• ঢাকা
  • শুক্রবার, ১৫ নভেম্বর, ২০১৯, ১ অগ্রাহায়ণ ১৪২৬
প্রকাশিত: অক্টোবর ২৮, ২০১৯, ০৯:০৫ এএম
সর্বশেষ আপডেট : অক্টোবর ২৮, ২০১৯, ০৯:৪৮ এএম

নতুন কমিটি নিয়ে ড্যাবে জ্বলে উঠতে পারে আগুন

রিকু আমির
নতুন কমিটি নিয়ে ড্যাবে জ্বলে উঠতে পারে আগুন

নতুন কমিটি গঠন নিয়ে বিএনপিপন্থী চিকিৎসকদের সংগঠন ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশে (ড্যাব) আগুন জ্বলার মতো অবস্থা সৃষ্টি হয়েছে।

অভিযোগ উঠেছে, ভোটে নির্বাচিত কার্যনির্বাহী পরিষদের ৫ জন জুনিয়র-সিনিয়রের ক্রম ভঙ্গ করে পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন করেছেন। একইসঙ্গে সংগঠনের জন্য ত্যাগীদের বাদ দিয়ে এমন ব্যক্তিদের কার্যনির্বাহী পরিষদে রাখা হয়েছে, যারা ত্যাগীদের তুলনায় কিছুই নন। তা ছাড়া ভোটে নির্বাচিত কার্যনির্বাহী পরিষদের ৫ জন নিজস্ব বলয়ের লোকজনকেই কমিটিতে ঠাঁই দিয়েছেন। এক্ষেত্রে দেখা হয়নি দলীয় সম্পৃক্ততার গভীরতা, সাংগঠনিক যোগ্যতা-দক্ষতা-সক্রিয়তা ও সংগঠনের জন্য ত্যাগ।

গত ২৯ জুলাই স্বাক্ষরের মাধ্যমে ড্যাবের কার্যনির্বাহী কমিটি অনুমোদন দেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। ভোটে নির্বাচিত কার্যনির্বাহী কমিটির ৫ জন হলেন- সভাপতি ডা. হারুনুর রশিদ, মহাসচিব ডা. মো. আবদুস সালাম, সহ-সভাপতি ডা. মো. আবদুস সেলিম, কোষাধ্যক্ষ ডা. জহিরুল ইসলাম শাকিল ও সিনিয়র যুগ্ম-মহাসচিব ডা. জহিরুল ইসলাম শাকিল। সাংগঠনিক নিয়ম অনুযায়ী- এই ৫ জন গঠন করবেন কার্যনির্বাহী কমিটি।

ড্যাবের ঘনিষ্ঠ দুটি সূত্র জানায়- এই ৫ জন কার্যনির্বাহী কমিটিতে যাদের নিয়েছেন, তাদের অধিকাংশ জুনিয়র, যারা প্রথমবার ড্যাবের সদস্য ফরম পূরণ করেই কার্যনির্বাহী কমিটিতে ঠাঁই পেয়েছেন। অথচ তাদের চেয়েও সিনিয়রদের নেয়াই হয়নি। সম্পূর্ণ নিজস্ব বলয়ের লোকজনকে জায়গা দিতে গিয়ে ওই ৫ জন সদস্য ত্যাগীদের দূরে ঠেলে দিয়েছেন। সংগঠনকে শক্তিশালী করার চেয়ে এর মাধ্যমে তারা নিজের গ্রুপকে নিয়ে ভেবেছেন এবং শক্তিশালী করতে গিয়ে যা করা প্রয়োজন, তা-ই করেছেন।

গত ১০ সেপ্টেম্বর ঢাকার মগবাজারে ড্যাবের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে নতুন কমিটি প্রথম সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে আহ্বায়ক কমিটি নতুন কমিটির কাছে দায়িত্ব হস্তান্তরের কথা ছিল। কিন্তু অভিযোগ উপস্থাপনকারী ড্যাব সদস্যরা সভায় তো বসেননি, বরং উত্তেজিত মেজাজে ড্যাবের সভাপতি, মহাসচিবকে গালমন্দ করেন এবং চেয়ার ফেলে দেন। দৈনিক জাগরণকে এমনটাই জানান একজন ড্যাব নেতা।

বর্তমান সভাপতি ডা. হারুনুর রশিদের আগে এই পদে ছিলেন ডা. আবদুল আজিজ। বর্তমান মহাসচিব ডা. মো. আবদুস সালামের আগে মহাসচিব ছিলেন ডা. এজেডএম জাহিদ হোসেন। ডা. আবদুল আজিজ ও ডা. এজেডএম জাহিদ হোসেনকে বর্তমানে ড্যাবের উপদেষ্টা কমিটিতে রাখা হয়েছে।

