• ঢাকা
  • রবিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর, ২০২১, ১১ আশ্বিন ১৪২৮
প্রকাশিত: আগস্ট ৩, ২০২১, ০৯:৫৯ এএম
সর্বশেষ আপডেট : আগস্ট ৩, ২০২১, ০৩:৫৯ এএম

বেপরোয়া ভারি বালুর ট্রাক ও ডাম্পার

বেপরোয়া ভারি বালুর ট্রাক ও ডাম্পার

নওগাঁর বিভিন্ন উপজেলাতে আইন অমান্য করে ওভার লোড নিয়ে বেপরোয়া গতিতে দাপিয়ে বেড়াচ্ছে প্রায় ৫০০টি বালুবাহী অবৈধ ট্রাক্টর, ট্রাক এবং ১০ চাকার ডাম্পার। এসব যানের চাকার আঘাতে ক্ষত বিক্ষত হয়ে পড়েছে উপজেলার বিভিন্ন সড়ক-মহাসড়ক। কোটি কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত সড়ক এখন ভেঙেচুরে একাকার। ফলে প্রতিদিন এলাকাবাসীসহ ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন পরিবহন চালক, যাত্রী ও পথচারীরা। কেবল সড়কের ক্ষতি নয়, অহরহ ঘটছে দুর্ঘটনা। 

গত দুই বছরে বালুবাহী ট্রাকের চাকায় অন্তত ২০ জন প্রাণ দিয়েছে। দণ্ডবিধিতে কোন সরকারি সম্পদের ক্ষতি করলে এর শাস্তির বিধান নিশ্চিত করা আছে। ৪৩১ ধারা মোতাবেক সরকারি রাস্তার ক্ষতি সাধন দণ্ডনীয় অপরাধ। এ অপরাধের জন্য দায়ি ব্যক্তি পাঁচ বছর পর্যন্ত সশ্রম বা বিনাশ্রম জেলসহ অর্থদণ্ডে দণ্ডিত হবে। অথচ রহস্যজনক কারণে প্রশাসন ও পুলিশ নীরব।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, জেলার মহাদেবপুর উপজেলার আত্রাই নদীর মহিষবাথান থেকে পাঠাকাটা ঘাট পর্যন্ত প্রায় ১৫কিলোমিটার এলাকা থেকে অবৈধ খননযন্ত্র (ড্রেজার) বসিয়ে অবাধে বালু তোলা হচ্ছে। এ দুটি বালুমহাল থেকে প্রতিদিন অন্তত ৫০০-৭০০ গাড়ি বালু নওগাঁ, জয়পুরহাট, রাজশাহী ও বগুড়া জেলার বিভিন্ন গন্তব্যে যাচ্ছে। মহিষবাথান, বুড়া শিবতলা, শিবগঞ্জসহ বিভিন্ন এলাকার বাঁধের ওপর দিয়ে ভারি ডাম্পার, অবৈধ টাক্টর ও ট্রাক নামছে নদীর তীরে। প্রতিটি ১০ চাকার ট্রাক বা ডাম্পার বহন করছে অন্তত ৪৫-৫০ মেট্রিক টন বালু। ছয় চাকার ডাম্পার বহন করছে ২৫-৩০ টন। পাঁচ টন বহন ক্ষমতার ট্রাকে বালু যাচ্ছে ১১-১৪ টন। আর অনভিজ্ঞ চালকরা ট্রাক্টরগুলো বেখেয়ালভাবেই চালাচ্ছে। আত্রাই নদীর বালুমহাল নিয়ন্ত্রণ করছে মেসার্স হ্যাপি ট্রেডার্স এর স্বত্বাধিকারী মোয়াজ্জেম হোসেন।

সরেজমিনে উপজেলা সদরের বিভিন্ন এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, প্রশাসন-পুলিশ সদস্যদের সামনে দিয়ে অবাধে চলাচল করছে বালুবাহী ডাম্পার, অবৈধ ট্রাক্টর ও ট্রাক। কিন্তু এসব যানবাহনের বিরুদ্ধে কোন আইন প্রয়োগ না করে শুধু মোটরসাইকেল ধরপাকড় করছে সংশ্লিষ্টরা। এলাকাবাসী জানায়, বালু বহনকারী বেপরোয়া যান চলাচলে ধুলো-বালি উড়ে রাস্তার দু’পাশের ঘর-বাড়ি বসবাসের অযোগ্য হয়ে পড়েছে; হুমকির মুখে জনস্বাস্থ্য। ওভার লোড বহন ও অবৈধ যানবাহন পরিচালনার বিষয়ে বক্তব্য গ্রহনের জন্য বালুমহালের ইজারাদার মোয়াজ্জেম হোসেন এর সাথে মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগ করা হলেও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
 
সড়কের ক্ষতির বিষয়ে জানতে চাইলে সড়ক ও জনপথ বিভাগ নওগাঁর নির্বাহী প্রকৌশলী সাজেদুর রহমান ও মহাদেবপুর উপজেলা প্রকৌশলী সুমন মাহমুদ বলেন, সড়ক নষ্টের অন্যতম কারণ ওভার লোড বহন। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে তারা একাধিকবার জানিয়েছেন। বিআরটিএ নওগাঁ সার্কেলের সহকারী পরিচালক এটিএম ময়নুল হাসান বলেন, ওভার লোড বহন ও অবৈধ যানবাহনের বিরুদ্ধে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। 

জাগরণ/এমআর