• ঢাকা
  • শুক্রবার, ২৬ ফেব্রুয়ারি, ২০২১, ১৪ ফাল্গুন ১৪২৭
প্রকাশিত: জানুয়ারি ২৬, ২০২১, ০৩:৫২ পিএম
সর্বশেষ আপডেট : জানুয়ারি ২৬, ২০২১, ০৫:১১ পিএম

মুক্তাগাছার পান যাচ্ছে মধ্যপ্রাচ্যে

মুক্তাগাছার পান যাচ্ছে মধ্যপ্রাচ্যে

ময়মনসিংহের মুক্তাগাছা উপজেলার তারাটি, মানকোন ও ঘোগা ইউনিয়নের প্রায় ৬২টি গ্রামের মানুষ পান চাষের মাধ্যমে স্বাবলম্বী হয়ে উঠেছেন। পুরো এলাকা পানের বরজ আর বরজ। এ এলাকায় উৎপাদিত পান, দেশের বিভিন্ন জেলাসহ মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে রপ্তানি হচ্ছে। কম খরচে বেশি লাভ হওয়ায় পান চাষের মাধ্যমে এ এলাকার শত শত পরিবার নিজেদের ভাগ্যের চাকা রীতিমতো ঘুরিয়ে দিয়েছেন।

এমনই একজন পানচাষি মুক্তাগাছা তারাটি বিরাশী ব্লকের শসা কান্দাপাড়া গ্রামের বাসিন্দা  মো. শফিকুল আলম। তিনি ধান চাষের আবাদ কমিয়ে পান চাষ শুরু করেন। শফিকুল দেশি জাতের পান কাটিং দিয়ে চাষাবাদ এবং পানের দুইটি বরজ তৈরি করে। এতে ধান অপেক্ষা পান চাষে লাভবান হন। তবে রোগজীবাণু এবং মাটির উর্বরতায় ভেদে দেশি পান চাষে তুলনামূলক কম লাভ হতো তার। 

পরবর্তী সময়ে শফিকুল এই প্রতিবন্ধকতা দূর করার জন্য পরামর্শ নেন উপসহকারী কৃষি অফিসার শংকর কুমার সরকারের। তার পরামর্শ এবং তত্ত্বাবধানে অন্য জমিতে উন্নত জাত ভেড়ামারা জাতের দুইটি পান বরজ তৈরি করেন শফিকুল। এ বরজ তৈরি করতে বিঘা প্রতি ১ লাখ ৩০ হাজার টাকার মতো খরচ হয় তার। রোপণের ৫-৬ মাসের মধ্যে পান বিক্রি শুরু হয়ে যায়। এক বছর ব্যবধানে তার বার্ষিক আয় হয় ৫ লাখ টাকা। 

শফিকুলের পান চাষের সাফল্য দেখে আশপাশের ২৭টি গ্রামের কৃষকরা পান চাষে ঝুঁকছেন।

উপসহকারী কৃষি অফিসার শংকর কুমার সরকার বলেন, “নতুন চাষিদের আধুনিক উপায়ে প্রযুক্তিনির্ভর পান চাষে উৎসাহ, উদ্দীপনা দিয়ে যাচ্ছি। পাশাপাশি এই এলাকার মাটি পান চাষের জন্য উপযোগী এবং ধান অপেক্ষা পান চাষে  লাভজনক, তাই পান চাষে ঝুঁকছেন চাষিরা।”

মুক্তাগাছার পানচাষিরা জানান, এই অঞ্চলের পান দেশের চাহিদা মিটিয়ে সৌদি আরবে রপ্তানি হচ্ছে। সৌদি আরবে বাংলাদেশের ময়মনসিংহ জেলার পানের ব্যাপক চাহিদা রয়েছে বলে জানান তারা।

মুক্তাগাছা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আব্দুল্লাহ আল মনসুর বলেন, “পান বাংলাদেশের একটি অন্যতম অর্থকরী ফসল। বিভিন্ন ধরনের ধর্মীয় উৎসবসহ, বিয়েতে পানের ব্যাপক চাহিদা আছে। মুক্তাগাছার পান দেশের চাহিদা মিটিয়ে মধ্য প্রাচ্যে রপ্তানি হচ্ছে এটা দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে ভূমিকা রাখবে বলে আশা করছি।”