• ঢাকা
  • শনিবার, ১৪ ডিসেম্বর, ২০১৯, ২৯ অগ্রহায়ণ ১৪২৬
প্রকাশিত: নভেম্বর ৯, ২০১৯, ০৪:৪৯ পিএম
সর্বশেষ আপডেট : নভেম্বর ৯, ২০১৯, ০৪:৫৫ পিএম

এফডিএসআর এর সংবাদ সম্মেলন

বিএমডিসি ভুয়া চিকিৎসক তৈরি করছে বলে অভিযোগ 

জাগরণ প্রতিবেদক
বিএমডিসি ভুয়া চিকিৎসক তৈরি করছে বলে অভিযোগ 
প্রেসক্লাবে আয়োজিত এফডিএসআর এর সংবাদ সম্মেলন -ছবি : কাশেম হারুন

বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যান্ড ডেন্টাল কাউন্সিল (বিএমডিসি) ভুয়া সনদ দিয়ে ভুয়া চিকিৎসক তৈরি করছে বলে অভিযোগ করেছে ফাউন্ডেশন ফর ডক্টরস সেইফটি অ্যান্ড রাইটস (এফডিএসআর)।

শনিবার (৯ নভেম্বর) দুপুরে জাতীয় প্রেসক্লাবে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ অভিযোগ করা করা হয়।

‘প্রস্তাবিত স্বাস্থ্যসেবা ও সুরক্ষা আইন ২০১৮’ এর কয়েকটি ধারা পরিবর্তন, সংযোজন, বিয়োজন এবং অবিলম্বে চিকিৎসক সুরক্ষা আইন প্রণয়নে এ সংবাদ সম্মেলন করা হয়। এতে লিখিত বক্তব্য উপস্থাপন করেন এফডিএসআর এর উপদেষ্টা ও টেলিভিশন ব্যক্তিত্ব ডা. আবদুন নূর তুষার।

সাংবাদিকদের এক প্রশ্নে এফডিএসআর এর মহাসচিব ডা. শেখ আবদুল্লাহ আল মামুন বলেন, বিএমডিসি থেকেই ভুয়া সনদ দেয়া হচ্ছে। তারাই ভুয়া চিকিৎসক বানাচ্ছেন। এর সুনির্দিষ্ট প্রমাণ আমরা পেয়েছি।

তার কথার সূত্র ধরে আবদুন নূর তুষার বলেন, ভুয়া চিকিৎসক সনাক্তের পদ্ধতি, তার শাস্তি কী হবে, সে সম্পর্কে আইনের খসড়ায় কী কিছু বলা হয়নি। তাহলে এটা কীভাবে ‘স্বাস্থ্যসেবা ও সুরক্ষা’ নিশ্চিত করবে?

লিখিত বক্তব্যে তিনি প্রস্তাবিত স্বাস্থ্যসেবা ও সুরক্ষা আইন ২০১৮’র বেশকিছু ধারা, উপধারা পড়ে শোনান এবং এসবের বিপক্ষে যুক্তি দেখান।

তুষার বলেন, প্রস্তাবিত আইনের ধারা ১২ (১) এবং ১২ (২) চিকিৎসকদের জন্য হয়রানিমূলক মনে হয়েছে। দেশে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের সংখ্যা প্রয়োজনের তুলনায় অনেক কম। ফলে স্বাভাবিকভাবেই তাদের চেম্বারে রোগীর অতিরিক্ত চাপ থাকে। বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই একজন রোগীর সাথে একাধিক আত্মীয়-স্বজন থাকেন, তারাও চেয়ার ব্যবহার করেন। তাছাড়া অনেক নবীন চিকিৎসকই ওষুধের দোকানে চেম্বার করেন, যেখানে সেবা গ্রহীতাদের বসার জায়গা সীমিত বা নেই। বাস্তব প্রেক্ষাপটে সেবা গ্রহীতাদের বসার ব্যবস্থা না করতে পারার কারণে চিকিৎসককে জরিমানা করার দণ্ডটি অযৌক্তিক ও অমানবিক। চিকিৎসকরা রোগীদের চাহিদা ও নিজেদের দক্ষতা অনুযায়ী চেম্বারে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সরঞ্জামাদি রাখেন। এখানে নূন্যতম শব্দটা যেমন বিভ্রান্তিকর, তেমনি বিধি দ্বারা এটি নির্ধারণের প্রচেষ্টাও অপ্রয়োজনীয়তা মনে করি।

এফডিএসআর এর মহাসচিব ডা. শেখ আবদুল্লাহ আল মামুন বলেন, ইন্টার্ন চিকিৎসকদেরও এই আইনে অর্ন্তভুক্ত করা হয়েছে। তাদের মাধ্যমে ভুল চিকিৎসা হলে সে ভার তাদের উপরই বর্তাবে, আইন অনুযায়ী তাদেরও শাস্তি হবে। এটা হলে ইন্টার্নরা ভয়েই তো রোগী দেখবেন না, কাজ থেকে দূরে থাকবেন।

আবদুন নূর তুষার বলেন, বিদেশি চিকিৎসকরা বাংলাদেশে রোগী দেখতে পারবেন বলা হয়েছে। কিন্তু রোগী দেখার কাজে না লাগিয়ে তাদেরকে শিক্ষা গবেষণার কাজে যুক্ত করা যায়। বিদেশি চিকিৎসকরা আসবেন, রোগী দেখবেন, টাকা নেবেন, চলে যাবেন- এটা কেমন?

প্রসঙ্গত, মন্ত্রিসভায় তোলার জন্য প্রস্তুত করা হয়ে গেছে স্বাস্থ্যসেবা ও সুরক্ষা আইন ২০১৮। এ খবর ছড়িয়ে যাবার পরই চিকিৎসকরা ওই আইনের কয়েকটি ধারা পরিবর্তন, সংযোজন, বিয়োজন এবং অবিলম্বে চিকিৎসক সুরক্ষা আইন প্রণয়নের দাবিতে সরব হয়ে উঠেন।

আবদুন নূর তুষার বলেন, ওই আইন বাস্তবায়ন হলে চিকিৎসক ও রোগী- কারও জন্যই মঙ্গলজনক হবে না।

আরএম/একেএস
 

আরও পড়ুন