• ঢাকা
  • শুক্রবার, ১৬ এপ্রিল, ২০২১, ৩ বৈশাখ ১৪২৮
প্রকাশিত: এপ্রিল ৭, ২০২১, ০৯:৪৩ পিএম
সর্বশেষ আপডেট : এপ্রিল ৭, ২০২১, ০৯:৪৩ পিএম

মেয়রের বাসায় গ্যাস লিকেজ থেকেই বিস্ফোরণ 

মেয়রের বাসায় গ্যাস লিকেজ থেকেই বিস্ফোরণ 

মুন্সীগঞ্জের মিরকাদিম পৌরসভার মেয়র আব্দুস সালামের বাড়িতে বিস্ফোরণের ঘটনাটি গ্যাস লিকেজ থেকেই হয়েছে বলে জানিয়েছেন বোম্ব ডিসপোজাল ইউনিট। বুধবার (৭ এপ্রিল) দুপুরে বিষয়টি নিশ্চিত করে সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আবু বকর সিদ্দিক। 

আবু বকর সিদ্দিক জানান, ঘটনার পর রাতভর বোম্ব ডিসপোসাল ইউনিউট, পুলিশ ও সিআইডি ঘটনাস্থলে কাজ করেছেন। এছাড়া সিআইডি, জেলা পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিস ঘটনাস্থলের আলামত পরীক্ষা করে বোমার কোনো আলামত পায়নি। পর্যবেক্ষণ শেষে বিস্ফোরণটি গ্যাস লিকেজ থেকেই হয়েছে বলে জানিয়েছেন বোম্ব ডিসপোজাল ইউনিটের সদস্যরা।

এর আগে মঙ্গলবার (৬এপ্রিল) রাত নয়টার দিকে পৌরসভার রামগোপালপুর এলাকায় এ বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। এতে পৌর মেয়র আব্দুস সালামের স্ত্রী, পৌরসভার প্যানেল মেয়রসহ ১৩জন দগ্ধ হয়েছেন।

আহতরা হলেন- মিরকাদিম পৌরসভার প্যানেল মেয়র রহিম বাদশা (৫৫), আওলাদ হোসেন (৪০), কাউন্সিলর দ্বীন ইসলাম (৪০), মোঃ সোহেল (৫২), মেয়র আব্দুস সালামের স্ত্রী কানন বালা (৪০),  যুবলীগকর্মী তাইজুল (২০), মোঃ মোশারফ (৬২), মনির হোসেন (৫০), শ্যামল দাশ (৪৫), পান্না (৫০), কালু (৪০), ইদ্রিস আলী (৫০), ও মহিউদ্দিন (৫২)।

এদের মধ্যে রহিম বাদশাকে মুন্সীগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসা শেষে দুপুরে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। বাকি ১২জনকে গুরুতর অবস্থায় ঢাকা মেডিকেল হাসপাতালের শেখ হাসিনা বার্ন ইউনিটে পাঠানো হয়েছে। গুরুতর আহতদের মধ্যে মেয়রের স্ত্রীর কানুন বালা বেগমকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় আইসিউতে ভর্তি করা হয়েছে। তার দেহের ৬০ভাগ পুড়ে গেছে বলে জানিয়েছেন মুন্সীগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালের কর্তব্যরত চিকিৎসক শৈবাল বসাক।

সরেজমিনে ঘটনাস্থলে গিয়ে প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয়দের কাছ থেকে জানা যায়, পৌরসভার গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্র নিয়ে মঙ্গলবার রাত ৯টার দিকে মেয়রের চারতলা বাসার তৃতীয়তলার একটি কক্ষে মেয়রের সঙ্গে আলাপচারিতা করছিলেন পৌর কাউন্সিলরসহ অন্যান্যরা। হঠাৎ করেই বিকট শব্দে বিস্ফোরণ ঘটে। মুহুর্তে কক্ষের ভেতর আগুনের শিখা দেখা যায়। বিস্ফোরণে কক্ষের আসবাবপত্র, জানালার কাচ ফেটে চুরমার হয়ে গেছে। এ সময় বিস্ফোরণের শব্দ পেয়ে আশপাশের লোকজন ছুটে এসে মেয়র স্ত্রীর ও  প্যানেল মেয়রসহ ১৩ জনকে আহত অবস্থায় উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যান।

মুন্সীগঞ্জ ফায়ার সার্ভিসের সিনিয়র স্টেশন অফিসার আবু ইউসুফ জানান, গ্যাসের লাইনের লিকেজ থেকেই  ঘরে গ্যাস ছড়িয়ে থাকায় এঘটনা ঘটেছে বলে প্রাথমিক ভাবে ধারণা করা হচ্ছে। সে সময় মেয়র স্ত্রী রান্নার জন্য গ্যাসের চুলা জ্বালাতে গেলে এমন বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটতে পারে।

প্যানেল মেয়র রহিম বাদশা জানান, পৌরসভার একটি কাজের ব্যাপারে চারজন কাউন্সিলরসহ আমরা কয়েকজন মেয়রের বাসায় আলোচনা করছিলাম। হঠাৎ কিছু একটা বিস্ফোরণ ঘটে। কিসের থেকে এমন বিস্ফোরণ ঘটেছে তা এখনও বলতে পারছি না।

মিরকাদিম পৌরসভার মেয়র আব্দুস সালাম বলেন, “পরিকল্পিতভাবে আমার হত্যার উদ্দেশ্যে একটি কুচক্রী মহল বোমা বিস্ফোরণ ঘটিয়েছে। আমি ভাগ্যক্রমে রক্ষা পাই। এতে আমার স্ত্রীসহ ১৩জন দগ্ধ হয়েছেন। আমি এর উপযুক্ত বিচার চাই।”

এ ব্যাপারে পুলিশ সুপার আব্দুল মোমেন পিপিএম বলেন, “আমি এবং জেলা প্রশাসক বুধবার ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। সেখানে কোন বোমার আলামত পাওয়া যায়নি। মঙ্গলবার রাতেই বোমা ডিসপোজাল ইউনিট ও ফায়ার সার্ভিস ইউনিট ঘটনাস্থল পরিদর্শন শেষে আমাদের জানান নবনির্বাচিত মেয়র আব্দুস সালামের বাসায় যেকোন কারণে গ্যাস লিকেজ থাকায় পুরো বাসায় গ্যাস চেম্বর হয় এবং স্পার্কের ফলে বিস্ফোরণের ঘটনাটি ঘটেছে।”

জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান তালুকদার জানান, মঙ্গলবার রাতে মিরকাদিম পৌরসভার মেয়র আব্দুস সালামের বাড়িতে একটি বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। ঘটনার পরপরই পুলিশের টিম ও ফায়ার সার্ভিসের টিম সেখানে যায়। তারা সেখানে বেশ কিছু আলামত উদ্ধার করে। বুধবার আমি এবং জেলা পুলিশ সুপার ঘটনাস্থল পরিদর্শন করি। সেখানে আমরা দেখতে পাই রানা ঘড়সহ কয়েকটি কক্ষে আগুনের চিহ্ন রয়েছে। আমরা সেখানে কোন বিস্ফোরক দ্রব্যের আলামত দেখতে পাইনি। আমরা প্রাথমিক ভাবে ধারণা করছি গ্যাসের চুলা থেকে এই অগ্নিকাণ্ডে ঘটনা ঘটতে পারে। সেখানে পুলিশের টিম, সিআইডির টিম ও বোম্ব ডিসপোজাল ইউনিটের সদস্যরা এ ঘটনায় কাজ করছে।