছাত্রলীগের কর্মীরা। এক পর্যায়ে গৃহবধূ ও তার স্বামীকে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা এমসি কলেজের ছাত্রাবাসে নিয়ে যায়। সেখানে স্বামীকে বেঁধে ছাত্রলীগের তিন-চারজন নেতাকর্মী গৃহবধূকে পালাক্রমে ধর্ষণ করে।

শাহপরাণ থানা পুলিশের তথ্য মতে, খবর পেয়েই সেখানে র‌্যাব-৯ ও সিলেট মহানগর পুলিশের একাধিক ঊর্ধ্বতন কর্মকতারা উপস্থিত হয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন এবং অভিযুক্তদের ধরতে জোরদার অভিযান পরিচালনায় তাৎক্ষনিক নির্দেশনা প্রদান করেন।

প্রাথমিক পর্যায়ে আসলে কতজন ছাত্রলীগ নেতাকর্মী এই ঘটনার সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলো সে সম্পর্কে সঠিক তথ্য নিশ্চিতভাবাএ জানা না গেলেও বিশেষ একটি সূত্রের বরাতে ৬ ছাত্রলীগ সদস্যের সম্পৃক্ততা সম্পর্কে তথ্য পাওয়া গেছে।

তবে এ প্রসঙ্গে সিলেট মহানগর পুলিশের উপ-কমিশনার (দক্ষিণ) মোহা. সোহেল রেজা পিপিএম বলেন, রাত ৯টার দিকে স্বামীকে ধরে নিয়ে কিছু ছেলে মারপিট করে। গৃহবধূকে ছাত্রাবাসে ভেতরে নিয়ে তিন-চারজন মিলে গণধর্ষণ করেছে বলে অভিযোগ করেছেন তিনি।

অপরদিকে সিলেট মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত উপ কমিশনার (গণমাধ্যম) জ্যোর্তিময় সরকার বলেন, অভিযোগকারী গৃহবধূর স্বামীর বাড়ি সিলেটের দক্ষিণ সুরমা এলাকায়। শুক্রবার বিকেলে তিনি স্ত্রীসহ টিলাগড় এলাকায় বেড়াতে গিয়েছিলেন। এ সময় ৪-৫ জন তরুণ তাদের জিম্মি করে ছাত্রাবাসের ভেতরে নিয়ে যায়। পরে ছাত্রাবাসের ভেতরের একটি রাস্তায় তার স্ত্রীকে ধর্ষণ করে।

সিলেট শাহপরান থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কাইয়ুম চৌধুরী জানান, এক দম্পতিকে এমসি কলেজ ছাত্রাবাসে আটকে রাখা হয়েছে খবর পেয়ে পুলিশ ছাত্রাবাস থেকে তাদের উদ্ধার করে। উদ্ধার হওয়া নারী ধর্ষণের অভিযোগ করেছেন। পরে তাকে ওসমানী হাসপাতালের ওসিসিতে ভর্তি করা হয়েছে।

এমসি কলেজের ছাত্রাবাসের সুপার মো. জামাল উদ্দিন জানান, কয়েকজন ছাত্রাবাসে এক দম্পতিকে আটক রাখে বলে অভিযোগ পেয়েছি। পরে পুলিশ তাদের উদ্ধার করে। আমরা এ বিষয়ে বিস্তারিত খবর নিচ্ছি।

এমসি কলেজের অধ্যক্ষ সালেহ আহমদও একই তথ্য জানিয়ে বলেছেন, তাদের কেনো আটকে রাখা হয়েছিলো এবং তাদের সঙ্গে কী আচরণ করা হয়েছে তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীও বিষয়টি তদন্ত করছে।

এসকে