• ঢাকা
  • শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর, ২০২০, ৪ আশ্বিন ১৪২৭
প্রকাশিত: আগস্ট ১০, ২০২০, ০৬:৪২ পিএম
সর্বশেষ আপডেট : আগস্ট ১০, ২০২০, ০৬:৫৯ পিএম

দেশের শীর্ষস্থানীয় পত্রিকার তথ্যে গড়মিল

সিনহা হত্যামামলার সাংঘর্ষিক প্রতিবেদনে জনমনে বিভ্রান্তি

এস এম সাব্বির খান
সিনহা হত্যামামলার সাংঘর্ষিক প্রতিবেদনে জনমনে বিভ্রান্তি

কক্সবাজার-টেকনাফ অঞ্চলের মেরিন ড্রাইভ সড়কের বাহারছড়ায় ৩১ জুলাই রাতে পুলিশের গুলিতে সাবেক সেনা কর্মকর্তা মেজর (অব.) সিনহা মো. রাশেদ খান নিহত হন। এ ঘটনার প্রেক্ষিতে সেনাগোয়েন্দা সংস্থাসহ র‍্যাব ও পুলিশের গুরুত্বপূর্ণ পর্যায় থেকে ঘটনা অনুসন্ধানে কাজ অব্যাহত রয়েছে। এছাড়া এই ঘটনার পর পর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশানুসারে ৪ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রণালয়, যারা ঘটনা তদন্তের কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন। 

প্রাথমিক পর্যায়ে এ কমিটিকে ৭ কার্যদিবসের মধ্যে ঘটনার তদন্ত প্রতিবেদন পেশ করার নির্দেশনার কথা জানিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল জানিয়েছিলেন, বস্তুনিষ্ঠ তদন্তের সাপেক্ষে কমিটির রিপোর্ট প্রদানের আগে কোনো ক্ষেত্র থেকে যেন ঘটনা প্রসঙ্গে বিতর্কিত কোনো মন্তব্য বা তথ্য উপস্থাপনের মাধ্যমে বিব্রতি সৃষ্টি না করা হয় সে ব্যাপারে সকলকে সচেতন থাকতে।

তবে সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে স্পর্শকাতর এ প্রসঙ্গটিতে বিতর্কিত তথ্য উপস্থাপনের মাধ্যমে এ যাবত বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পর্যায়ের অনুসন্ধানে প্রাপ্ত তথ্যসমূহকে প্রশ্নবিদ্ধ করা হচ্ছে, যা চলমান তদন্ত কাজের ক্ষেত্রে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করতে পারে বলে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন অনেকেই। যার মধ্যে বিশেষভাবে আলোচনায় উঠে এসেছে দেশের একটি সংবাদমাধ্যমে সিনহা হত্যা মামলা ইস্যুতে প্রকাশিত অনুসন্ধানি প্রতিবেদনের প্রেক্ষাপটকে কেন্দ্র করে। প্রশাসনসহ সমাজের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পর্যায়ের দায়িত্বশীলদের ভাষ্য মতে, শুরু থেকে প্রশাসন ও সরকারের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সংস্থার সঙ্গে বেশ কয়েকটি ক্ষেত্রে সাংঘর্ষিক তথ্য উপস্থাপনের মাধ্যমে জনমনে বিভ্রান্তি সৃষ্টির পাশাপাশি তদন্ত খাতকে প্রভাবিত করছে। 

ফেসবুকে ভাইরাল হওয়া এই আলোচিত প্রতিবেদনটির শিরোনাম থেকেই সুস্পষ্টভাবে প্রতীয়মান হয় যে, প্রতিবেদনটির মূল বিষয়বস্তু হচ্ছে- মেজর (অব।) সিনহা পরিকল্পিত একটি পুলিশি হত্যাকাণ্ডের শিকার যার মূল পরিকল্পনাকারী কক্সবাজার পুলিশের এসপি। যার প্রেক্ষিতে এই দাবির বস্তুনিষ্ঠতা ও গ্রহণযোগ্যতা প্রতিষ্ঠায় সেদিনের ঘটনার আদ্যপান্ত সবিস্তারে তুলে ধরা হয়।

