• ঢাকা
  • শুক্রবার, ১৮ অক্টোবর, ২০১৯, ৩ কার্তিক ১৪২৬
প্রকাশিত: সেপ্টেম্বর ২৭, ২০১৯, ০২:২৩ পিএম
সর্বশেষ আপডেট : সেপ্টেম্বর ২৭, ২০১৯, ০২:২৫ পিএম

অনুমোদনের এক বছর অতিবাহিত 

বাস্তবায়ন নেই সড়ক পরিবহন আইনের  

মেহ্দী আজাদ মাসুম
বাস্তবায়ন নেই সড়ক পরিবহন আইনের  

বি শে ষ  প্র তি বে দ ন

..........................

‘আইনটি সব পক্ষের কাছে গ্রহণযোগ্য করতেই সংশোধন হচ্ছে’ 

ঝুলেই গেলো ‘বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন আইন ২০১৮’। জাতীয় সংসদে পাস হওয়ার ১ বছর অতিবাহিত হলেও এ আইনের প্রজ্ঞাপন হয় নি। মন্ত্রিসভায় অনুমোদনের পর গত বছরের ১৯ সেপ্টেম্বর দশম জাতীয় সংসদের শেষ অধিবেশনে এ আইনটি পাস হয়। তারপর দীর্ঘ সময় অতিবাহিত হলেও আইনটির বাস্তবায়ন হয় নি। এমনকি প্রজ্ঞাপনও জারি হয় নি। এ বিষয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল বলেছেন, আইনটি সংশোধন হতে পারে। অন্যদিকে আইনমন্ত্রী বলেছেন, গ্রহণযোগ্য করতেই আইনটি সংশোধন হচ্ছে। সেতুমন্ত্রী বলেছেন, আইন ঠিক রেখে কোনও অ্যাডজাস্টমেন্ট করা যায় কি না তা পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হচ্ছে। 

দৈনিক জাগরণ এর অনুসন্ধানে জানা গেছে, জাতীয় সংসদে পাস হওয়ার পরেও ‘সড়ক পরিবহন আইন-২০১৮’র প্রজ্ঞাপন হয় নি। এর পেছনে মূল কারণ পরিবহন মালিক ও শ্রমিকদের স্বার্থরক্ষা। তাদের দাবির প্রেক্ষিতেই আইনটি সংশোধনের উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে।

বুধবার (২৫ সেপ্টেম্বর) সরকারের গুরুত্বপূর্ণ তিনমন্ত্রীর মুখ থেকেও সংশ্লিষ্ট বিষয়ে নানা তথ্য বেরিয়ে এসেছে।

সেতু মন্ত্রণালয় ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, সড়ক পরিবহন আইন ২০১৮ জাতীয় সংসদে পাস হওয়ার পর পরিবহন মালিক-শ্রমিকদের কয়েকটি সংগঠনের হুমকির কারণে দেশের সড়কের জন্য গুরুত্বপূর্ণ এ আইনটি বাস্তবায়নে বিধিমালা তৈরি করতে পারে নি সড়ক ও মহাসড়ক বিভাগ। পরিবহন মালিক ও শ্রমিকদের দাবির প্রেক্ষিতে গত ফেব্রুয়ারি মাসে আইনটি বিশ্লেষণ করে তা বাস্তবায়নের সুপারিশের জন্য স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামলাকে প্রধান করে তিন সদস্যের একটি উচ্চপর্যায় কমিটি গঠন করা হয়। এ কমিটির অন্য সদস্যরা হলেন- আইন বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী আনিসুল হক ও রেলমন্ত্রী নূরুল ইসলাম সুজন। তবে কমিটি এখন আইনটির বাস্তবায়নে বিধিমালা তৈরি করতে পারে নি। সঙ্গত কারণেই সড়কে শৃঙ্খলা ফেরানোর প্রধানমন্ত্রীর অঙ্গীকার কিছুটা হলেও বাঁধার মুখে পড়েছে।

বুধবার (২৫ সেপ্টেম্বর) সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রণালয়ে সড়ক পরিবহন আইন ২০১৮ বাস্তবায়ন ও বিধিমালা তৈরির বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ এক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। ওই বৈঠকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল, আইনমন্ত্রী আনিসুল হক ও রেলমন্ত্রী নূরুল ইসলাম সুজনসহ সড়ক পরিবহন ফেডারেশন ও মালিক-শ্রমিকদের সংগঠনের নেতৃবৃন্দরা উপস্থিত ছিলেন।

ওই বৈঠকে অংশ নেয়া একাধিক পরিবহন নেতা দৈনিক জাগরণকে জানান, জাতীয় সংসদে সড়ক পরিবহন আইন ২০১৮ নিয়ে পরিবহন কর্মীদের দ্বিমত রয়েছে। তাদের মন্তব্য, আইনটিতে শুধু সাধারণ মানুষের স্বার্থরক্ষা করা হয়েছে। 

