• ঢাকা
  • সোমবার, ০৬ এপ্রিল, ২০২০, ২৩ চৈত্র ১৪২৬
প্রকাশিত: ডিসেম্বর ২৩, ২০১৯, ০৮:৫০ পিএম
সর্বশেষ আপডেট : ডিসেম্বর ২৩, ২০১৯, ০৮:৫০ পিএম

এনআরসি বিরোধী আন্দোলনে বড় ধাক্কা মমতার

দীপঙ্কর দাশগুপ্ত, কলকাতা 
এনআরসি বিরোধী আন্দোলনে বড় ধাক্কা মমতার

নাগরিকত্ব আইনের বিরোধিতা করতে গিয়ে প্রথমেই বড় ধাক্কা খেলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। নাগরিকত্ব আইন বা নাগরিক পঞ্জি পশ্চিমবঙ্গে কার্যকর হবে না বলে মমতার সরকার যে বিজ্ঞাপন দিয়ে চলেছে তার ওপর অন্তর্বর্তীকালীন নিষেধাজ্ঞা জারি করল কলকাতা হাইকোর্ট। 

সোমবার (২৩ ডিসেম্বর) হাইকোর্ট জানায় নাগরিকত্ব আইন  ও এনআরসি নিয়ে যে বিজ্ঞাপন পশ্চিমবঙ্গ সরকার দিচ্ছে, আইনত তা দেওয়া যায় না। 

হাইকোর্টের আগে অবশ্য পশ্চিমবঙ্গের সমস্ত বিরোধী দল (বিজেপি ছাড়া) এই পদক্ষেপের বিরোধিতা করে বলেছিল, একটা সরকার জনগণের করের টাকা খরচ করে কী করে তার দলের বক্তব্যের বিজ্ঞাপন দিতে পারে! কিন্তু মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বা তার দলের শীর্ষ নেতারা বিরোধীদের এই প্রতিবাদে বিশেষ পাত্তা দেয়নি। এদিন ওই বিজ্ঞাপনের ওপর অন্তর্বর্তীকালীন নিষেধাজ্ঞা জারি করে কলকাতা হাইকোর্ট জানিয়েছে, পরবর্তী নির্দেশ না-দেওয়া পর্যন্ত এই বিজ্ঞাপন প্রচার করতে পারবে না মমতা সরকার। এই বিষয়ে শুনানি চলবে। তারপরে রায় ঘোষণা হবে। কিন্তু ততদিন পর্যন্ত রাজ্য সরকার এই বিজ্ঞাপন প্রচার করতে পারবে না।
গত কয়েকদিন ধরে পশ্চিমবঙ্গ সরকারের তরফে একটি বিজ্ঞাপন দেয়া হচ্ছে টেলিভিশনে। যাতে দেখা যাচ্ছে রাজ্য পুলিশের ডিজি বীরেন্দ্র, কলকাতার পুলিশ কমিশনার অনুজ শর্মা সহ রজ্যের শীর্ষ পুলিশ অফিসাররা রয়েছেন। মুখ্যমন্ত্রী বার্তা দিচ্ছেন, বাংলায় এনআরসি এবং ক্যাব (সিএবি) হবে না। গত শনিবারই পশ্চিবঙ্গের বিজেপি সভাপতি দিলীপ ঘোষ বলেছিলেন, এই বিজ্ঞাপনের বিরুদ্ধে আদালতে যাবে বিজেপি। তারপরেই কলকাতা হাইকোর্টে মামলা দায়ের করা হয়। স্মরজিৎ রায় চৌধুরী নামে এক আইনজীবী এই মামলা দায়ের করেছেন। সেই আইনজীবীর বক্তব্য, এই বিজ্ঞাপন সংসদীয় রাজনীতিতে কোনও সরকার দিতে পারে না। এটা অন্যায়। বিজেপি’র বক্তব্য—সংশোধিত নাগরিকত্ব বিল সংসদের উভয় কক্ষে পাশ হওয়ার পর রাষ্ট্রপতি সই করে দিয়েছেন। সেটি এখন আইন হয়ে গিয়েছে। রাজ্য সরকার কখনও বিজ্ঞাপন দিয়ে আইনের বিরোধিতা করতে পারে না। দিলীপ ঘোষ বলেছেন, মমতা বন্দ্যোধ্যায় সরাসরি সংবিধানকে লঙ্ঘন করছেন, যা দেশদ্রোহিতার সমান।

উল্লেখ্য এই বিজ্ঞাপন নিয়ে সরকারের বিরুদ্ধে তোপ দেগেছিলেন রাজ্যপাল জগদীপ ধনখড়ও। তিনি বলেছিলেন, একজন নির্বাচিত সরকারের প্রধান হিসাবে সরকারের টাকায় এই ধরনের বিজ্ঞাপন করা যায় না। আমি তাকে বলেছি, এই বিজ্ঞাপন প্রত্যাহার করতে। সে সময় রাজ্যের সাংবিধানিক প্রধান স্পষ্টতই বলেছিলেন, রাজনৈতিক দল এই ধরনের কথা বলতে পারে। কিন্তু সরকারে থেকে এই কাজ করা যায় না। এটা একটা অসুস্থ ধারনা।

সোমবার হাইকোর্টের এই ঘোষণার পর তৃণমূলের শীর্ষ নেতারা ঘরোয়া আলোচনায় বলেছেন, যে উদ্দেশ্যে এই বিজ্ঞাপন প্রচার করা হচ্ছিল, তা সফল হয়ে গিয়েছে। ইতিমধ্যেই পশ্চিমবঙ্গের মানুষ বুঝতে পেরেছেন এই দুই আইন তাঁদের অধিকারের বিরুদ্ধে। এর বিরুদ্ধে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পাশে দাঁড়িয়েছেন তাঁরা। তাই এখন বিজ্ঞাপন স্থগিত করে দিলে কোনও সমস্যা হবে না।
বিএস