• ঢাকা
  • বুধবার, ২২ মে, ২০১৯, ৭ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৬
Bongosoft Ltd.
প্রকাশিত: মে ১৩, ২০১৯, ০৫:০৯ পিএম
সর্বশেষ আপডেট : মে ১৩, ২০১৯, ১১:২৯ পিএম

আইসিডিডিআর,বিতে অত্যাধুনিক পদ্ধতি উদ্বোধন

ডায়াবেটিক রেটিনোপ্যাথি শনাক্তে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা

জাগরণ প্রতিবেদক
ডায়াবেটিক রেটিনোপ্যাথি শনাক্তে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা

ডায়াবেটিক রেটিনোপ্যাথি শনাক্তকরণের একটি অত্যাধুনিক পদ্ধতি উদ্বোধন করা হয়েছে ঢাকার মহাখালীতে অবস্থিত আন্তর্জাতিক উদরাময় গবেষণা কেন্দ্র, বাংলাদেশ (আইসিডিডিআর,বি) তে।

সোমবার (১৩মে) সংযুক্ত আরব আমিরাতের Eyes For All PLC এবং কানাডার DIAGNOS Inc -র সহযোগিতায় বাংলাদেশে প্রথম এই পদ্ধতি উদ্বোধন করা হয়।

কাল মঙ্গলবার (১৪ মে ) আইসিডিডিআর,বি’র ডায়াগনস্টিক সেন্টারে সর্বসাধারণের জন্য সর্বাধুনিক ফ্লেয়ার প্রযুক্তির সহায়তায় পরিচালিত কম্পিউটার অ্যাসিস্টেড রেটিনা অ্যানালাইসিস (কারা) নামের এই কৃত্তিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক রোগ নির্ণয় পদ্ধতি উন্মুক্ত করে দেয়া হবে। 

আইসিডিডিআর,বি’র ডায়াগনস্টিক সেন্টারে প্রতিদিন সকাল ৮ টা ৩০ থেকে বিকাল ৫টা পর্যন্ত ডায়াবেটিক রেটিনোপ্যাথি পরীক্ষা করানো যাবে এবং পরবর্তী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে পরীক্ষার ফলাফল পাওয়া যাবে। পরীক্ষায় খরচ পড়বে ২৫০০ টাকা।

‘কারা’ প্রযুক্তি নিরাপদভাবে ইন্টারনেটের মাধ্যমে ব্যবহার করা যায় এবং এটি প্রচলিত সব ধরনের ছবির ফরমেট ও প্রায় সব ব্র্যান্ডের ফান্ডাস ক্যামেরার সাথে কাজ করতে পারে, একই সাথে এটি প্রচলতি ইলেকট্রনিক মেডিকেল রেকর্ড পদ্ধতির সাথেও সঙ্গতিপূর্ণ। এই পদ্ধতি একাধারে বিপুলসংখ্যক রোগীর রোগ নির্ণয় উপযোগী। প্রযুক্তিটি এরইমধ্যে হেলথ কানাডা, ইউএস ফুড অ্যান্ড ড্রাগ অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (এফডিএ), ইউরোপিয়ান ইউনিয়ন এবং অন্যান্য মান নিয়ন্ত্রণকারী প্রতিষ্ঠানের অনুমোদনপ্রাপ্ত।

ডায়াবেটিস রোগের সবচেয়ে গুরুতর জটিলতাগুলোর মধ্যে একটি হচ্ছে ডায়াবেটিক রেটিনোপ্যাথি। সঠিক সময়ে এটি শনাক্ত ও চিকিৎসা করা না হলে রোগী স্থায়ীভাবে অন্ধত্বের শিকার হতে পারেন।

ইন্টারন্যাশনাল ডায়াবেটিস ফেডারেশনের (আইডিএফ) হিসাব মতে, বর্তমানে বাংলাদেশে প্রায় ৫৯ লাখ মানুষ ডায়াবেটিসে আক্রান্ত এবং আরও প্রায় ৩৯ লাখ মানুষের মধ্যে অনির্ণীত ডায়াবেটিস রয়েছে। ডায়াবেটিসে আক্রান্ত সমগ্র জনগোষ্ঠীর মধ্যে প্রায় ১৮ লাখ রোগী কোনো না কোনো পর্যায়ের ডায়াবেটিক রেটিনোপ্যাথিতে আক্রান্ত।

আইডিএফ-এর হিসাবে দেখা যায়, ২০৪৫ সালের মধ্যে বাংলাদেশ বিশ্বে সর্বাধিক ডায়াবেটিস রোগীবিশিষ্ট (১.৩৭ কোটি) ১০টি দেশের অন্তর্ভুক্ত হবে।

আইসিডিডিআর,বি বলছে, নতুন এই প্রযুক্তির সূচনায় রোগীরা যেমন দ্রুত, সঠিক ও নিখুঁত ফলাফল পাবেন, তেমনি এটি ক্রমবর্ধমান ডায়াবেটিসে আক্রান্ত জনগোষ্ঠীকে  ডায়াবেটিক রেটিনোপ্যাথি শনাক্তকরণে সহায়তা প্রদান করবে।

নতুন এই উদ্যোগ সম্পর্কে মন্তব্য করতে গিয়ে আইস ফর অল- এর সহ-প্রতিষ্ঠাতা জাহেদ চৌধুরী বলেন, বর্তমানে বিদ্যমান স্বাস্থ্য-সংশ্লিষ্ট অবকাঠামোর সাথে দেশের চাহিদার অসামঞ্জস্যতার ক্ষেত্রে এই প্রযুক্তি দেশের বহুসংখ্যক মানুষের জীবনে ব্যাপক ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে সক্ষম।

ডায়াগনস-এর সেলস বিভাগের ভাইস প্রেসিডেন্ট ইভস-স্টিফেন কোটার বলেন, আইসিডিডিআর,বি-র সাথে নতুন এই উদ্যোগ গ্রহণে আমরা অত্যন্ত আনন্দিত এবং বাংলাদেশ ও এশিয়ায় অন্ধত্ব প্রতিরোধের লক্ষ্যে আমরা আইস ফর অল-এর সাথে যুগপৎভাবে কাজ করে যাওয়ার আশাবাদ ব্যক্ত করছি।

আইসিডিডিআর,বি-র ল্যাবরেটরি সায়েন্সেস অ্যান্ড সার্ভিসেস বিভাগের সিনিয়র ডিরেক্টর ড. নিয়াজ আহমেদ রোগের শুরুর দিকেই ডায়াবেটিক রেটিনোপ্যাথি শনাক্তকরণের অপরিসীম গুরুত্বের ওপর জোর দিয়ে বলেন, আমরা এমন একটি রোমাঞ্চকর সময়ের মধ্যে দিয়ে যাচ্ছি, যে সময়ে প্রাথমিক অবস্থায় ডায়াবেটিক রেটিনোপ্যাথির শনাক্তকরণসহ নানা ক্ষেত্রে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রয়োগ করা যাচ্ছে। আমরা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক এই বিশেষ সুবিধাকে যথাসময়ে ও সাশ্রয়ী উপায়ে ডায়াবেটিক রেটিনোপ্যাথি নির্ণয়ে কাজে লাগাতে চাই, যাতে আমরা দিনদিন আরও বেশি মানুষের কাছে পৌঁছে তাদের ক্রমবর্ধমান এই সমস্যা মোকাবেলায় সাহায্য করতে পারি।

আরএম/এসএমএম

Space for Advertisement