• ঢাকা
  • সোমবার, ২০ জানুয়ারি, ২০২০, ৭ মাঘ ১৪২৬

জাতির পিতার জন্মশতবার্ষিকীর ক্ষণগণনা

মুজিববর্ষ
প্রকাশিত: ডিসেম্বর ৭, ২০১৯, ১০:৪৬ এএম
সর্বশেষ আপডেট : ডিসেম্বর ৭, ২০১৯, ১০:৪৬ এএম

বরিশাল মহানগর আ.লীগের সম্মেলন রোববার

সভাপতি পদে একাধিক, সা. সম্পাদক পদে একক প্রার্থী

বরিশাল সংবাদদাতা
সভাপতি পদে একাধিক, সা. সম্পাদক পদে একক প্রার্থী

আজ বাদে আগামীকাল রোবার (৮ ডিসেম্বর) বরিশাল মহানগর আওয়ামী লীগের ত্রি-বার্ষিক সম্মেলন। দীর্ঘ সাত বছর পরে ৮ ডিসেম্বর বরিশাল মুক্ত দিবসের দিন অনুষ্ঠিত হবে। আর তাই সম্মেলনকে ঘিরে নব বধুর সাজে সেজেছে গোটা মহানগরী। রাতের নগরীতে আলোক সজ্জার পাশাপাশি নির্মাণ হয়েছে শতাধিক তোরণ। রাস্তার পাশে এবং সম্মেলন স্থলে লাগানো হয়েছে বিভিন্ন নেতাদের ছবি সম্বলিত ব্যানার।

এদিকে, দীর্ঘ বছর পরে অনুষ্ঠিতব্য এ সম্মেলনকে ঘিরে নেতা-কর্মীদের মধ্যে উদ্বেগ, উৎণ্ঠার আর উন্মাদনার যেন শেষ নেই। কে ধরবেন দক্ষিণাঞ্চলের মূল রাজনৈতিক কেন্দ্রবিন্দু বরিশাল মহানগর আওয়ামী লীগের হাল। বিশেষ করে সভাপতি পদে কে আসবেন সেটাই এখন চিন্তার বিষয়।

সাধারণ সম্পাদক পদে বরিশাল সিটি মেয়র সেরনিয়াবাত সাদিক আবদুল্লাহ’র নামটি এককভাবে শোনা গেলেও সভাপতি প্রার্থীর তালিকা দীর্ঘ। আর এ তালিকায় নাম রয়েছে প্রতিমন্ত্রী, সাবেক মেয়র পন্থি এবং আওয়ামী লীগের বর্তমান ও সাবেক নেতাদের নাম। তাই চলছে মুখরোচর আলোচনা আর বিশ্লেষণ। এর যুক্তিযুক্ত ব্যাখ্যাও রয়েছে।

দলীয় সূত্রে জানাগেছে, মহানগর আওয়ামী লীগে সাধারণ সম্পাদক পদে এখন পর্যন্ত একজনের নামই সর্বত্ত শোনা যাচ্ছে। তিনি হলেন- বর্তমান কমিটির তিন নম্বর যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও সিটি মেয়র সেরনিয়াবাত সাদিক আবদুল্লাহ। তার অনুসারী নেতা-কর্মীরা সাধারণ সম্পাদক পদে তার অবস্থান অনেকটাই নিশ্চিত বলে ধরে নিয়েছেন।

তাছাড়া কাউন্সিল নিয়ে মেয়র সাদিক আবদুল্লাহ’র রাজনৈতিক পূর্ব প্রস্তুতির দিক থেকেও এগিয়ে আছেন। অতি সম্প্রতি অনুষ্ঠিত মহানগর আওয়ামী লীগের ৩০টি ওয়ার্ডে সম্মেলনে তিনি তার মাঠ গুছিয়ে নিয়েছেন। ৩০টি ওয়ার্ডে আওয়ামী লীগের কমিটিতে সভাপতি এবং সাধারণ সম্পাদক পদে যারা এসেছেন তারা সবাই সাদিক আবদুল্লাহ’র পরীক্ষিত সৈনিক। যে কারণে ভোটের মাধ্যমে তার সাধারণ সম্পাদক হওয়াটাও খুব সহজ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