বাস-ট্রাক মালিক সমিতির যুগ্ম সম্পাদক সাইফুল ইসলাম দৈনিক জাগরণকে বলেন, আইনটিতে দুর্ঘটনার পর চালকেদের ‘অজামিনযোগ্য’ ধারাকে ‘জামিনযোগ্য করতে হবে বলে দাবি জানিয়েছি। তারা ছাড়া শাস্তিও কমাতে হবে। 

সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের দৈনিক জাগরণকে বলেন, সড়ক পরিবহন আইন ২০১৮’র কয়েকটি ধারা-উপধারা নিয়ে পরিবহন মলিক-শ্রমিক নেতাদের আপত্তি ছিল। তারা জোটবদ্ধ। তাদের দাবি উপেক্ষা করে কিছু করা সম্ভব নয়। সে বিষয়টি নিয়ে আমরা বৈঠক করেছি। বিষয়টির শিগগিরই সুরাহা হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন সেতুমন্ত্রী।

আইনমন্ত্রী আনিসুল হক বলেন, আইনটি খতিয়ে দেখার জন্য স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর নেতৃত্বে যে কমিটি করা হয়েছিল, সেই কমিটি কাজ করছে। আইনটি সব পক্ষের কাছে গ্রহণযোগ্য করতেই সংশোধন হচ্ছে। আর আইনটি যে সংশোধন হচ্ছে তা স্পষ্ট করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালও। তিনিও বলেছেন, বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ, তাই সব পক্ষের মতামত নিয়ে সংশোধন করা হচ্ছে আইনটি।

।। আইনে যা আছে ।।
চালকের ন্যূনতম শিক্ষাগত যোগ্যতা অষ্টম শ্রেণি পাস হতে হবে ▪ লাইসেন্স না থাকলে চালকের ছয় মাসের কারাদণ্ড বা ২৫ হাজার টাকা জরিমানা ▪ দুই যানবাহনের পাল্লা-পাল্লিতে দুর্ঘটনা ঘটলে চালকের তিন বছরের কারাদণ্ড অথবা জরিমানা ২৫ লাখ টাকা ▪ আইন অমান্য করলে চালকের নির্ধারিত নম্বরও কাটা যাবে। এক পর্যায়ে সব নম্বর কাটা গেলে স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাতিল হবে তার লাইসেন্স ▪ গাড়ি চালিয়ে উদ্দেশ্য-প্রণোদিতভাবে হত্যা করলে ৩০২ অনুযায়ী মৃত্যুদণ্ড

জাতীয় সংসদে অনুমোদন

সড়কে শৃঙ্খলা ফেরাতে ও দুর্ঘটনা কমাতে বর্তমান সড়ক পরিবহন আইনটির খসড়া ২০১৮’র ২৭ মার্চ মন্ত্রিসভায় অনুমোদন লাভ করে। আর মন্ত্রিসভায় অনুমোদনের পর একই বছরের ১৯ সেপ্টেম্বর দশম সংসদের শেষ অধিবেশনে ‘বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন আইন ২০১৮’ নামে এ আইনটি পাস হয়। এ আইনের অনেক বিধানই সড়কে শৃঙ্খলা ফেরাতে ও দুর্ঘটনা কমাতে সহায়ক। কিন্তু সংসদে পাস হওয়ার ৯ মাসেও এ আইনের প্রজ্ঞাপন না হওয়ায় তা কার্যকর হয় নি। অথচ একই দিনে পাস হওয়া ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন ও কওমি মাদ্রাসার দাওরায়ে হাদিসের সনদকে মাস্টার ডিগ্রি সমমান প্রদান আইন এরই মধ্যে কার্যকর করা হয়েছে। 

শ্রমিকদের দাবি

বর্তমান সড়ক পরিবহন আইনটির খসড়া ২০১৮ সালের ২৭ মার্চ মন্ত্রিসভায় অনুমোদনের পর এর এর বেশ কয়েকটি ধারা সংশোধনের দাবিতে আন্দোলনে নামেন পরিবহন মালিক-শ্রমিকরা। ৮ দফা দাবিতে গত বছরের ২৮ অক্টোবর থেকে সারা দেশে ৪৮ ঘণ্টার পরিবহন ধর্মঘট পালন করে সড়ক পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশন। পরিবহন মালিক-শ্রমিকদের দাবির মধ্যে রয়েছে- সড়ক পরিবহন আইনের সব ধারা জামিনযোগ্য করা, সড়ক দুর্ঘটনায় শ্রমিকের অর্থদণ্ড পাঁচ লাখ টাকার বিধান বাতিল করা, ড্রাইভিং লাইসেন্স পাওয়ার শিক্ষাগত যোগ্যতা পঞ্চম শ্রেণি করা।

এমএএম/এসএমএম

আরও পড়ুন

Islami Bank