• ঢাকা
  • মঙ্গলবার, ১২ নভেম্বর, ২০১৯, ২৭ কার্তিক ১৪২৬
প্রকাশিত: নভেম্বর ৯, ২০১৯, ০৫:০৭ পিএম
সর্বশেষ আপডেট : নভেম্বর ৯, ২০১৯, ০৫:০৯ পিএম

খুলনার মানুষ যাচ্ছে সাইক্লোন শেল্টারে

বুলবুলের আতঙ্ক নেই মোংলা ও সাতক্ষীরার মানুষের মধ্যে

স্বদেশ ডেস্ক
বুলবুলের আতঙ্ক নেই মোংলা ও সাতক্ষীরার মানুষের মধ্যে
১০ নম্বর বিপদ সংকেতের পরও ফাঁকা মোংলার অধিকাংশ আশ্রয়কেন্দ্র - ছবি : জাগরণ

১০ নম্বর মহাবিপদ সংকেত জারি হওয়ার পরও আশ্রয়কেন্দ্রে যাচ্ছে না মোংলা ও সাতক্ষীরার মানুষ। স্বাভাবিক কাজকর্ম করছেন তারা। প্রশাসনের পক্ষ থেকে আশ্রয়কেন্দ্রে নেয়ার চেষ্টা করা হলেও মানুষ আসতে চাচ্ছে না। অবস্থা দেখে মনে হচ্ছে, ঘূর্ণিঝড় বুলবুল তাদের মনে আতঙ্ক ধরাতে পারেনি। তবে খুলনা জেলার মানুষ সাইক্লোন শেল্টারে যাওয়া শুরু করেছে।

বুলবুলের আতঙ্ক নেই মোংলায়

মোংলা (বাগেরহাট) সংবাদদাতা জানান, থেমে থেমে বৃষ্টি আবার সূর্যের উঁকি-ঝুঁকিতে কালো মেঘ চিরে রৌদ্রের আলোতে মহাবিপদ সংকেতের ভয় নেই মোংলার জনসাধারণের মাঝে। নেই ঝোড়ো হাওয়াও। আতঙ্কহীন মানুষেরা ঘর থেকে বের হয়ে তাদের স্বাভাবিক কাজকর্ম শেষে আবার ফিরছে ঘরে। ফলে ১০ নম্বর মহাবিপদ সংকেত জারি হওয়ার পরও আশ্রয়কেন্দ্রে যাচ্ছে না শহরের লোকজন। 

তবে উপজেলার দুর্গম এলাকার কিছু লোকজন আশ্রয়কেন্দ্রে উঠেছেন। সেখানে তাদেরকে দেয়া হয়েছে শুকনো খাবারও। তবে বিকেলের পর থেকে আশ্রয়কেন্দ্রগুলো লোকজন বাড়বে বলে জানিয়েছেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. রাহাত মান্নান।

শনিবার (৯ নভেম্বর) সকালে আবহাওয়া অধিদফতর থেকে মোংলা সমুদ্রবন্দরের জন্য ১০ নম্বর মহাবিপদ সংকেতের ঘোষণা দেয়া হয়। তবে এ ঘোষণায় মোংলার সুন্দরবন উপকূলীয় মানুষের মাঝে তেমন আতঙ্ক চোখে পড়েনি। দুপুর ২টা পর্যন্ত ৮৪টি আশ্রয়কেন্দ্রের মধ্যে জয়মনির দুটি আশ্রয়কেন্দ্রে স্বল্পসংখ্যক মানুষ উপস্থিত হলেও বাকি শেল্টারগুলো ছিল একদমই ফাঁকা।

কবরস্থান রোডের দিগন্ত সরকারি প্রকল্প বিদ্যালয়ে (আশ্রয়কেন্দ্র) মাত্র একজন লোক উপস্থিত হয়েছেন। এই কেন্দ্রের দায়িত্বরত কর্মকর্তা মৃনাল কান্তি মিস্ত্রি বলেন, আবহাওয়া স্বাভাবিক থাকায় লোকজন আশ্রয়কেন্দ্রে আসেনি। একই অবস্থা শহরের আলিয়া মাদ্রাসা, চালনা বন্দর স্কুল, সেন্ট পলস্ উচ্চ বিদ্যালয়, গার্লস স্কুল, আরাজী মাকোরডোনসহ বেশ কয়েকটি আশ্রয়কেন্দ্রের।

তবে উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মো. রাহাত মান্নান দাবি করে বলেন, সুন্দরবনের খুব কাছের জনপদ জয়মনিরঘোলের লোকজন সরকারি খাদ্যগুদাম ও জয়মনি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের আশ্রয়কেন্দ্রসহ কয়েকটি আশ্রয়কেন্দ্রে প্রায় ২৬০০ লোক জড়ো হয়েছেন। তাদের মধ্যে শুকনো খাবার বিতরণ করা হয়েছে। তবে বিকেলের পর থেকে আশ্রয়কেন্দ্রে লোকজনের উপস্থিতি বাড়বে বলে তিনি জানান।

আশ্রয়কেন্দ্রে যেতে চাচ্ছে না সাতক্ষীরা উপকূলের মানুষ

সাতক্ষীরা সংবাদদাতা জানান, ঘূর্ণিঝড় বুলবুলের প্রভাবে উপকূলীয় জেলা সাতক্ষীরায় ১০ নম্বর মহাবিপদ সংকেত জারি করা হয়েছে। দুর্যোগ মোকাবিলায় উপকূলীয় এলাকার মানুষকে প্রশাসনের পক্ষ থেকে আশ্রয়কেন্দ্রে সরিয়ে নেয়া হচ্ছে। তবে আশ্রয়কেন্দ্রে যেতে চাইছে না মানুষ।

