• ঢাকা
  • সোমবার, ১৮ জানুয়ারি, ২০২১, ৫ মাঘ ১৪২৭
প্রকাশিত: জানুয়ারি ৮, ২০২১, ১২:০৩ পিএম
সর্বশেষ আপডেট : জানুয়ারি ৮, ২০২১, ১২:০৬ পিএম

অপরূপ মনপুরার দখিনা হাওয়া সি-বিচ

অচিন্ত্য মজুমদার, ভোলা  
অপরূপ মনপুরার দখিনা হাওয়া সি-বিচ

বঙ্গোপসাগর আর মেঘনার মোহনায় পলি জমে জেগে উঠেছে প্রায় এক কিলোমিটার দীর্ঘ বালুর সৈকত। পাশেই ম্যানগ্রোভ বনাঞ্চলের সবুজের সমারোহ বাড়িয়েছে জায়গাটির সৌন্দর্য। কেওড়া ঝোপে হরিণের ছুটে চলা, অতিথি পাখির কলতান মুগ্ধ যে কাউকে মুগ্ধ করার জন্য যথেষ্ট। প্রকৃতির এ লাবণ্য উপভোগ করতে হলে যেতে হবে বাংলাদেশের একমাত্র দ্বীপ জেলা ভোলার বিচ্ছিন্ন উপজেলা মনপুরার দক্ষিণ সাকুচিয়া ইউনিয়নের রহমানপুরে। 

সাগরের কোল ঘেঁষে জেগে ওঠা এ দ্বীপের নীল আকাশ আর বালুর সৈকতে রুপালি ঢেউয়ের ঝিলিক মনে হবে, এ বুঝি  কক্সবাজার অথবা কুয়াকাটা সমুদ্রসৈকত। স্থানীয়রা এর নাম দিয়েছে ‘দখিনা হাওয়া সি-বিচ’। যেখানে একই সঙ্গে দেখা মিলে নীল আকাশের জলরাশি, ম্যানগ্রোভ বন, হরিণ, অতিথি পাখির ঝাঁক; আর সূর্যোদয়-সূর্যাস্তের অপরূপ দৃশ্য। 

‘দখিনা হাওয়া সি-বিচ’ ঘিরেই মনপুরা হতে পারে দেশের অন্যতম পর্যটন এলাকা। কয়েক বছর ধরেই শীত মৌসুমের শুরু থেকে এই স্পটে পর্যটকদের ভিড় বাড়ছে। নতুন এ সমুদ্রসৈকতের সৌন্দর্য উপভোগ করতে দূরদূরান্ত থেকে দলবেঁধে আসছেন ভ্রমণপিপাসুরা। সৈকতের সৌন্দর্য উপভোগ করার পাশাপশি পর্যটকদের বিশ্রাম নেওয়ার জন্য অর্ধশতাধিক ছাতা ও বেঞ্চ বসানো হয়েছে। আছে ছনের তৈরি একাধিক গোলঘর, বৈঠকখানা, দোলনা। পাশাপাশি পর্যটকদের নিরাপত্তায় লাইফ জ্যাকেটেরও ব্যবস্থা করা হয়েছে।

দখিনা হাওয়া সি-বিচে বেড়াতে আসা পর্যটক জসিম রানা, মাসুদা আক্তার ও হাসান মাহামুদ জানান, নতুন এ সৈকতের সৌন্দর্যই আলাদা। সপরিবারে আনন্দময় সময় কাটানোর জন্য মনোরম। কক্সবাজার ও কুয়াকাটা সৈকত থেকে এর সৌন্দর্য অন্য রকম।

এ প্রসঙ্গে উপজেলা চেয়ারম্যান শেলিনা আকতার চৌধুরী জানান, স্বেচ্ছাসেবীদের মাধ্যমে দখিনা হাওয়া সি-বিচের শোভাবর্ধনের পাশাপাশি সরকারি অনুদানে বিচের পাকা গেট নির্মাণের কাজ চলছে। সি-বিচের শোভাবর্ধনের জন্য ইতিমধ্যে জেলা প্রশাসকের কাছে ১ কোটি ২০ লাখ টাকার একটি প্রকল্প পাঠানো হয়েছে। এটি অনুমোদন পেলে দেশের অন্যতম পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে ‘দখিনা হাওয়া সি-বিচকে’ রূপান্তর সম্ভব।

এ সৈকতে সৌন্দর্য বাড়াতে ভোলা জেলা প্রশাসনের উন্নয়ন পরিকল্পনায় কিছু প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে বলে জানান উপজেলা নির্বাহী অফিসার শামীম মিয়া। তিনি বলেন, “মনপুরাকে আকর্ষণীয় পর্যটন কেন্দ্রে রূপান্তরের পরিকল্পনাও এতে যুক্ত করা হয়েছে। আগামী মার্চের মধ্যে এই উপজেলাকে শতভাগ বিদ্যুতের আওতায় আনা হচ্ছে। এ ছাড়া এখানে ঘুরতে আসা পর্যটকদের নিরাপত্তায় পুলিশ প্রশাসনসহ জনপ্রতিনিধিদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।”

যেভাবে যাবেন
ঢাকার সদরঘাট থেকে বিকেল সাড়ে ৫টায় এমভি ফারহান ও সন্ধ্যা ৬টায় এফবি তাসরিফ লঞ্চে ডেকে ৩৫০ টাকা ও কেবিনে ১২০০ টাকায় সরাসরি মনপুরায় আসতে পারেন। এছাড়া বরিশাল থেকে লঞ্চে ভোলার ভেদুরিয়া হয়ে বাসযোগে তজুমদ্দিন সি-ট্রাক ঘাট। সেখান থেকে লঞ্চ করে সন্ধ্যায় মনপুরায়। অপর দিকে ভোলার ভেদুরিয়া থেকে বাসযোগে চরফ্যাশন লঞ্চঘাট। সেখান থেকে লঞ্চ করে সরাসরি মনপুরার জনতা ঘাট হয়ে দখিনা হাওয়া সি-বিচে যেতে পারেন।

পর্যটকদের থাকা-খাওয়ার ব্যবস্থা 
সি বিচসংলগ্ন থাকার ব্যবস্থা নেই। তবে উপজেলা শহরে জেলা পরিষদের চারতলা ও দুইতলা দুইটি ডাকবাংলো ও পানি উন্নয়ন বোর্ডের রয়েছে একটি ডাকবাংলো। এছাড়া ব্যক্তিগত উদ্যোগে গড়ে উঠেছে আধুনিক আবাসিক হোটেল। মনপুরা সদর থেকে অটোরিকশা ও ভাড়ায় চালিত মোটরসাইকেল করে বিচে যাওয়া যায়। এখানকার খাবার হিসেবে শীতের হাঁস, বনমোরগ, তাজা ইলিশ, রূপসী মাছ ও মহিষের দুধের টক দইয়ের বিশেষ চাহিদা রয়েছে। স্থানীয় হোটেলে খুব সহজেই মিলবে এসব খাবার। আর দামও হাতের নাগালে।