• ঢাকা
  • শুক্রবার, ০৭ অক্টোবর, ২০২২, ২১ আশ্বিন ১৪২৯
প্রকাশিত: ফেব্রুয়ারি ৯, ২০২১, ০৬:০৬ পিএম
সর্বশেষ আপডেট : ফেব্রুয়ারি ৯, ২০২১, ১২:১২ পিএম

এমসি কলেজে গণধর্ষণ

ধর্ষিতার স্বামীকেই কাটাতে হলো হাজতে

ধর্ষিতার স্বামীকেই কাটাতে হলো হাজতে

সিলেটের এমসি কলেজের ছাত্রাবাসে তরুণীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের মামলার বাদীকে (ধর্ষণের শিকার তরুণীর স্বামী) ধরে নিয়ে গিয়ে রাতভর থানা হাজতে আটকে রেখে হয়রানির অভিযোগ উঠেছে পুলিশের বিরুদ্ধে। 

শনিবার (৬ ফেব্রুয়ারি) এ ঘটনা ঘটেছে বলে জানিয়েছেন মামলার বাদী। 

আদালত মামলার বাদী, সাক্ষী ও আইনজীবীদের নিরাপত্তা দেওয়ার জন্য সিলেট মহানগর পুলিশ কমিশনারকে নির্দেশ দিলেও এ ব্যাপারে পুলিশের কেউ যোগাযোগ করেনি বলে দাবি করেছেন মামলার বাদী। পুলিশের দাবি, আগের তারিখে সাক্ষ্য দিতে আদালতে না যাওয়ায় তাকে ধরে এনেছিল পুলিশ। বাদী আসামিদের সঙ্গে আপস করছেন— এমন আশঙ্কার কথাও জানিয়েছে পুলিশ। 

মঙ্গলবার (৯ ফেব্রুয়ারি) এই প্রতিবেদকের সঙ্গে আলাপকালে মামলার বাদী (নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক) বলেন, “গত রবিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) ছিল আদালতে সাক্ষ্য গ্রহণের দিন। এর আগের দিন রাত ১০টার দিকে সিলেটের দক্ষিণ সুরমা থানার পুলিশ আমার কাছে আসে। তারা আমাকে তাদের সঙ্গে থানায় যেতে বলে। আমি কারণ জানতে চাইলে কথা বলতে না দিয়ে জোর করে আমাকে থানায় নিয়ে যায়। সেখানে নিয়ে আমাকে হাজতে ঢুকিয়ে দেয়। তখনও আমি অনেকবার জানতে চাই আমাকে কেন ধরে আনা হলো। কিন্তু জবাব না দিয়ে পুলিশ উল্টো গালিগালাজ করে আমাকে। তারা (পুলিশ) আমাকে মিথ্যাবাদী, ধান্দাবাজ এসব বলে এবং আমার স্ত্রীকেও থানায় নিয়ে আসতে হবে বলে জানায়।”

তিনি আরো বলেন, “পরদিন ছিল আদালতে সাক্ষ্যগ্রহণ। ওইদিন সকাল ১০টায় পুলিশ আমাকে হাজত থেকে বের করে আদালতে নিয়ে যায়। সেখানে বিচারক আমাকে নিরাপত্তা দিতে পুলিশকে আদেশ দেন। কিন্তু কোনো নিরাপত্তা পাইনি। এমনকি পুলিশের কেউ আমার সঙ্গে যোগাযোগও করেনি।”

বাদীর এমন অভিযোগের প্রেক্ষিতে সিলেট মহানগর পুলিশের দক্ষিণ সুরমা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মনিরুল ইসলাম বলেন, “বাদী আদালতে সাক্ষ্য দিতে যান না। তাই আদালতে তার বিরুদ্ধে ওয়ারেন্ট জারি করেছিলেন। শুধু একবার না, দুইবার এই ওয়ারেন্ট জারি করা হয়েছে। এই ওয়ারেন্টের কারণেই সাক্ষ্যগ্রহণের আগের রাতে আমরা তাকে ধরে আনতে বাধ্য হয়েছি।”

বাদীকে গালিগালাজ ও তার সঙ্গে দুর্ব্যবহার সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন, “এসব কিছুই করা হয়নি। বলেছি তার স্ত্রীকে ডেকে আনতে এবং দুইজনেই যেন রোববার আদালতে হাজিরা দেন।”

মনিরুল ইসলাম বলেন, “বাদীর আদালতে হাজির না হওয়াটা রহস্যজনক। তিনি আসামিদের সঙ্গে আপস করে ফেলছেন কি না সেটাও একটা চিন্তার বিষয়। আমরা সেরকম আশঙ্কা করছি।”

জানা গেছে, রোববার (৭ ফেব্রুয়ারি) বিচারিক আদালত পরিবর্তন চেয়ে হাইকোর্টে বাদীর করা আবেদনের প্রেক্ষিতে সাক্ষ্যগ্রহণ করা সম্ভব না হওয়ায় ফের তারিখ পেছানো হয়। এ নিয়ে টানা তৃতীয়বারের মতো সাক্ষ্যগ্রহণ পেছায়। এর আগে গত ২৪ ও ২৭ জানুয়ারি সাক্ষ্যগ্রহণের নির্ধারিত তারিখেও সাক্ষীরা হাজির না হওয়ায় সাক্ষ্যগ্রহণ হয়নি। 

বাদীপক্ষের আইনজীবী সিরাজুল ইসলাম জানিয়েছেন, বাদী ন্যায়বিচার না পাওয়ার আশঙ্কা থেকে বিচারিক আদালত পরিবর্তনের আবেদন করেছেন। আবেদনে সিলেটের অন্য কোনো ট্রাইব্যুনালে বিচারের জন্য মামলাটি যেন বদলির আদেশ দেওয়া হয়, সে প্রার্থনা করা হয়।

গত বছরের ২৫ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় স্বামীর সঙ্গে সিলেটের এমসি কলেজে বেড়াতে গেলে ধর্ষণের শিকার হন ওই তরুণী।

এ ঘটনায় দায়ের করা মামলায় প্রধান আসামি করা হয় ছাত্রলীগকর্মী সাইফুর রহমানকে। ঘটনার ২ মাস ৭ দিন পর মামলার তদন্ত কর্মকর্তা শাহপরান থানার পরিদর্শক ইন্দ্রনীল ভট্টাচার্য অভিযোগপত্র জমা দেন। অভিযোগ পত্রে বলা হয়েছে, আটজনের জনের মধ্যে ছয়জন ধর্ষণে সরাসরি জড়িত, বাকিরা সহযোগিতা করেছে। 

সরাসরি জড়িতরা হলেন— সাইফুর রহমান, শাহ মাহবুবুর রহমান রনি, তারেকুল ইসলাম তারেক, অর্জুন লস্কর, আইনুদ্দিন ওরফে আইনুল ও মিসবাউল ইসলাম রাজন মিয়া। আর রবিউল ইসলাম ও মাহফুজুর রহমান মাসুমের বিরুদ্ধে ধর্ষণে সহযোগিতা করার অভিযোগ আনা হয়েছে। আট আসামির সবাই গ্রেপ্তার হয়ে কারাগারে আছেন।