• ঢাকা
  • রবিবার, ২৯ মার্চ, ২০২০, ১৫ চৈত্র ১৪২৬
প্রকাশিত: ফেব্রুয়ারি ২৬, ২০২০, ০৭:৩৯ পিএম
সর্বশেষ আপডেট : ফেব্রুয়ারি ২৬, ২০২০, ০৭:৪০ পিএম

দিল্লি সংঘাত

মুসলমানদের আশ্রয়ে গুরুদুয়ার উন্মুক্ত করে দিল শিখ সম্প্রদায়

এস এম সাব্বির খান
মুসলমানদের আশ্রয়ে গুরুদুয়ার উন্মুক্ত করে দিল শিখ সম্প্রদায়

দিল্লিতে সহিংসতা আর মুসলিম সম্প্রদায়ের ওপর চালানো হিন্দুবাদী উগ্রপন্থীদের আগ্রাসন যখন সাম্প্রদায়িক বৈষম্য ও সংখ্যালঘু নির্যাতনের নির্মম চিত্র তুলে ধরেছে, ঠিক তখনই নির্যাতিত মুসলিম সংখ্যালঘুদের রক্ষায় মানবতাবাদী বর্মরুপে আবির্ভূত হলো দেশটির শিখ সম্প্রদায়।

বুধবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) উগ্রপন্থীদের আগ্রাসন রুখতে এবং বিপদাপণ্ন মুসলিম পরিবারগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এক অনন্য ভূমিকায় অবতীর্ণ হয় দিল্লির শিখ সম্প্রদায়ের মানুষ।

জানা গেছে, আক্রান্ত মুসলমানদের আশ্রয় গ্রহণের জন্য নিজেদের পবিত্র ধর্মীয় উপাসনালয়- প্রতিটি গুরুদুুয়ারার দরজা খুলে দেয়ার ঘোষণা দিয়েছে উত্তর দিল্লির শিখ কমিউনিটি। বিষয়টি অবগত করতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ব্যাপক প্রচারণাও শুরু হয়।

পাশাপাশি ব্যারিকেড সৃষ্টি করে দিল্লির মুসলিম অধ্যুষিত এলাকাগুলোর প্রবেশমুখও আটকে দেন শিখরা।

এ সংক্রান্ত তথ্য পাওয়ার পর পরই ফেসবুক ও টুইটার অনুসন্ধানে পাওয়া যায় ঘটনার সত্যতা।

স্কুপ হুপ নামক একটি ওয়েবসাইটে এ তথ্য প্রচার করা হয়।

তথ্যমতে, দিল্লির উত্তরাঞ্চল ও মজনুকা টিলা নামক এলাকায় অবস্থিত গুরদুয়ারগুলো আক্রান্ত মুসলমানদের আশ্রয় দেয়ার জন্য উন্মুক্ত রাখা হয়েছে।

দীর্ঘ প্রায় দেড় মাস যাবৎ সংশোধিত নাগরিকত্ব নীতিমালা সম্বলিত সিএএ ও এনআরসি বিধান বাস্তবায়নের বিরুদ্ধে ব্যাপক বিক্ষোভ চালিয়ে আসছিল দিল্লির মুসলিমরা। যার এক পর্যায়ে রোববার (২৩ ফেব্রুয়ারি) বিক্ষোভকারীদের ওপর বেপরোয়া হামলা চালানো শুরু করে সশস্ত্র উগ্রপন্থী হিন্দুবাদীরা।

এ হামলায় পুলিশ কর্মকর্তাসহ এখন পর্যন্ত ২০ জন নিহত এবং প্রায় তিন শতাধিক মানুষ আহত হন।

দিল্লির বিভিন্ন এলাকায় মসজিদে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনাও ঘটে। মুসলমানদের বাড়ি-ঘর ও বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানেও ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ চালানো হয়।

এই সঙ্কটাপণ্ন পরিস্থিতির মাঝে বিপদগ্রস্ত মুসলমান নাগরিকদের দিকে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেন দিল্লির শিখ সম্প্রদায়। 

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুক, টুইটারসহ সম্ভাব্য সকল পন্থায় জানান হয়, বিপদগ্রস্ত মুসলমানরা যেন নিকটবর্তী গুরদুয়ারগুলোতে আশ্রয় নেন।

এসকে/এসএমএম