• ঢাকা
  • বুধবার, ২৩ জুন, ২০২১, ৯ আষাঢ় ১৪২৮
প্রকাশিত: মে ১৪, ২০২১, ০৪:৫৮ পিএম
সর্বশেষ আপডেট : মে ১৪, ২০২১, ০৪:৫৮ পিএম

মানুষহীন কুয়াকাটা সৈকত 

মানুষহীন কুয়াকাটা সৈকত 

দেশের দ্বিতীয় সৈকত কুয়াকাটা ঈদে পর্যটক শূন্য। প্রতিবছর ঈদের এমন সময় আবাসিক হোটেল মোটেলগুলোতে পর্যটকদের ভিড় লেগে থাকত। রাত্রিযাপনের জন্য অগ্রিম বুকিং দিয়েও পর্যটকদের রুম সংকটে ভুগতে দেখা গেছে।

সেখানে এ বছর আবাসিক হোটেলগুলো রয়েছে তালাবদ্ধ। খাবার হোটেল, কাকড়া ফ্রাইয়ের দোকান, ঝিনুকের দোকানসহ পর্যটনমুখী ক্ষুদ্র ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বন্ধ রেখে ব্যবসায়ীরা ঘরে বসে দিন গুণছে কবে এমন পরিস্থিতির অবসান ঘটবে। পর্যটনমুখী ব্যবসায়ীরা জানান রমজানের ঈদের সময় পর্যটক শূন্য কুয়াকাটা তারা আর দেখেনি। প্রতিবছর ঈদের সময় কুয়াকাটা সৈকতে সাজসজ্জা ও আলোক সজ্জায় জলমল করত। এই বছর কুয়াকাটা সৈকতে কোথায়ও কোনো পর্যটক নেই।

সাগর কন্যা কুয়াকাটা সমুদ্র সৈকত এখন যেন স্থানীয়দের কাছেই অচেনা লাগছে। জনমানবহীন এমন সমুদ্র সৈকত গত দশ বছরে স্থানীয়রা দেখেনি। জনমানবহীন সৈকতের বালিয়ারী ছাড়া আর কিছুই চোখে পড়ছে না।

মহামারি করোনাভাইরাসের ঝুঁকি এড়াতে পর্যটকদের ভ্রমণে জন্য পহেলা এপ্রিল থেকে অনির্দিষ্টকালের নিষেধাজ্ঞা জারি করার কারণে পর্যটক শূন্য হয়ে গেছে কুয়াকাটার সৈকত। দীর্ঘ সমুদ্র সৈকতের বেলাভূমে স্থানীয় মানুষ ছাড়া কোনো পর্যটকের পদচারণা নেই। নেই স্থানীয় মানুষেরও কোলাহল। পর্যটনমুখী ব্যবসায়ীরা অলস সময় পার করছেন। ব্যাপক ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছেন হোটেল-মোটেল, ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীসহ কুয়াকাটায় অবস্থানরত ট্যুর অপারেটর ও ট্যুরিস্ট গাইডরা। বেকার হয়ে পড়েছে পর্যটনমুখী স্বল্প আয়ের মানুষ।

সন্ধ্যার পরে মানুষ শূন্য কুয়াকাটা সৈকতে নামলে গা ছম ছম করে। নেই আলোক সজ্জা, মরণব্যাধি ঘাতক করোনা প্রতিরোধে সরকারের সর্বোচ্চ সতর্কতার কারণে কুয়াকাটার এমন দৃশ্য বিরাজ করছে। ব্যবসা-বাণিজ্যে ধস নামায় পর্যটন নির্ভর হাজার হাজার ব্যসায়ীসহ সাধারণ মানুষ হতাশা ব্যক্ত করেছেন। দীর্ঘ সৈকত জুড়ে এখন বিরাজ করছে সুনশান নিরবতা। কোথাও নেই পর্যটকের কোলাহল।

উপজেলা প্রশাসন ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, পহেলা এপ্রিল (বৃহস্পতিবার) পটুয়াখালী জেলা প্রশাসনের নির্দেশে কুয়াকাটায় সৈকতে পর্যটদের চলাচল নিষিদ্ধ করেছে কুয়াকাটা ট্যুরিস্ট পুলিশ। বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে আবাসিক হোটেল মোটেলসহ সকল বিনোদন কেন্দ্রগুলো। একই সঙ্গে সৈকতের সকল দোকানপাট সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। এরপর থেকেই পর্যটক শূন্যের কোঠায় নেমে আসে। পর্যটকদের ভ্রমণে অনির্দিষ্টকালের নিষেধাজ্ঞা জারি থাকায় হোটেল-মোটেলসহ খাবার রেস্টুরেন্টগুলো বন্ধ রয়েছে।