ঘূর্ণিঝড় বুলবুলের প্রভাবে জেলার উপকূলবর্তী নদীগুলোতে পানি বাড়ছে। একই সঙ্গে নদী উত্তাল রয়েছে। ঝুঁকিতে রয়েছে উপকূলবর্তী এলাকার নদীর বাঁধের কিছু কিছু স্থান।

উপকূলীয় শ্যামনগর উপজেলার প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) শাহিনুর ইসলাম বলেন, শ্যামনগর উপজেলার গাবুরা ও পদ্মপুকুর ইউনিয়ন দুটি অধিক ঝুঁকিতে রয়েছে। এছাড়া বুড়িগোয়ালিনী, আটুলিয়া, কৈখালী ও মুন্সিগঞ্জ ইউনিয়নও ঝুঁকিপূর্ণ। আমরা এসব এলাকার মানুষকে আশ্রয়কেন্দ্রে নেয়ার চেষ্টা করছি। কিন্তু মানুষ আশ্রয়কেন্দ্রে আসতে চায় না। তারা বাড়িতেই থাকতে চায়। কেউ কেউ তাদের আত্মীয়স্বজনের বাড়িতে চলে যাচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, শনিবার সকাল ১০টা পর্যন্ত বিভিন্ন ইউনিয়নের প্রায় এক হাজার মানুষকে আশ্রয়কেন্দ্রে সরিয়ে নেয়া হয়েছে। স্থানীয় ইউনিয়ন চেয়ারম্যানদের মাধ্যমে লোকজনকে বুঝিয়ে আশ্রয়কেন্দ্রে নেয়া হচ্ছে।

শ্যামনগর উপজেলার উপকূলীয় নীলডুমুর ঘাট এলাকার আমিরুল ইসলাম জানান, মানুষ তাদের বাড়ি, ঘর, গরু, ছাগল, হাঁস মুরগি রেখে আশ্রয়কেন্দ্রে যেতে চাচ্ছে না। উপজেলা নির্বাহী অফিসার, পুলিশ অনুরোধ করেও কাউকে নিতে পারছে না। তবে রমজাননগর এলাকায় বেশ কিছু মানুষ আশ্রয়কেন্দ্রে আশ্রয় নিয়েছে।

শ্যামনগর উপজেলা নির্বাহী অফিসার এম কামরুজ্জামান বলেন, আমি সকাল থেকেই উপকূলীয় গাবুরা ইউনিয়নের এলাকায় রয়েছি। এখানকার মানুষকে আশ্রয়কেন্দ্রে আশ্রয় নিতে বলা হচ্ছে, বোঝানো হচ্ছে। মানুষ আশ্রয়কেন্দ্রে যাচ্ছে।

সাতক্ষীরার জেলা প্রশাসক এসএম মোস্তফা কামাল বলেন, ঘূর্ণিঝড় বুলবুল মোকাবিলায় সব ধরনের প্রস্তুতি নেয়া হয়েছে। ১২০০ আশ্রয় কেন্দ্র খোলা হয়েছে। উপকূলীয় এলাকার অন্তত ৩০ হাজার মানুষকে নিরাপদ আশ্রয়ে সরিয়ে নেয়া হয়েছে বলে তিনি দাবি করেন।

খুলনার মানুষ সাইক্লোন শেল্টারে যাওয়া শুরু করেছে

খুলনা সংবাদদাতা জানান, বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট ঘূর্ণিঝড় ‘বুলবুল’ ধেয়ে আসছে উপকূলের দিকে। শুক্রবার (৮ নভেম্বর) সারারাত হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টিপাত চললেও শনিবার সকাল থেকে খুলনা অঞ্চলজুড়ে শুরু হয়েছে মুষলধারে বৃষ্টিপাত। শনিবার সকাল ১০টার পর থেকেই মানুষ প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র নিয়ে আশ্রয়কেন্দ্রের উদ্দেশে যাওয়া শুরু করে। স্থানীয় মানুষকে সচেতন করতে শুক্রবার বিকাল থেকেই উপকূলীয় উপজেলা দাকোপ, কয়রা, বটিয়াঘাটা ও পাইকগাছায় মাইকিং করা হচ্ছে।

দাকোপ উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা শেখ আব্দুল কাদের জানান, শুক্রবার রাত থেকেই আশ্রয়কেন্দ্রে লোকজন আশ্রয় নেয়া শুরু করেছে। তাদেরকে আশ্রয়কেন্দ্রে পৌঁছানোর জন্য সার্বিক সহযোগিতা করা হচ্ছে।

জেলা দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি ও জেলা প্রশাসক  মো.  হেলাল হোসেন জানান, ঘূর্ণিঝড় ‘বুলবুল’ এর ক্ষয়ক্ষতি মোকাবিলায়  জেলা প্রশাসন সতর্ক অবস্থায় রয়েছে। দুর্যোগের ক্ষয়ক্ষতি মোকাবিলায় খুলনায় ৩৪৯টি সাইক্লোন শেল্টার প্রস্তুত রাখা হয়েছে। জেলা প্রশাসকের কার্যালয় ও নয়টি উপজেলায় মোট ১০টি কন্ট্রোল রুম খোলা হয়েছে। সেখান থেকে সার্বক্ষণিক মনিটরিং করা হচ্ছে।

এনআই

আরও পড়ুন