• ঢাকা
  • রবিবার, ২৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২১, ১৫ ফাল্গুন ১৪২৭
প্রকাশিত: জানুয়ারি ১৬, ২০২১, ০২:১৩ পিএম
সর্বশেষ আপডেট : জানুয়ারি ১৬, ২০২১, ০৪:০৪ পিএম

কাজ ছাড়াই দাঁড়িয়ে আছে যুগের পর যুগ

কাজ ছাড়াই দাঁড়িয়ে আছে যুগের পর যুগ

কৃষিকাজে ব্যাপক সহায়তার জন্য আশির দশকে দেশের দক্ষিণাঞ্চলে ‘বরিশাল ইরিগেশন প্রজেক্ট (বিআইপি)’ নামের একটি প্রকল্প বাস্তবায়ন করে বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড (বাপাউবো)। এ প্রকল্পের অধীনে বরিশাল বিভাগের অন্য জেলাগুলোর মতোই ঝালকাঠিতে নির্মাণ করা হয় অনেক পাম্পহাউস, স্লুইচগেট, রেগুলেটর, ফ্লাশ ইনলেট ও ক্লোজার।

কিন্তু খালের ওপর নির্মাণ করা স্লুইচগেটগুলো কোনো কাজে লাগছে না। বরং যুগের পর যুগ ঠায় দাঁড়িয়ে আছে খাল দখল করে। এতে পানির স্বাভাবিক প্রবাহ যেমন বাধাগ্রস্ত হচ্ছে তেমনি স্রোত কমে গিয়ে অনেক জায়গায় পলি জমে সরু হয়েছে খাল। অনেকে আবার স্লুইচগেটগুলোর ওপর কাঠের সাঁকো ব্যবহারে ঘটছে দুর্ঘটনা।

ঝালকাঠি জেলা পানি উন্নয়ন বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী দীপক রঞ্জন দাশের দেওয়া তথ্যমতে, জেলায় মোট ২১৭টি স্লুইচগেট ও ২৮টি পাম্পহাউস রয়েছে। এর মধ্যে ঝালকাঠি সদর উপজেলায় ১৪টি পাম্পহাউসে ১১২টি স্লুইচগেট ও নলছিটি উপজেলায় ১৪টি পাম্পহাউসে ১০৫টি স্লুইচগেট রয়েছে। কাটাখালী পোল্ডার বা উপ-প্রকল্পে আছে তিনটি রেগুলেটর। যেগুলো নলছিটির সুবিদপুর ইউনিয়নে স্থাপিত হয়েছে।

সুবিদপুর ইউনিয়নের গোদন্ডা গ্রামের বাসিন্দা সাইফুল ইসলাম জানান, ছোটবেলা থেকেই বিভিন্ন খালের ওপর স্লুইচগেট দেখছেন। কিন্তু এগুলো ঠিক কী কাজে লাগে তা তিনি জানেন না। এই স্লুইচগেটগুলো খালের বোঝা বলে জানান তিনি।

নলছিটি উপজেলার মোল্লারহাট এলাকার কৃষক কবির সিকদার বলেন, “স্লুইচগেট এলাকার কৃষকদের কোনো উপকারে আসে না। বরং এ গেটের কারণে খালগুলোতে পানির স্রোত কমে যায়। এতে আমাদের ভোগান্তি বাড়ে।”

জেলা পানি উন্নয়ন বিভাগের উপসহকারী প্রকৌশলী মো. সাজেদুল বারী বলেন, “প্রজেক্টটি সেচের জন্য করা হলেও এটি শেষ পর্যন্ত সফল হয়নি। স্লুইচগেটগুলো অপসারণ ব্যাপারে একাধিকবার ওপর মহলকে জানানো হয়েছে। কিন্তু সরকার উদ্যোগ না নিলে বা বড় আকারের অর্থ বরাদ্দ না হলে ঝালকাঠিসহ বরিশাল অঞ্চলের ছোট খালগুলোর এ স্লুইচগেটগুলো অপসারণ করা সম্ভব নয়।”