গত শনিবার রাত নাগাদ দেশের একটি দৈনিক সংবাদপত্রের সিনিয়র প্রতিবেদক সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে করা পোস্টের মাধ্যমে- পুলিশের গুলিতে মেজর (অব.) সিনহা নিহতের প্রসঙ্গে নিজের আলোচিত প্রতিবেদনটি প্রকাশ করেন। উল্লেখিত প্রতিবেদনটিতে সিনহা হত্যার নেপথ্য ঘটনা ও আনুসঙ্গিক নানা বিষয় সবিস্তারে উপস্থাপন করা হয় যা অল্প সময়ের মধ্যে স্যোসালমিডিয়ায় ভাইরাল হয়। এদিকে পত্রিকাটির অনলাইন ভার্সনের তথ্য মতে জানা যায়, সোমবার (১০ আগস্ট) এই প্রতিবেদনটি নিজেদের পোর্টালে আপলোডের পাশাপাশি প্রিন্ট ভার্সনে প্রকাশিত হয়। 

তবে একই সময়ে বিষয়টি নানা মহলের সমালোচনার মুখেও পড়ে। প্রশ্ন ওঠে, একজন পেশাদার সাংবাদিক নিজের একটি প্রতিবেদন পত্রিকায় প্রকাশের পূর্বে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তা প্রকাশ করে কেন এমন অপেশাদার আচরণ প্রদর্শন করলেন। এছাড়া বিভিন্ন পর্যায় থেকে প্রতিবেদনটিতে সন্নিবেশিত তথ্যসমূহ বিশ্লেষণে দাবি করা হচ্ছে, অধিকাংশ ক্ষেত্রেই প্রতিবেদনটিতে উপস্থাপিত তথ্যাদি ও ঘটনার বিবৃতি চলমান তদন্ত সাপেক্ষে প্রাপ্ত তথ্যসমূহের সঙ্গে সাংঘর্ষিক যা বিভ্রান্তিকর পরিস্থিতি উস্কে দিচ্ছে। প্রতিবেদনটির সাপেক্ষে বিভিন্ন  মহলের এমন দাবি অনেকাংশেই সত্য বলে প্রতীয়মান হয়।

প্রতিবেদনটির তথ্য মতে, নিহত সিনহা তার দুই সহকর্মীকে নিয়ে টেকনাফের ইয়াবা বাণিজ্যের নেপথ্য নিয়ে একটি ডকুমেন্টারির কাজ করছিলেন। যার শেষাংশে সিনহা ও তার সহকর্মী ক্যামেরাম্যান সিফাত টেকনাফ থানার সাবেক ওসি প্রদীপ কুমারের একটি ভিডিও সাক্ষাতকার গ্রহণ করতে যান। সেই সাক্ষাতকারে ইয়াবা ব্যবসা ও এর সঙ্গে স্থানীয় পুলিশ প্রশাসনের সম্পৃক্ততার প্রসঙ্গে সিনহার বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তরে স্পর্শকাতর তথ্য প্রকাশে বাধ্য হন প্রদীপ। আর সেই সব তথ্য যাতে প্রকাশ না পায় সেজন্যেই হত্যা করা হয় সিনহাকে।