তবে সভাপতি পদে কে আসবেন সেটাই মূল আলোচনার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। এখন পর্যন্ত সভাপতি পদে ৬ জনের নাম উচ্চারণ হচ্ছে। এদের মধ্যে আলোচনায় রয়েছেন- মহানগর আওয়ামী লীগের ক্ষুদ্র অংশের নেতৃত্ব দেয়া জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি, বরিশাল সদর আসনের সংসদ সদস্য ও পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী কর্নেল (অব.) জাহিদ ফারুক শামীম।

তার পাশাপাশি সাবেক সাংসদ ও সিটি মেয়র মরহুম শওকত হোসেন হিরনের সহধর্মীণি এবং সাবেক এমপি জেবুন্নেছা আফরোজ, বর্তমান কমিটির সভাপতি অ্যাডভোকেট গোলাম আব্বাস চৌধুরী দুলাল, সিনিয়র সহ-সভাপতি অ্যাড.  আফজালুল করিম, সহ-সভাপতি ও সদর উপজেলা চেয়ারম্যান আলহাজ সাইদুর রহমান রিন্টু এবং মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক অ্যাড. একেএম জাহাঙ্গীর।

এদের মধ্যে কর্নেল (অব.) জাহিদ ফারুক শামীম, গোলাম আব্বাস চৌধুরী দুলাল, জেবুন্নেছা আফরোজ আলোচনার শীর্ষ স্থানে রয়েছে। যদিও আলোচনা হচ্ছে জাহিদ ফারুক শামীমকে নিয়ে। সিটি মেয়র সাদিক পন্থিদের টার্গেট তাকে থামিয়ে দেয়া। এ কারণেই সভাপতি পদে ডামি প্রার্থী হিসেবে কয়েকজনের নামও শোনা যাচ্ছে। যদিও সম্মেলনের আগে এ নিয়ে কেউ মুখ খুলতে রাজি নন।

তবে প্রকাশে না বললেও নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক অনেকেই মহানগর আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে একক আধিপত্য ভাঙা প্রয়োজন বলে মনে করছেন। এ জন্য দ্বিতীয় শক্তির উদয় হওয়া প্রয়োজন বলেও মনে করেন তারা। সে দিক বিবেচনায় পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রীর বিকল্প অন্য কাউকে দেখছেন না তারা। এর যথাযথ কারণও রয়েছে।

দলের নেতা-কর্মীরা বলেন, শওকত হোসেন হিরন জীদ্দশায় বরিশাল মহানগর আওয়ামী লীগের একক আধিপত্য সৃষ্টি করেছিলেন। তার মৃত্যুর পরে স্বামীর রাজনীতির অনেকটা হাল ধরার চেষ্টা করেন জেবুন্নেছা আফরোজ। দলের টিকিট পেয়ে এমপিও হন তিনি। 

এছাড়া সভাপতি পদ প্রত্যাশী আফজালুল করিম এরই মধ্যে সুবিধাবাদী নেতার খেতাব লাভ করেছেন। শওকত হোসেন হিরনের অন্যতম রাজনৈতিক সহচর আফজাল হিরনের মৃত্যুর পরে দীর্ঘদিন একলা পথে রাজনীতি করেছেন। তবে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পূর্বে দলের টিকিট পেতে ভিড়েন সাদিক আবদুল্লাহ’র কোরামে। যদিও কর্মী বিহীন নেতা আফজালের বিরুদ্ধে দলের মধ্যে বিভাজন সৃষ্টির অভিযোগ অনেক পুরানো। এসব কারণে মহানগর আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক আফজালের সভাপতি হওয়ার গুরুত্বটাও বিবেচনা করা হচ্ছে।