এদিকে, নতুন কমিটির বিশৃঙ্খলা ও উত্তেজনার প্রভাব পড়েছে ড্যাব বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় (বিএসএমএমইউ) শাখা গঠনের উপর।

অভিযোগ পাওয়া গেছে, কাউন্সিল না করে ও সংগঠনের গঠনতন্ত্র ভঙ্গ করে ড্যাব বিএসএমএমইউ শাখা গঠন করা হয়েছে। এছাড়া কমিটিতে এমন এমন ব্যক্তিদের রাখা হয়েছে, যাদের কেউ বিএসএমএমইউ প্রশাসনের কাছে মারাত্মক অভিযুক্ত। প্রশাসনের কর্তাব্যক্তিদের গায়ে হাত তোলার অভিযোগও আছে।

অন্যদিকে, সবসময় বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া, বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্যসহ সবসময় দলের নেতাকর্মীদের চিকিৎসা নিশ্চিতের ভূমিকা যারা পালন করতেন, তাদেরকে নেয়া হয়নি ড্যাব বিএসএমএমইউ শাখায়। একইসঙ্গে যাদের নিয়ে ড্যাব বিএসএমএমইউ শাখা গঠন করা হয়েছে, তাদের অনেকেই সাংগঠনিকভাবে কখনো সক্রিয় ছিলেন না।

এসব অভিযোগ তুলে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান বরাবর চিঠি দিয়ে ১৪ জন ড্যাব নেতা বিএসএমএমইউ কমিটি থেকে পদত্যাগ করেছেন।

তারা হলেন- ডা. সাইফুদ্দিন নিসার আহমেদ তুষান (সভাপতি), ডা. মো. আদনান হাসান মাসুদ (সহ-সভাপতি), ডা. মোফাখ্খারুল ইসলাম রানা (কোষাধ্যক্ষ), ডা. মো মনোয়ারুল কাদির বিটু (যুগ্ম-সম্পাদক), ডা. কাজী মো. কামরুল ইসলাম (সহ-দপ্তর সম্পাদক), ডা. মো. তাজ উদ্দিন (সহ-প্রকাশনা সম্পাদক), ডা. মো. সাইফুল ইসলাম এলিন (বিজ্ঞান বিষয়ক সম্পাদক), ডা. মো. নজরুল ইসলাম (সহ-মানবসম্পদ উন্নয়ন সম্পাদক), ডা. মো. সাইফুল ইসলাম জুয়েল (সহ আপ্যায়ন সম্পাদক), ডা. এহতেশামুল হক তুহিন (সদস্য), ডা. রেজাউলি আলম নিপ্পন (সদস্য), ডা. ইমামুর রশিদ সোহেল (সদস্য), ডা. মো. আকম আনোয়ার হোসেন মুকুল (সদস্য) এবং ডা. মো. সাইফুল ইসলাম সেলিম (এক্স অফিসিও)।

ক্ষুব্ধ ড্যাব নেতাকর্মীদের একজন নাম প্রকাশ না করার শর্তে দৈনিক জাগরণকে বলেন, যেভাবে ড্যাবের মতো পেশাজীবী সংগঠনকে গঠন করা হয়েছে, সেটা খুব দুর্বল ও ভঙ্গুর। নতুন সভাপতি ও মহাসচিবসহ নির্বাচিত ৫ কেন্দ্রীয় নেতা যে কতটা অদূরদর্শী তা বোঝা হয়ে গেছে তাদের কার্যক্রমের মাধ্যমে। যদি এই সমস্যা দ্রুত সমাধান না হয় তাহলে অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটারও আশঙ্কা দেখা দেবে।

ড্যাবের মহাসচিব ডা. মো. আবদুস সালাম ফোনে দৈনিক জাগরণের প্রশ্নে বলেন, কাজ যদি না করে তাহলে সিনিয়র হলেই কী? আর কিছু এদিক-সেদিক হয়েছে, সেটা জনাব তারেক রহমানের সঙ্গে আলাপ-আলোচনা করে অবশ্যই আমরা ঠিক করব।

তিনি আরও বলেন, ড্যাব অনেক বড় সংগঠন। কেউ কেউ বাদ পড়তেই পারেন। সবাইকে তো আর সংগঠনের পদ দেয়া সম্ভব হয় না, এটাই স্বাভাবিক। তাদের কেউ ক্ষুব্ধ হতে পারেন। তবে আমরা সবাইকে নিয়েই বসব।

ড্যাবের সভাপতি ডা. হারুনুর রশিদকে মোবাইল ফোনে কল করে জানতে চাওয়া হলে তিনি ধর্মীয় কাজে ব্যস্ত বলে ফোনের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন।

আরএম/ টিএফ/ এফসি

আরও পড়ুন