এদিকে এই ঘটনার বস্তুনিষ্ঠ তদন্তের সাপেক্ষে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি- ঘটনাস্থলে উপস্থিত প্রত্যক্ষদর্শী সিফাত শুরু থেকেই সেনা গোয়েন্দা সংস্থা ও সরকারি তদন্ত কমিটিসহ বিভিন্ন সংস্থার কাছে তার বয়ানে জানান, সিনহাসহ তারা সকলেই ভ্রমন বিষয়ক একটি ইউটিউব চ্যানেলের জন্য ডকুমেন্টারি তৈরির কাজে টেকনাফ গিয়েছিলেন। সিনহার পরিবারও একই তথ্য জানায়। সেক্ষেত্রে ইয়াবা সংক্রান্ত ভিডিও প্রতিবেদনের কাজে তারা সেখানে অবস্থান করছিলেন, এমন তথ্য সিনহার অবস্থান এবং প্রত্যক্ষদর্শী সিফাতের দেয়া তথ্যকে মিথ্যা প্রমাণ করে। আর সিফাত মিথ্যা প্রমাণিত হলে তা এই ঘটনার পুরো প্রেক্ষাপটকে প্রশ্নবদ্ধ করবে এবং তদন্ত কাজকে চরমভাবে বাধাগ্রস্ত করবে। সেটা সিনহা ঘটনার সুষ্ঠ বিচারিক কর্মকাণ্ডের ক্ষেত্রে কত বড় প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করবে তা পরিষ্কার বোঝা যাচ্ছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, ঘটনার দিন মাদক বাণিজ্য ও এ সংক্রান্ত ইস্যুতে পুলিশ প্রশাসনের সংশ্লিষ্টতা সম্পর্কে প্রদীপ কুমারের একটি ভিডিও সাক্ষাতকার গ্রহণ করেন সিনহা ও ক্যামেরাম্যান সিফাত। যার ভিত্তিতে গোপন তথ্য ফাঁস হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা দেখা দেয় বলেই সিনহাকে হত্যার পরিকল্পনা করা হয়। এ তথ্যটির ক্ষেত্রে একটি অসামঞ্জস্যতা পরিলক্ষিত হয়। মাদক সিন্ডিকেট সংক্রান্ত ডকুমেন্টারি নির্মাণের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট ক্ষেত্র হতে প্রত্যক্ষভাবে তথ্য সংগ্রহের কাজে একজন ব্যক্তির নূন্যতম দাপ্তরিক পরিচিতি থাকা আবশ্যক নইলে একজন প্রশাসনিক কর্মকর্তা কেন তার কাছে সাক্ষাতকার দেবেন? অবসরপ্রাপ্ত একজন সেনা কর্মকর্তা একজন সাধারণ মানুষ, যার কাছে প্রদীপের মত সাবেক পুলিশ কর্মকর্তা বিপদে পড়ার মত স্পর্শকাতর তথ্য দেয়া তো দূর সামান্য সাক্ষাতকারও দিতে বাধ্য থাকবেন না। সেক্ষেত্রে জেনেশুনে ইয়াবা বাণিজ্যের সঙ্গে পুলিশের সম্পৃক্ততার ব্যাপারে সিনহার কাছে প্রদীপের সাক্ষাতকারের বিষয়টি ভেবে দেখার মত। এই তথ্যটিও নিজের বক্তব্যের কোথাও জানাননি সিফাত। অর্থাৎ এক্ষেত্রেও সিফাতকে তথ্য গোপন ও বানোয়াট তথ্য প্রদান সাপেক্ষে প্রশ্নবিদ্ধ করা হচ্ছে।