এদিকে, আলোচনা যাই হোক কমিটির সিদ্ধান্ত আওয়ামী লীগের সভানেত্রী ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা’র ওপরেই নির্ভর করছে বলে মনে করছেন আওয়ামী লীগের শীর্ষ পদের নেতারা। তাদের দাবি সভানেত্রীই নির্ধারণ করবেন কে ধরবে মহানগর আওয়ামী লীগের হাল। এ ক্ষেত্রে বর্তমানে স্থানীয় পর্যায়ে যত হিসাব নিকাশ হচ্ছে তার পুরোটাই পাল্টে যেতে পারে। আর এজন্য ৮ ডিসেম্বর সম্মেলনের দিন পর্যন্ত অপেক্ষা করতে সকলকে।

এদিকে, সম্মেলন প্রসঙ্গে মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি গোলাম আব্বাস চৌধুরী দুলাল এবং সাধারণ সম্পাদক একেএম জাহাঙ্গীর বলেছেন, সুষ্ঠু ও সুন্দরভাবে সম্মেলন সম্পন্ন করতে যা করণীয় তাই আমরা করছি। অবশ্য যা কিছুই হচ্ছে তার সবই জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আলহাজ আবুল হাসানাত আবদুল্লাহ এবং সিটি মেয়র সেরনিয়াবাত সাদিক আবদুল্লাহ’র দিক নির্দেশনা এবং পরিকল্পনা অনুযায়ী হচ্ছে।

তারা বলেন, অনুষ্ঠিতব্য সম্মেলনে তিনটি পর্ব রয়েছে। এর মধ্যে সকাল ১টায় বঙ্গবন্ধু উদ্যানে শুরু হবে সম্মেলন। এতে ২৫ হাজারের বেশি কাউন্সিলর, ডেলিগেট ও নেতা-কর্মী অংশগ্রহণ করবে। এ কারণে সম্মেলনস্থল নগরীর বঙ্গবন্ধু উদ্যানে বিশাল প্যান্ডেল ও নৌকার আদলে মঞ্চ তৈরি করা হয়েছে। এ সম্মেলনে প্রধান অতিথি থাকবেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। উদ্বোধন করবেন আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা মন্ডলির সদস্য আলহাজ আমির হোসেন আমু-এমপি। প্রধান বক্তা থাকবেন পার্বত্য শান্তিচুক্তি বাস্তবায়ন পরীবিক্ষণ কমিটির মন্ত্রী মর্যাদার আহবায়ক আবুল হাসানাত আবদুল্লাহ এমপি।

এর বাইরে কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর কবির নানক, আব্দুর রহমান ও কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের বরিশাল বিভাগের দায়িত্বে থাকা সাংগঠনিক সম্পাদক আ.ফ.ম বাহাউদ্দিন নাসিম বিশেষ অতিথি হিসেবে অংশগ্রহণের কথা রয়েছে। পাশাপাশি কাউন্সিলে ৩০টি ওয়ার্ডের ৬০ জন সভাপতি-সম্পাদকসহ মোট ৩৭১ জন কাউন্সিলর চূড়ান্ত হয়েছে। সম্মেলনের দ্বিতীয় পর্বে নগরীর বরিশাল ক্লাবে কাউন্সিল এবং সন্ধ্যায় বঙ্গবন্ধু উদ্যানে অনুষ্ঠিত হবে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান।

উল্লেখ্য, সর্বশেষ ২০১২ সালের ২৭ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত হয়েছিল বরিশাল জেলা ও মহানগর আওয়ামী লীগের ত্রি-বার্ষিক সম্মেলন। কাউন্সিলে সভাপতি নির্বাচিত হন শওকত হোসেন হিরন। তার মৃত্যুর কারণে কাউন্সিলের চার বছর পরে ২০১৬ সালের ২০ ডিসেম্বর মহানগর আওয়ামী লীগের ৭১ সদস্যের পূর্ণাঙ্গ কমিটি দেয় কেন্দ্র। যার মেয়াদ শেষ হয়েছে চলতি বছরের গত ১৯ অক্টোবর।

কেএসটি
 

আরও পড়ুন