ট্যুরিজম ব্যবসায়ী মো. কে এম বাচ্চু খলিফা বলেন, “পর্যটন কেন্দ্র বন্ধ থাকায় কোনো পর্যটক নেই কুয়াকাটায় ফলে বাড়িতে বসে অলস সময় পার করছি। হাতে টাকা না থাকায় এবারে ঈদের জন্য কোনো কিছুই ক্রয় করতে পারি নাই । সরকার কিংবা স্থানীয় কেউ এগিয়ে আসেনি আমাদের পাশে। অনাহারে অর্ধাহারে কাটে আমাদের দিন।”

পাশে থাকা ফুচকা বিক্রেতা মো. জসিম বলেন, গত বছর থেকেই ভাত খেতেই কষ্ট হয়। সরকারের কিবা কেউ আমাদের সাহায্যে এগিয়ে আসে না। এবারে ঈদ আমাদের জন্য না। এখন শুধু চোখে অন্ধকার দেখি। ছোট্ট একটা মেয়ে আছে ওকে একটা জামাও কিনে দিতে পারি নাই। 

ফ্রাই ফিসের ব্যবসায়ী মো. আলমাস বলেন, “কোনো সময় আমরা সরকারি সহায়তা পাই না। গত বছরে তালিকা করে নিছিল সরকারি সহায়তার কথা বলে কিন্তু আমরা কোনো কিছুই পাই নাই। এ বছরেও এখন পর্যন্ত কেউ কোনো কিছু আমাদের সাহায্য সহযোগিতা কর নাই।” 

ট্যুর অপারেটরস এসোসিয়েশন অব কুয়াকাটা (টোয়াক) প্রেসিডেন্ট রুমান ইমতিয়াজ তুষার জানান, কুয়াকাটার জীবনে রমজানের ঈদে পর্যটক শূন্য কুয়াকাটা এই প্রথম দেখেছেন তিনি। পর্যটক শূন্য সৈকত দেখে নিজের চোখকে তিনি বিশ্বাস করতে পারছেন না। পর্যটক ছাড়াও স্থানীয় নারী শিশুসহ হাজার মানুষ ঈদের দু-একদিন আগে থেকে ভিড় জমাতো সৈকতে। সেখানে ভিন্ন চিত্র বিরাজ করছে।

তুষার আরও বলেন, “করোনাভাইরাসের কারণে পর্যটনমুখী ব্যবসায়ীরা শত শত কোটি টাকার ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছেন। ট্যুরিস্টগাইড,পর্যটন নির্ভর ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী ও ট্যুর অপারেটররা সব থেকে বেশি ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছেন। ট্যুরিস্টদের উপর নির্ভরশীল নিন্ম আয়ের মানুষ কর্মহীন হয়ে পড়ায় সংসার চালাবেন কিভাবে এনিয়ে দুঃচিন্তায় রয়েছে তারা। নিন্ম মধ্যবিত্ত পর্যটনমুখী ব্যবসায়ীদের এবারের ঈদ বিষন্নতায় ভরা। মনে কোন আনন্দ নেই।”

কুয়াকাটা হোটেল-মোটেল ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক মোতালেব শরীফ জাগরণকে বলেন, “লকডাইন থেকে আমাদের সব কিছু বন্ধ আছে। ব্যবসা-বাণিজ্য কিছুই নেই। শুটকি ব্যবসা, ঝিনুক দোকান, খাবার হোটেল, বিনোদন, বাণিজ্যিক ফটোগ্রাফার, মোটরসাইকেল, ভ্যানচালক, সৈকতে ছাতা-বেঞ্চ ব্যবসায়ী, চটপটি বিক্রেতা, ট্যুর অপারেটরসহ পর্যটনকেন্দ্রিক সব ব্যবসা মিলিয়ে করোনাকালে ১০০ কোটি টাকার বেশি ক্ষতি হয়েছে।

কুয়াকাটা পৌর মেয়র মো. আনোয়ার হাওলাদার বলেন, এ পর্যন্ত চার হাজারেরও বেশি অসহায় পৌরবাসীর পাশে খাবার ও পোশাক নিয়ে দিয়েছি।  সামনে যতটুকু পারি চেষ্টা অব্যহত আছে। পৌর সভার ৪৩টি মসজিদে এক হাজার পাঁচশত করে টাকা দিয়েছি। সরকারি সহায়তা পাশাপাশী ব্যক্তি উদ্যোগে যতটুকু পারি মহামারি করোনার অসহায় হয়ে পড়া মানুষের পাশে আছি।