অপর এক তথ্যে ঘটনার দিন বিকাল ৪টা নাগাদ সাক্ষাতকার গ্রহণ শেষে সেখান থেকে সিনহা ও সিফাতের 'একদণ্ড কালক্ষেপন না করে' দ্রুত প্রস্থানের বিষয়টি থেকে বোঝা যায় যে, ভয়াবহ কিছু ঘটার বা বিপদাপন্ন হবার আশঙ্কা নিয়েই সেখান থেকে বেরিয়ে যান সিনহা ও সিফাত। ঠিক এমন পরিস্থিতির মাঝে আকস্মিক ফোনে কারো নিমন্ত্রণ গ্রহণ এবং নিরাপদ গন্তব্যে পৌঁছানোর তাড়ানো ফেলে অভিনেতা ইলিয়াস কোবরার কাছে গিয়ে সেখানে কয়েক ঘন্টার আতিথ্য গ্রহণ ও ঘুরে বেড়ানোর মত মানসিক পরিস্থিতি সিনহা বা সিফাত কারোই থাকার কথা নয়। তাছাড়া আলোচিত প্রতিবেদনটির তথ্যানুসারী, টেকনাফ অঞ্চলের ইয়াবা বাণিজ্য সম্পৃক্ত বহু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সংগ্রহে রাখা সিনহা কেন সেই সময় মাদক ইস্যুতে ক্রসফায়ার মধ্যস্থতাকারী সিন্ডিকেটের হোতা ইলিয়াস কোবরার আতিথেয়তা গ্রহণ করে তার কাছে ছুটে যাবেন সে বিষয়টিও অনেক মহলে প্রশ্নের উদ্রেগ ঘটাচ্ছে।  

অপর একটি গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু হচ্ছে, প্রতিবেদনের বক্তব্য অনুসারে উঠে আসা 'ত্রিমুখী হত্যা মিশন' সম্পৃক্ত তথ্য। যেখানে 'সিনহা কিলিং মিশন সম্পন্ন' করতে তিনটি পরিকল্পনার কথা তুলে ধরা হয়েছে। যার একটি হচ্ছে মারিসঘোণা গ্রামে ওসি প্রদীপের নিজস্ব এজেন্টদের দ্বারা সন্দেহভাজন ডাকাত হিসেবে শনাক্ত করে গণপিটুনিতে সিনহা-সিফাতকে হত্যা করার পরিকল্পনা। এ প্রসঙ্গে বলা হয়, স্থানীয় সেই পাহাড়ে সিনহা ও সিফাতের অবস্থানকালে ওসির নিজেস্ব লোকজনের মাধ্যমে স্থানীয়দের একাট্টা করা হয়। পরিকল্পনা অনুসারে তারা সিনহা ও সিফাতকে ডাকাত অভিহিত করে বাগে আনার চেষ্টা করলেও নিজের সেনা দক্ষতা কাজে লাগিয়ে সেখান থেকে সুকৌশলে বেরিয়ে আসেন সিনা ও সিফাত। অথচ বারংবার জেরার মুখে সিফাত দাবি করেছেন, পাহাড়ে অবস্থানকালে এমন কোনো ঘটনাই ঘটেনি। শুধু কক্সবাজার ফেরার পথে রাস্তায় দু'জন ব্যক্তি তাদের পরিচয় জানতে চাইলে তারা যথাযথ উত্তর দিয়ে নিজেদের পথে এগিয়ে যান। অর্থাৎ প্রতিবেদনের এই তথ্যটিও প্রশ্নবিদ্ধ।

আরেকটি বিষয় উল্লেখ করে বলা হয়েছে, ওসির নির্দেশে গাড়ি থেকে নামতেই অব্যর্থ নিশানায় লিয়াকত 'পর পর চারটি' বুলেট বিদ্ধ করেন মেজর সিনহার দেহে। কিছুক্ষণের মধ্যে সেখানে পৌঁছে প্রদীপ সিনহাকে ২টি গুলি করেন। অর্থাৎ প্রতিবেদনে নিশ্চিতভাবে ৬টি গুলি করার কথা উল্লেখ করা হয়।

ধারণা করা যায়, নিহত সিনহার মরদেহ সুরতহাল শেষে দেয়া রিপোর্টে তার শরীরে ৬টি ক্ষতের উল্লেখ করা হয় যার সঙ্গে মিল রেখে ৬টি গুলির তথ্য তুলে ধরা হয় প্রতিবেদনে। ময়না তদন্ত রিপোর্টের তথ্যে বিষয়টি নিশ্চিত করে বলা হয়, মোট ৪টি গুলি করা হয় সাবেক মেজর সিনহা রাশেদকে।

