• ঢাকা
  • মঙ্গলবার, ১৯ নভেম্বর, ২০১৯, ৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৬
প্রকাশিত: অক্টোবর ২৪, ২০১৯, ০৮:৩৪ এএম
সর্বশেষ আপডেট : অক্টোবর ২৪, ২০১৯, ১০:০৪ এএম

এখনো সব হাসপাতালে বিনামূল্যের শয্যা হয়নি

জাগরণ প্রতিবেদক
এখনো সব হাসপাতালে বিনামূল্যের শয্যা হয়নি
হাসপাতাল

এখনো সব বেসরকারি হাসপাতালে দরিদ্র রোগীদের জন্য বিনামূল্যে ১০ শতাংশ শয্যা চালু করা হয়নি। অথচ লাইসেন্সে ওই শর্তে অঙ্গীকার করেই হাসপাতাল প্রতিষ্ঠা ও পরিচালনা করছেন মালিকরা। এ বিষয়ে এ বছরের মার্চে হাইকোর্ট একটি রুলও জারি করেছিল।

স্বাস্থ্য অধিদফতর জানায়, বেসরকারি হাসপাতাল প্রতিষ্ঠার নীতিমালায় লাইসেন্স প্রাপ্তির শর্ত হিসেবে বলা আছে, হাসপাতাল-ক্লিনিকে ১০ শতাংশ বেড দরিদ্রদের বিনামূল্যে দিতে হবে। কিন্তু বিনামূল্যে শয্যা দেয়া হলেও তাদের চিকিৎসার অন্য খরচ কে বহন করবে সে সম্পর্কে কিছু বলা হয়নি। এছাড়া অনেকে জানেনই না বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে দরিদ্রদের বিনামূল্যের শয্যা আছে। দেশের শতকরা ৭০ ভাগ বেসরকারি হাসপাতাল বিনামূল্যে শয্যার ব্যবস্থা করছে না। এর মধ্যে কয়েকটি হচ্ছে- এ্যাপোলো হাসপাতাল, স্কয়ার হাসপাতাল, ল্যাব এইড হাসপাতাল, পপুলার হাসপাতাল। এর বাইরেও রয়েছে বিপুল সংখ্যক হাসপাতাল ও ক্লিনিক।

জানা গেছে- বেসরকারি হাসপাতাল প্রতিষ্ঠা ও পরিচালনার জন্য ৩২ বছর আগে যে নীতিমালা প্রণয়ন করা হয়েছিল, তা বহু আগেই কার্যকারিতা হারিয়েছে। কার্যকারিতা হারানো এই আইনের সুযোগ নিচ্ছেন হাসপাতাল মালিকরা। এতদিনেও ওই নীতিমালা সংশোধন করতে পারেনি স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়। বেশ কয়েক বছর আগে ‘বেসরকারি চিকিৎসাসেবা আইন’ শিরোনামে নতুন একটি আইন করার উদ্যোগ নিয়েছিল স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়। বছরের পর বছর ধরে ওই আইনের খসড়া মন্ত্রণালয়ে পড়ে আছে। অভিযোগ আছে, কিছু ক্ষমতাধর বেসরকারি হাসপাতাল মালিক নতুন আইনের বিপক্ষে। তারা দলবদ্ধভাবে এই আইনের বিপক্ষে থাকায় তা এখনও আলোর মুখ দেখতে পায়নি।

এ বিষয়ে স্বাস্থ্য অধিদফতরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিকগুলো) ডা. আমিনুল হাসান বলেন, নীতিমালা সংশোধনের কাজ চলছে। কোন কোন হাসপাতাল নীতিমালা অমান্য করছে তার তালিকা প্রস্তুত করা হচ্ছে, অবশ্যই এসবের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

হাসপাতালের বেড- ফাইল ছবি 

স্বাস্থ্য অধিকার আন্দোলনের সভাপতি অধ্যাপক রশিদ-ই-মাহবুব বলেন, বেসরকারি স্বাস্থ্যসেবা নিয়ন্ত্রণহীন অবস্থায় পড়ে আছে। নিয়ন্ত্রণ করার মতো আইন নেই, থাকলেও কার্যকারিতা নেই। এসব কথা বলে তো দিন পার করা যায় না। বেসরকারি নির্দিষ্ট পরিমাণ সেবা গরিবদের বিনামূল্যে দিচ্ছে না। এর দায়ে প্রায় সবকটি প্রতিষ্ঠানকে অভিযুক্ত করে ব্যবস্থা নিতে পারে সরকার।

এ বছরের মার্চ মাসের ৭ তারিখে স্বাস্থ্য অধিদফরের নীতিমালা অনুযায়ী প্রতিষ্ঠিত বেসরকারি হাসপাতালগুলোতে দরিদ্র ও দুস্থদের বিনা মূল্যে ১০ শতাংশ শয্যা ও চিকিৎসা সুবিধা প্রদানের বিষয়ে যে বিধান রয়েছে তা কোন কোন হাসপাতাল প্রতিপালন করছে না এবং কারা করছে  তার তালিকা চেয়েছিল হাইকোর্ট। এক রিট আবেদনের প্রেক্ষিতে ৭ মার্চ শুনানি নিয়ে বিচারপতি জেবিএম হাসান ও বিচারপতি মো. খায়রুল আলমের হাইকোর্ট বেঞ্চ এ আদেশ দেন। আদেশের পাশাপাশি আইনানুযায়ী দেশের প্রতিষ্ঠিত বেসরকারি হাসপাতালে গরিব ও দুস্থ রোগীদের চিকিৎসায় বিনা মূল্যে ১০ শতাংশ শয্যা ও চিকিৎসা সুবিধা প্রদানে কেন নির্দেশ দেয়া হবে না- এ মর্মে রুলও জারি করেছিলেন আদালত। তারপরও এখন পর্যন্ত বেশকিছু বেসরকারি হাসপাতাল এ বিষয় মানছে না।

স্বাস্থ্য অধিদফরের মহাপরিচালক অধ্যাপক আবুল কালাম আজাদ বলেন, এক সময় এই নির্দেশনা অনেক হাসপাতালই মানতো না। কিন্তু এখন মেনে চলার সংখ্যা বেড়েছে। আমরা কাজ করে যাচ্ছি। অবশ্যই সব বেসরকারি হাসপাতাল যেন সরকারের নিয়ম মেনে চলে, সেজন্য আমাদের প্রচেষ্টা অব্যহত আছে।

আরএ/একেএস