• ঢাকা
  • শুক্রবার, ১৮ অক্টোবর, ২০১৯, ৩ কার্তিক ১৪২৬
প্রকাশিত: সেপ্টেম্বর ৩০, ২০১৯, ০৮:৪৮ পিএম
সর্বশেষ আপডেট : সেপ্টেম্বর ৩০, ২০১৯, ০৯:০৮ পিএম

মুক্তিযোদ্ধার সংজ্ঞা তিন শ্রেণিতে ভাগের প্রস্তাব

জাগরণ প্রতিবেদক
মুক্তিযোদ্ধার সংজ্ঞা তিন শ্রেণিতে ভাগের প্রস্তাব

মুক্তিযোদ্ধা ও সহযোদ্ধা, সহায়ক শক্তি এবং ভিকটিমস- এই তিন শ্রেণিতে মুক্তিযোদ্ধার সংজ্ঞা ভাগ করে একটি প্রস্তাবনা তৈরি করেছে এ সংক্রান্ত গঠিত সংসদীয় সাব কমিটি। এছাড়া মুক্তিযোদ্ধার সংজ্ঞা পুনঃনির্ধারণ করে একটি খসড়া প্রস্তাবও তৈরি করেছে।

সোমবার (৩০ সেপ্টেম্বর) সংসদ ভবনে অনুষ্ঠিত মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় কমিটির বৈঠকে বিষয়টি উপস্থাপন করেছে সাব কমিটি। তবে কমিটির বৈঠকে বিষয়টি নিয়ে কোন আলোচনা হয়নি। বৈঠক সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।

এর আগে মূল কমিটির চতুর্থ বৈঠকে মুক্তিযোদ্ধার সংজ্ঞা পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে সামঞ্জস্য করার জন্য মেজর (অব.) রফিকুল ইসলামকে (বীর উত্তম) প্রধান করে সাব কমিটি গঠন করা হয়। 

ওই সাব কমিটি গত ২৫ জুন বৈঠক করে তিন দফা খসড়া সুপারিশ তৈরি করে। ওই বৈঠকে সাব কমিটির সদস্য ছাড়াও বিশেষ আমন্ত্রণে সংসদীয় কমিটির সভাপতি শাজাহান খান ও মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব শহীদুল হক উপস্থিত ছিলেন।

এখানে মুক্তিযোদ্ধা ও সহযোদ্ধা বলতে যারা মুক্তিযুদ্ধে সশস্ত্র যুদ্ধ করেছেন ও যুদ্ধের সময় যারা যুদ্ধ করতে সহযোগিতা করেছেন তাদেরকে বোঝানো হবে বলে উল্লেখ করা হয়।

সহায়ক শক্তি বলতে যারা মুক্তিযুদ্ধের সময় বিশ্বে জনমত গঠনে সাহায্য করেছেন, মুজিবনগর সরকারের কর্মকর্তা-কর্মচারী, এমএনএগণ, এমপিগণ, স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের শিল্পী ও কলাকুশলীবৃন্দ, দেশ ও দেশের বাইরে দায়িত্ব পালনকারী বাংলাদেশি সাংবাদিকগণ, স্বাধীন বাংলা ফুটবল দলের খেলোয়ারবৃন্দ, মুক্তিযোদ্ধাদের চিকিৎসা সেবাপ্রদাণকারী মেডিকেল টিমের ডাক্তার, নার্স ও সহকারীবৃন্দ প্রভৃতি ব্যক্তিবর্গ এবং ভিকটিমস বলতে পাকিস্তানী হানাদার বাহিনী ও তাদের সহযোগীদের দ্বারা নির্যাতিত ব্যক্তিবর্গ ও বীরঙ্গনাদেরকে অন্তর্ভুক্ত করার বিষয়টি প্রস্তাব করা হয়।

এছাড়া সংজ্ঞা নির্ধারণে ভিয়েতনাম ও ফ্রান্সসহ বর্হিবির্শ্বের স্বাধীনতাযুদ্ধে অংশগ্রহণকারীদের যেসব দেশে কীভাবে সংজ্ঞায়িত কা হয় তা জানা প্রয়োজন বলে বৈঠকের আলোচনায় উঠে আসে।

এ দিকে সংজ্ঞা নির্ধারণে পূর্বের বৈঠকের সুপারিশের অগ্রগতি বিষয়ে মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে কমিটিতে জানানো হয়- মুক্তিযোদ্ধ কল্যাণ ট্রাস্ট আইন-২০১৮ এ মুক্তিযোদ্ধার সংজ্ঞা নির্ধারণ করা হয়েছে। জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিল আইন-২০০২ সংশোধনীর লক্ষ্যে যে খসড়া প্রণয়ন করা হয়েছে সেখানেও ট্রাস্ট আইনের ওই সংজ্ঞা গ্রহণ করা হয়েছে। 

জানতে চাইলে সাব কমিটির প্রধান রফিকুল ইসলাম সাংবাদিকদের বলেন, আমরা সংজ্ঞা নির্ধারণ নিয়ে একটি বৈঠক করেছিলাম। এখনো চূড়ান্ত হয়নি। বিষয়টি নিয়ে কমিটির সভাপতির সঙ্গে আমরা আবার বসে খসড়া নির্ধারণ করবো। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গেও বিষয়টি নিয়ে কথা বলবো আমরা।

কমিটির সভাপতি শাজাহান খানের সভাপতিত্বে সংসদ ভবনে অনুষ্ঠিত বৈঠকে অংশ নেন- কমিটির সদস্য মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী আ.ক.ম মোজাম্মেল হক, রাজি উদ্দিন আহমেদ, মেজর (অবঃ) রফিকুল ইসলাম (বীর উত্তম), কাজী ফিরোজ রশীদ এবং ওয়ারেসাত হোসেন বেলাল।

এইচএস/টিএফ

আরও পড়ুন

Islami Bank