চিকিৎসকদের বর্ননা অনুযায়ী, প্রথম গুলিটা সিনহার বাম হাতের বাহুতে লেগে ছিদ্র হয়ে বেরিয়ে যায়। পরের গুলিটি বাম কাঁধের নিচ দিয়ে ঢুকে পিঠ দিয়ে বেরিয়ে যায়। এই গুলির জন্য সামনে ও পেছনের অংশে দুটি ক্ষত তৈরি হয়। শেষের পরপর দুটি গুলি, বুকের বাম পাশে এক জায়গা দিয়ে ঢুকে পিঠে পাশাপাশি দুটি ক্ষত তৈরি করে বেরিয়ে যায়। এই দুটি গুলি বুকের পাজরের হাড় ভেঙে ঢুকে, হৃদপিণ্ড ও ফুসফুস ভেদ করে বেরিয়ে যায়। খুব কাছ থেকে দুটি গুলি ছোঁড়া হয়েছে বলেও ধারণা ময়না তদন্তকারী চিকিৎসকের। এই দুটি গুলির জন্য মোট তিনটি ক্ষতের সৃষ্টি হয় সিনহা রাশেদের শরীরে। অর্থ্যাৎ চারগুলির ৬টি ক্ষতের তথ্য ময়না তদন্ত রিপোর্টে নিশ্চিত করা হয়। কক্সবাজার মেডিকেল থেকে এই রিপোর্ট তদন্তকারী সংস্থা র‍্যাবের কাছে জমা দেয়া হয়েছে এরইমধ্যে। এক্ষেত্রেও তথ্য নিয়ে সৃষ্টি হয় ধোঁয়াশা।

এছাড়া প্রতিবেদনের সামগ্রিক বিষয়াদি থেকে প্রতীয়মান হয় যে, উল্লেখিত সেই ভিডিও সাক্ষাতকার গ্রহণের পর থেকেই বিভিন্ন পর্যায়ে বিশেষ কিছু ঘটার আশঙ্কা ও উদ্বেগ নিয়েই ছুটে বেড়িয়েছেন সিনহা ও সিফাত। সেক্ষেত্রে সত্যিই যদি এমন নিরাপত্তাহীনতার ইস্যুতে উদ্বিগ্ন থাকতেন তারা তবে সিনহা কেন আর্মড পুলিশ বা বিজিবি চেকপোস্টে সাহায্য চাননি? 

প্রকাশিত প্রতিবেদনটির বিভিন্ন পর্যায় থেকে উঠে আসা এমন প্রশ্নগুলো আলোচিত মেজর (অব.) সিনহা নিহতের ঘটনা সম্পর্কে বিভ্রান্তি সৃষ্টির পাশাপাশি মূল ঘটনার নেপথ্য বিষয়াদি নিয়েও সাংঘর্ষিক পরিস্থিতি সৃষ্টি করতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক সিনহার ঘনিষ্ঠজনদের কেউ কেউ মনে করছেন, সেনাগোয়েন্দা সংস্থা ও সরকারি তদন্ত কমিটির মূল প্রতিবেদন উপস্থাপনের পূর্বে সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত এমন প্রশ্নবিদ্ধ একটি প্রতিবেদনের মাধ্যমে তদন্তের ধারা ভিন্নখাতে প্রবাহিত করার চেষ্টাও চলতে পারে। তারা বলেন, মেজর (অব.) সিনহার মৃত্যু রহস্য উদঘাটন ও সর্বোচ্চ গুরুত্বের সঙ্গে বিভিন্ন অনুসন্ধানি তথ্য উদঘাটনে অতুলনীয় ভূমিকা পালন করে যাচ্ছে গণমাধ্যম। সেক্ষেত্রে বিচ্ছিন্ন কোনো ঘটনার প্রেক্ষিতে সৃষ্ট বিতর্কিত কিছুর মাধ্যমে গণমাধ্যমের ভূমিকাকে যেন প্রশ্নবিদ্ধ করার প্রেক্ষাপট সৃষ্টি করা না হয়।